আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁর রান তোলার গড় ৩৭.৬০। আন্তর্জাতিকের বাইরের টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় সেটা আরও ভালো— ৩৯.৫১। মহেন্দ্র সিং ধোনির ক্ষেত্রে গড়ের চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে তাঁর ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য। মিডল অর্ডার বা লোয়ার মিডল অর্ডারে নেমে কত ম্যাচ যে দলকে জিতিয়েছেন ধোনি! ভারতের সাবেক অধিনায়ক তকমাই পেয়ে গিয়েছিলেন ‘দ্য ফিনিশার’। সেই ধোনিই কি না এবারের আইপিএলে ধুঁকছেন। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে ৮ ইনিংসে ২৭.২০ গড়ে তাঁর রান মাত্র ১৩৬!

default-image

ধোনির এমন পারফরম্যান্স নিয়ে চারদিকে সমালোচনার ঝড় বইছে। একজন বিশ্বজয়ীর কেন এমন অবস্থা—প্রশ্নটি ঘুরছে চারদিকে। ধোনির সমস্যাগুলো ধরতে পেরেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মিয়াঁদাদ। ফিটনেসের অভাব—এটাকেই ধোনির প্রধান সমস্যা মনে করছেন সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন, ‘ক্রিকেট আসলে ফিটনেসের ওপর নির্ভর করে। আর যে কারও শারীরিক সামর্থ্য তার বয়সের সঙ্গে তাল রেখে বদলায়। বয়স যত বাড়বে, শারীরিক সামর্থ্য কমবে। নিজের পারফরম্যান্সটা শীর্ষ পর্যায়ে রাখতে হলে তখন ফিটনেস ধরে রাখতে কঠিন পরিশ্রম করতে হবে।’

প্রয়োজনীয় ফিটনেস নেই বলেই ধোনির সমস্যা হচ্ছে বলে মনে করেন মিয়াঁদাদ। আর সেই সমস্যাগুলো কী রকম সেটাও উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটের বড়ে মিয়া, ‘এবারের আইপিএলে আমি ধোনির ব্যাটিং দেখেছি। তার সমস্যার জায়গাগুলো টাইমিং আর রিফ্লেক্সে। একজন খেলোয়াড় যদি পুরোপুরি ম্যাচ ফিট না থাকে, টাইমিং ও রিফ্লেক্স তো ধীর হয়েই যাবে।’ তাহলে এ থেকে ধোনির উত্তরণের পথ কী? ধোনিকে পথটাও দেখিয়ে দিয়েছেন মিয়াঁদাদ, ‘নিজেকে বিশ্লেষণ করতে হবে ধোনিকে। আসলে যতদিন আপনি ক্রিকেট খেলবেন, তত দিনই আপনাকে আত্ম-বিশ্লেষণ করতে হবে।’

default-image
বিজ্ঞাপন

ধোনি ভারতের হয়ে সর্বশেষ খেলেছেন গত বিশ্বকাপে। এরপর সব ধরনের ক্রিকেট থেকেই লম্বা বিরতিতে চলে গিয়েছিলেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে তিনি ফিরেছেন এবারের আইপিএল দিয়েই। নিজেকে ফিরে পেতে এটাও ধোনির জন্য একটা সমস্যা ছিল বলে মনে করেন মিয়াঁদাদ, ‘লম্বা বিরতির পর এবারের আইপিএল খেলতে এসেছে ধোনি। আইপিএল আসার আগে সে কোনো ম্যাচ খেলেনি সে। সমস্যাটা আসলে এখানেই। ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়াটা এত সহজ নয়।’

ধোনির বয়স ৪০ ছুঁইছুঁই। এই বয়সেও ক্রিকেট খেলে যাওয়াটা যে কঠিন, মিয়াঁদাদ সে বিষয়টিও টেনে এনেছেন, ‘ধোনির বয়সী একজন খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়াটা আরও কঠিন। নিজেকে ম্যাচ খেলার জন্য যথেষ্ট ফিট করে তুলতে হবে ধোনিকে। আমি এটা বলছি না যে ধোনির ফিটনেস নেই। শারীরিক দিক থেকে সে এখনো অনেক ফিট। এ পর্যায়ে খেলতে আসা খেলোয়াড়দের মধ্যে এমন কেউ থাকার কথা নয় যার ফিটনেস নেই। কিন্তু আমি বলছি ম্যাচে খেলার জন্য যে ফিটনেস থাকার কথা সেটা নিয়ে।’

default-image

ম্যাচ ফিটনেস না থাকার কারণে ধোনির কী কী সমস্যা হচ্ছে সেটাও উল্লেখ করেছেন মিয়াঁদাদ, ‘আমি দেখেছি কিছু কিছু শটের ক্ষেত্রে তার শারীরিক অবস্থান ঠিক থাকছে না। এ কারণেই টাইমিংয়ে গড়বড় হয়ে যাচ্ছে। তার ব্যাটিংয়ে টেকনিক্যাল কোনো সমস্যা নেই। আমি আবারও এটাই বলব, ধোনির শুধু ম্যাচ ফিটনেসটা আরেকটু বাড়াতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

বয়স বেশি হলে আর ম্যাচ ফিটনেস না থাকলে একজন ক্রিকেটারের জন্য ক্রিকেট কত বিভীষিকাময় হতে পারে তা বোঝাতে ১৯৯৬ সালে নিজের অসহায়ত্বের বিষয়টি টেনেছেন মিয়াঁদাদ। লম্বা বিরতির পর সেবারের বিশ্বকাপটা খেলতে এসেছিলেন তিনি। ৩ ইনিংসে মাত্র ৫৪ রান করেছিলেন পাকিস্তানের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। সেই বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে মিয়াঁদাদ বলেছেন, ‘১৯৯৬ বিশ্বকাপে যখন গেলাম, আমি জানতাম তরুণ বয়সের মতো খেলতে পারব না আমি। তাই আমার ব্যাটিংটা বয়সের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়েছিল। বাউন্ডারি বা ছয় মারার বিষয়টি টাইমিংয়ের ওপর নির্ভর করে। এর সঙ্গে ফাঁকা জায়গাও খুঁজে নিতে হয়। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে আমি রান পাওয়ার জন্য বল ফাঁকা জায়গায় পাঠানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছিলাম।’

১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপের সময় মিয়াঁদাদের বয়স ছিল ৩৯ বছর। বয়সের দিকে তাকিয়ে সেই বিশ্বকাপের পর আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে মাঠে নামেননি পাকিস্তানের সাবেক ব্যাটসম্যান। তাঁর কথা, ‘লম্বা ক্যারিয়ারে একটা আলস্য চলে এসেছিল। প্রতিদিন রুটিন করে ভোর ভেলা ঘুম থেকে জাগা, এরপর ব্যায়াম করা—এসব একঘেয়ে লাগছিল।’ কে জানে এবারের আইপিএল শেষে ধোনির জীবনেও এই আলস্য আর একঘেয়েমির বিষয়টি ধরা পড়বে কি না!

মন্তব্য পড়ুন 0