স্ত্রীকে সঙ্গ দিতে টেস্ট সিরিজের মাঝপথেই ফিরবেন কোহলি।
স্ত্রীকে সঙ্গ দিতে টেস্ট সিরিজের মাঝপথেই ফিরবেন কোহলি। ফাইল ছবি: এএফপি

অস্ট্রেলিয়ায় বরাবরই দুর্দান্ত বিরাট কোহলি। ২০১৫ ও ২০১৮ সালে ভারত সম্পূর্ণ দুই ধরনের সময় কাটিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। কিন্তু কোহলি দুবারই ছিলেন দুর্দান্ত। দুবারই অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে বড় রান করেছেন বিরাট কোহলি। শেষবার তো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অধিনায়ক হিসেবে সিরিজ জিতে গড়েছেন ইতিহাস। এবার পুরো অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট অপেক্ষায় ছিল কোহলি বনাম অস্ট্রেলিয়া লড়াই দেখার জন্য। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও ভারত। কোহলি খেলবেন শুধু একটি। প্রথম টেস্টের পর দেশে ফিরবেন সন্তানসম্ভবা স্ত্রী আনুশকা শর্মার পাশে থাকতে।

কোহলির না–থাকা সাবেক কিংবদন্তি স্টিভ ওয়াহকে কিছুটা হতাশ করেছে। প্রতিপক্ষ দলের সেরা ব্যাটসম্যান না থাকায় অস্ট্রেলিয়ার জন্য সিরিজ যেন সহজ করে দিল। এএফপিকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৬৮ টেস্ট খেলা ওয়াহ বলেছেন, ‘কোহলি না থাকলে আমি কিছুটা হতাশ হব। এই সিরিজ হতে পারত তাঁর ক্যারিয়ারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ। বিশেষ করে এখন পর্যন্ত সে তাঁর ক্যারিয়ারে যা অর্জন করে সেদিক থেকে। কিন্তু অবশ্যই পরিবার সবার আগে।’ ভারতীয় সমর্থকদের এক অংশ অবশ্য পরিবার আগে, এ তত্ত্বে বিশ্বাসী নন। তাঁরা মহেন্দ্র সিং ধোনিকে টেনে এনে সমালোচনা করছেন বর্তমান অধিনায়কের।

বিজ্ঞাপন
default-image

কোহলি না থাকলেও দুই দলে খুব বেশি পার্থক্য খুঁজে বের করতে পারলেন না বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ওয়াহ, ‘ওরা ভয়ংকর দল, কোহলি না থাকলেও ওরা ভয়ংকর। আমার মনে হচ্ছে, সিরিজে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।’ ওয়াহ মনে করেন, যশপ্রীত বুমরাহ, কেএল রাহুল ও অজিঙ্কা রাহানে হতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার হুমকি, ‘আমার মনে হয় না দুই দলে খুব বেশি পার্থক্য আছে।’

গতকালই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছে ভারত দল। সিডনিতে দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে থেকে ২৭ নভেম্বর ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে। তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টির পর অ্যাডিলেডে দিবারাত্রির টেস্ট খেলে দেশে ফিরবেন কোহলি।

২০১৮ সালে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে দুই তারকা ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভ স্মিথকে ছাড়া খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। সিরিজটি জিতে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি জিতে নেয় ভারত। এবার হচ্ছে উল্টোটা। কোহলিকে ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে হবে ভারতকে। ওয়াহ বলছিলেন, ‘অনেকটা দুই বছর আগের মতো হলো। অস্ট্রেলিয়া তখন ডেভিড ও স্টিভকে পায়নি। আপনি সব সময়ই চাইবেন পূর্ণ শক্তির দলের সঙ্গে খেলতে। বিশেষ করে সিরিজটি যখন এত বড় হবে।’

default-image

ওদিকে কোহলির দেশকে প্রাধান্য না দিয়ে পরিবারকে বেছে নেওয়াকে ভালো চোখে দেখছেন না অনেক ভারতীয় সমর্থক। মহেন্দ্র সিং ধোনির উদাহরণ টেনে কোহলির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হচ্ছে। ২০১৫ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের সময় প্রথম সন্তানের বাবা হন ধোনি। তখন ছুটি নিয়ে পরিবারের কাছে না গিয়ে ধোনি থেকেছেন দলের সঙ্গে। বিশ্বকাপের সময় ধোনিকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এখন জাতীয় দায়িত্বে। বাকি সব অপেক্ষা করতে পারবে। এই বিশ্বকাপ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জন্ম হয়েছিল জিভার। আর ভারতের বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল ১৫ ফেব্রুয়ারি। তবু প্রস্তুতিতে ঘাটতি থেকে যাবে বলে দেশে যাননি ধোনি। পরবর্তী সময়ে নিজের সন্তানের জন্মের মুহূর্তটা সামনে দেখতে পারেননি বলে নিজের কষ্টের কথা জানিয়েছিলেন ধোনি। তবে এটাও বলেছিলেন, জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আক্ষেপ নেই তাঁর। টুইটারে ধোনির এই কথাগুলোই ছড়িয়ে ভারতীয় সমর্থকেরা কোহলির সমালোচনা করছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0