বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের উইকেট যে ব্যাটসম্যানদের জন্য আরও সহজ হচ্ছে, সেটি কাল প্রথম দিনের প্রথম সেশনের পর থেকেই ছিল পরিষ্কার। কিন্তু ৫ উইকেটে ২৫৮ রান নিয়ে দিন শুরু করা নিউজিল্যান্ড আজ শুরু থেকেই কেন যেন তাড়াহুড়ায় ছিল! সেটিরই ফল হয়তো, প্রথম সেশনের মধ্যেই ৭০ রানে বাকি ৫ উইকেট চলে গেছে কিউইদের। ৩ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে দ্রুত গুটিয়ে দিয়েছেন মিরাজ।
কিন্তু নিউজিল্যান্ডকে দ্রুত অলআউট করলে কী হবে, বাংলাদেশের অনভিজ্ঞ টপ অর্ডার বোল্ট-সাউদি-ওয়াগনারদের সামনে কতটা কী করতে পারেন, সে নিয়েই হয়তো বেশি উদ্বেগ ছিল বাংলাদেশ সমর্থকদের। বাংলাদেশের টপ-অর্ডার সে পরীক্ষায় লেটার মার্ক নিয়েই পাশ!


টানা রোদের নিচে থাকা উইকেট সহজ হয়ে এসেছে, তবু সাউদি-বোল্টরা কিছু সুইং তো পাচ্ছিলেন! পাশাপাশি ছিল ওয়াগনারের বাউন্সের খেল। বাংলাদেশের দুটি উইকেটই ওয়াগনারেরই।

default-image

গতি-সুইং-বাউন্সের সে খেলায় ভুগতে হয়নি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের, এমন নয়। অনেকবারই ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ উঠেছে, সেভাবে দু-একটি চারও এসেছে, বল বাতাসে ভেসেও পড়েছে ফাঁকা জায়গায়...তবে দারুণ ধৈর্য আর নিয়ন্ত্রণ দেখিয়ে ধীরগতিতে হলেও রান তুলে নিয়েছেন মাহমুদুল-নাজমুলরা।


৪৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ওয়াগনারের বলে তাঁরই হাতে সাদমান ক্যাচ দিয়ে ফিরলে। তবে এরপর দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুলের সঙ্গে মিলে আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মাহমুদুল গড়লেন শতরান পেরোনো জুটি। বাংলাদেশকে ম্যাচে দারুণ কিছুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে এই জুটিই। অবশ্য ওয়াগনারের বলে মাহমুদুলের বিরুদ্ধে এলবিডব্লুর আবেদনে আম্পায়ার আউট না দেওয়ার পর নিউজিল্যান্ড রিভিউ নিলে গল্পটা অন্যরকমই হতো। রিপ্লেতে দেখাচ্ছিল, রিভিউ নিলে মাহমুদুল আউট হতেন। তাঁর রান তখন ছিল ২০, বাংলাদেশের রান তখন ৪৪।

১ উইকেটে ৭০ রান নিয়ে চা বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতির পর নাজমুলদের ব্যাটে আগ্রাসন খানিকটা বাড়ে। দলের শতরান পার হওয়ার পর অবশ্য কিছুক্ষণ অবশ্য ব্যাটিংটা এলোমেলোই হয়েছে বাংলাদেশের, কিছু 'হাফ-চান্স' পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। তবে এরপর গুছিয়ে নেন নাজমুল-মাহমুদুল দুজনই।


দলের শতরান আসে, কিছুক্ষণ পর ছক্কা মেরে নাজমুল অর্ধশতক পার করেন, তার কিছুক্ষণ পর সিঙ্গেল নিয়ে ৫০-এ পৌঁছালেন মাহমুদুলও। তবে নাজমুল এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। বাউন্সারের পর বাউন্সার দিয়ে যাওয়া ওয়াগনারের হঠাত ফুল লেংথের আউটসুইংয়ে বিভ্রান্ত নাজমুলের দারুণ ইনিংস শেষ হয়ে গেল ৬৪ রানে। ১০৯ বলে সাজানো ইনিংসটিতে চার ৭টি, ছক্কা ১টি।

তবে নাজমুল ফিরলেও মুমিনুলকে নিয়ে দিনটা ভালোয় ভালোয় শেষ করে এসেছেন মাহমুদুল। তাঁর ব্যাটিং একেবারে চোখ ধাঁধায়নি, তবে দারুণ ধৈর্যের প্রমাণ রেখে গেল দিনজুড়ে। মুমিনুল ক্রিজে আসার পরই ওয়াগনারের বাউন্সার তাঁর পরীক্ষা নিয়েছে, দিনের শেষ বলে এলবিডব্লুর আবেদনও উঠেছে। কালকের জন্য সেসব সতর্কতাবাণীই হয়ে থাকুক।


তবু সেসব একপাশে রেখেই দিনটা বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে প্রতিপক্ষের মাটিতে সেরা দিনগুলোর একটিই হয়ে থাকছে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন