বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এমন জয়ের বাসনা থাকেই, কিন্তু সব সময় ধরা দেয় না। যখন দেয়, সেটার স্বাদই আলাদা। তবে এই দলের যে দিকটা আমার ভালো লেগেছে, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে একটা দল হয়ে বোলার ও ব্যাটসম্যানদের পারফর্ম করা। অবশ্যই ইবাদত সেরাদের সেরা। যে ধসটা নামাল চতুর্থ দিনের শেষ ও পঞ্চম দিনের শুরুতে। এমন ধারাবাহিকতা ধরে রাখাটা অবিশ্বাস্য। এমন স্পেল অনেক দিন দেখিনি। টেস্ট শুরুর আগে আবু জায়েদের সুইং ও ইবাদতের গতির মধ্যে হয়তো একটাকে বেছে নিতে হয়েছে। ইবাদত আস্থার প্রতিদান দিল দারুণভাবে। বিশেষ করে ক্রিজের দারুণ ব্যবহার করে হেনরি নিকোলসকে যেভাবে বোল্ড করল, সেটা চোখে লেগে আছে।

অনেক দিন পর এমন পেস ইউনিট দেখে দারুণ তৃপ্তি পেয়েছি, প্রতিপক্ষকে যারা চাপে রাখতে পারে। বোলিং কোচকেও সাধুবাদ। বাংলাদেশে পেস বোলিং-সহায়ক উইকেট তৈরি করলে যে তারাও পারবে, সেটা ওরা দেখিয়েছে। যারা কৌশল নির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত, তাদের এ নিয়ে ভাবা উচিত। পেসারদের আক্রমণের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে দেশে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উইকেট তৈরি করা দরকার। আমরা যেন শুধু স্পিনারদের আর প্রাধান্য না দিই।

ম্যাচে আমরা ভুল শুধরে নিয়েছি দ্রুত। গুরুত্বপূর্ণ টস জেতার পরও প্রথম দুই ঘণ্টায় বেশ বাইরে বোলিং করেছিলাম। দ্বিতীয় দিন এবং দ্বিতীয় ইনিংসে সে ভুল করিনি, ঠিকই আক্রমণ করেছি। নিউজিল্যান্ডের উইকেটে হয়তো মুভমেন্ট ছিল, তবে বাড়তি বাউন্স ছিল না। সে সামান্য সুবিধাটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে আমাদের ব্যাটসম্যানরা। তারা টেম্পারমেন্ট আর বল ছাড়ার সামর্থ্য দেখিয়েছে। উইকেট বিলিয়ে আসেনি কেউ। আলগা শটে আউট হলেও সেটা ইনিংস গড়ার পর হয়েছে। নিউজিল্যান্ডকে বড় ইনিংস খেলতে না দেওয়ার কৃতিত্বও বোলারদের দিতে হয়। চারজন বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে এমন পারফরম্যান্স অলৌকিক। ফিল্ডিংয়ে ক্যাচ ফেলেছি, তবে অসাধারণ কিছু ক্যাচও নিয়েছি।

ক্রিকেটে ভাগ্যের ছোঁয়া লাগে। মুমিনুল, লিটনদের ঠিক সময়ে ফর্মে ফেরা, মাহমুদুল, নাজমুলের রানের দেখা পাওয়া, সবার সম্মিলিত অবদানে প্রথম ইনিংসে বড় লিডটাই স্বাগতিকদের মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে। হয়তো নিউজিল্যান্ড উইকেটে ঘাস রাখতে পারত আরেকটু। তবে যে ছোট সুযোগ তারা দিয়েছে, আমরা সেটা নিয়েছি। এ দলটা এত ভালোভাবে সেসব কাজে লাগাবে, এটা অবিশ্বাস্য। সবাই লড়াই করেছে।

এটা স্বীকার করতেই হবে, দলটা নিজেদের গড় পারফরম্যান্স থেকে অনেক উন্নতি করেছে। ৯ নম্বর দল হলেও ৩-৪ নম্বর দলের মতো খেলেছে বাংলাদেশ। তবে বারবার এমন হবে না। নিউজিল্যান্ডও ঘুরে দাঁড়াবে। কাজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়তি চাপ না দেওয়াই ভালো। ধারাবাহিকতা আসতে হয়তো আরও সময় লাগবে, তবে চেষ্টা করলে, ঠিকঠাক প্রস্তুতি নিলে যে হয়, সেটা এবার দেখা গেল। ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পনা ভিন্ন থাকবে। আমাদের দল ভালো খেলুক, মন্দ খেলুক, তাদের সমর্থন করতে হবে। সামর্থ্য যে আছে, সেটা ওরা দেখিয়েছে। এখন তাদের ওপর বিশ্বাস রাখা উচিত।

এ দলে তরুণেরা আছে, যাদের অনেক দিন খেলার সামর্থ্য আছে। চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনতে হবে। নতুন বোর্ডের জন্য আমার মনে হয় এ জয়টা টনিক হিসেবে কাজ করবে। আশা করি সামনের কয়েক বছর আরও সক্রিয় হয়ে, মাথা খাটিয়ে, সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করতে পারবে তারা।

লেখক: জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন