বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

অবশ্য শুরুটা নতুন তখনই হবে, যখন পুরোনো ভুলগুলো আর হবে না। আসবে নতুন পরিকল্পনা এবং মাঠে সেগুলো কাজেও লাগবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন চোখে পড়ল সে রকম কিছু ভাবনার জায়গা—

ক্যাচ ছেড়েই ম্যাচ ছাড়া

শারজায় লিটন দাসের দুই ক্যাচ মিসের পর থেকে এটাই আলোচনা বাংলাদেশের ক্রিকেটে। এমনকি দলের মধ্যেও এই আফসোসটা ভালোভাবেই আছে যে ক্যাচ দুটো পড়েছে বলেই হারতে হয়েছে ম্যাচটা। এমন নয় যে বাংলাদেশের ক্রিকেটারেরা ফিল্ডিং, ক্যাচিং অনুশীলন কম করেন। কালও অনুশীলনে জোর ছিল ক্যাচিংয়েই। তবু নিয়তিতে ক্যাচ মিস থাকলে ঠেকায় কে! অবশ্য এ ব্যাপারে বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের দর্শন একটু অন্য রকমই, ‘সব ম্যাচেই তো এক-দুইটা ক্যাচ পড়ে। আমি মনে করি না এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু আছে। আসলে ক্যাচ যখন পড়ে, তখনই এটা নিয়ে বেশি আলোচনা হয়।’

সে আলোচনায় শুধুই লিটন

লিটন দাসকে নিয়ে এখন দুটো আলোচনা। ব্যাটিং নিয়ে প্রথম আলোচনাটা আগে থেকেই ছিল। মোহাম্মদ নাঈমের সঙ্গে ইনিংস শুরু করতে নেমে প্রতি ম্যাচেই আউট হয়ে যাচ্ছেন তাড়াতাড়ি। ব্যাট হাতে অবদান বলতে তেমন কিছুই নেই। এই অবস্থায় সৌম্য সরকারকে ডাগআউটে বসিয়ে রেখে লিটনকে একের পর এক সুযোগ দিয়ে যাওয়াটা বিস্ময় বটে।

default-image

তার মধ্যেই গত ম্যাচে ছেড়েছেন ওই দুটি ক্যাচ। কিন্তু লিটনেরই-বা দোষ কী! ওপেনার হিসেবে তাঁর মূল কাজ ব্যাটিং এবং সেটাই যখন ঠিকঠাকভাবে হচ্ছে না, আত্মবিশ্বাস তো কিছুটা টালমাটাল হবেই। এ রকম ক্ষেত্রে ম্যাচের অন্য জায়গাগুলোতেই ভুলত্রুটি হয়ে যায়। আকাশে বল দেখা যায় না, সহজ ক্যাচও থেকে যায় অধরা। কে জানে লিটন বোলার হলে সেদিন হয়তো বল হাতেও দিনটা তার ভালো যেত না।

ক্রিকেটে একটা অংশের সাফল্য-ব্যর্থতার সঙ্গে আরেকটা অংশের সাফল্য-ব্যর্থতার এই মানসিক সংযোগটা নিশ্চয়ই কোচ রাসেল ডমিঙ্গোও অস্বীকার করবেন না। তবে কাল তাঁর প্রতিনিধি হয়ে গিবসন বলে গেলেন, ‘যে কেউ ক্যাচ ছাড়তে পারে। এই ক্যাচগুলো নিয়ে বেশি কথা হচ্ছে, কারণ, হয়তো এগুলোর প্রভাব খেলার ফলাফলে পড়েছে। কিন্তু ওখানে লিটন ছাড়া অন্য ফিল্ডার থাকলে সে-ও কিন্তু ক্যাচ ফেলতে পারত। খেলোয়াড়টি লিটন বা যে-ই হোক, আমরা তাকে সমর্থনই করব।’

default-image

বাড়তি পেসার খেলানো নিয়ে

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা কাল করা হয়েছিল ওটিস গিবসনকে—ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও কি আগের ম্যাচের মতো তিন বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ? নাকি মোস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের সঙ্গে নেওয়া হবে একজন বাড়তি পেসার? মোস্তাফিজের কাটার এবং ডেথ ওভারে সাইফউদ্দিনের বোলিং বাংলাদেশ দলের বড় অস্ত্র। সঙ্গে তাসকিনের গতি আর শরীফুলের বৈচিত্র্য বাংলাদেশ দলের বর্তমান পেস আক্রমণকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। গিবসন অবশ্য বলেননি আজ পেস বোলিং সাজানোর ক্ষেত্রে কোন নীতিতে হাঁটবে বাংলাদেশ। সেটা তিনি ছেড়ে দিয়েছেন অধিনায়ক, প্রধান কোচ আর প্রধান নির্বাচকের ওপরই।

...এবং ম্যাচ জয়ের অভ্যাস

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বড় আশা নিয়ে আসার এটাই ছিল কারণ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজ জয় নাকি খেলোয়াড়দের মধ্যে জয়ের অভ্যাস গড়ে দিয়েছে। কিন্তু দলের খেলায় এখন পর্যন্ত সেই অভ্যাসের তেমন কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। ওটিস গিবসন বরং ফিরে গেছেন পুরোনো সেই ক্লিশে কথায়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, নিজেদের দিনে আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারি।’

সেই দিনটা আজ এলেই ভালো। তাহলে কিছুটা উজ্জীবিত হয়ে উঠবেন ক্রিকেটাররা। নইলে যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মন টেকানোই দায় হবে মাহমুদউল্লাহর দলের!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন