বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

২০১৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত আইসিসির সহযোগী সদস্য ছিল আফগানিস্তান। ২০১৭ সালের ২২ জুন আইসিসির এক সভায় সহযোগী সদস্য থেকে আফগানিস্তানকে পূর্ণ সদস্যে উন্নীত করা হয়, অর্থাৎ টেস্ট খেলার মর্যাদা লাভ করে দেশটি। কিন্তু আইসিসির পূর্ণাঙ্গ সদস্য হওয়ার একটি প্রধান শর্ত হলো, নারী ক্রিকেট দল থাকা।

তালেবানের অধীন আফগানিস্তানের নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ শঙ্কায় পড়ে যাওয়ায় সবাই এখন একটু দোটানায় পড়ে গেছে। এ মাসের শেষের দিকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু আফগানিস্তানের নারী ক্রিকেট দলের কার্যক্রম নিশ্চিত না হওয়ায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সে টেস্টটি বাতিল করে দিয়েছে।

default-image

আফগানিস্তানের এই টানাপোড়েন নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জানায়নি আইসিসি। তবে কিছুদিনের মধ্যেই আফগানিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে আইসিসির একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সভা হওয়ার কয়েক দিন আগেই আইসিসির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী জিওফ অ্যালার্ডাইস ভালো খবরই জানালেন।

তিনি বলেছেন, তালেবান সরকার নারীদের ক্রিকেট বন্ধ করবে না বলেই জানিয়েছে, ‘তারা (তালেবান সরকার) আমাদেরকে বলেছে যে নারী ক্রিকেট দলের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নারীদের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কোনো ইঙ্গিত আমরা পাইনি। তবে এ কথাটা কতটুকু সঠিক, এটা সময়ই বলে দেবে। আফগানিস্তানে ক্ষমতা পরিবর্তনের সময় থেকেই আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আমরা আশা করি, শিগগিরই তাদের কোনো মুখপাত্রের সঙ্গে বসে আমরা আলোচনা করতে পারব।’

আগামী মঙ্গলবার এক সভায় আফগানিস্তানসহ আইসিসির আগামী আট বছরের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার কথা আছে। আফগানিস্তানকে নারী ক্রিকেট দলের কার্যক্রম শুরু করার জন্য কোনো সময় বেঁধে দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাব বেশ সতর্কতার সঙ্গেই দিলেন অ্যালার্ডাইস, ‘আমার মনে হয় ওদেরকে এখনো এভাবে কিছু বলার মতো সময় হয়নি। আপাতত ওদের বর্তমান পরিস্থিতি কেমন, এ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখনই অনুমানের ওপর নির্ভর করে কোনো কিছু বলা ঠিক হবে না।’

default-image

আফগানিস্তানের নারী ক্রিকেট দলের কার্যক্রম যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পুরুষ ক্রিকেট দল নিষিদ্ধ করা হবে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজে নাক গলাবে না আইসিসি, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, ক্রিকেটে আফগানিস্তানের নারী এবং পুরুষ দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। আমরা মনে করি, আফগান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থেকে আমরা এই বিষয় নিয়ে কিছুটা প্রভাব খাটাতে পারব। ক্রিকেটে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হওয়ার আগপর্যন্ত আইসিসির অন্য সদস্যরা আফগানিস্তানের ক্রিকেটকে কীভাবে গ্রহণ করবে, এটা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব ব্যাপার। ওদের (আফগানিস্তান) সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে আমরা এখন শুধু বোর্ডের সঙ্গেই আলোচনা করতে পারি। কারণ, কোনো দেশে ক্রিকেটের সম্প্রসারণের দায়িত্ব সে দেশের বোর্ডের। আফগানিস্তান আমাদের একটি সদস্য এবং তারা কিছু পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ওদের ক্রিকেট ও ক্রিকেট বোর্ড যেন ওদের সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে পারে, এ জন্য আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন