default-image

শেষ হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ১১তম আসরের অপেক্ষা, ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন টার্ফ’ এখন দুয়ারে। ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় পুরস্কার—বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফির জন্য শুরু হবে সেরা দেশগুলোর ধুন্ধুমার লড়াই। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে নিউজিল্যান্ডও থাকছে সহ-আয়োজক হিসেবে। সবাই কীভাবে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, সেটা দেখার জন্য আমার তর সইছে না। অস্ট্রেলিয়ার উইকেট খুবই ব্যাটিং-বান্ধব হবে, বোলারদের সাফল্য পেতে ওখানে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। তবে অস্ট্রেলিয়ান পেসাররা নিজেদের মাটিতে সব দলের ভালো পরীক্ষাই নেবে। নিউজিল্যান্ডের পিচগুলোতে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের জন্য সমান সুযোগ থাকবে, কিছু শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচও হওয়ার কথা। অকল্যান্ড ও ওয়েলিংটনের ড্রপ-ইন পিচ নিশ্চিত করছে প্রস্তুতিটা ভালোমতোই সারা আছে। 
অস্ট্রেলিয়া চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ওয়ানডের এক নম্বর দলও। নিজেদের মাঠে তাদের হারানো কঠিনই হবে। একটা বাদে (নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচটা হবে অকল্যান্ডে), সবগুলো ম্যাচই তারা নিজেদের মাঠে খেলবে। ফাইনালেও তাদের থাকারই কথা। পুরো গ্রীষ্মেই বেশ দাপটের সঙ্গে খেলেছে, বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই ভালো ফর্মে আছে। দলের গভীরতা অনেক, আছে বেশ কিছু বিকল্পও। অস্ট্রেলিয়াই হট ফেবারিট।
ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বর দল ভারত বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নও। এই টুর্নামেন্টটা তাদের জন্য বড় একটা যুদ্ধই। অস্ট্রেলিয়ায় গত দুই মাসে তাদের ফর্ম দল ও সমর্থকদের জন্য একটা দুশ্চিন্তার কারণও বটে। এখন পর্যন্ত তারা একটা ম্যাচও জেতেনি। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখা ও আউট করতে পারাটাই তাদের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ। অস্ট্রেলিয়ায় তাদের চারটি ম্যাচ খেলতে হবে আর নিউজিল্যান্ডে দুটি (আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ওই দুটি ম্যাচ অবশ্য সহজই হওয়ার কথা)।
দক্ষিণ আফ্রিকার দলটা সব কন্ডিশন ও পরিস্থিতির জন্য আদর্শ, প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্ট জয়ের সব রকম রসদই আছে তাদের। প্রস্তুতিটা ভালোই হয়েছে তাদের, ফর্মেও আছে। অনেকেরই ধারণা, তারাই এবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারে। বেশ কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে তাদের, র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে বেশ কয়েকজন বোলার ও ব্যাটসম্যান আছে। তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সেমিফাইনাল পেরিয়ে প্রথমবার ফাইনালে যাওয়া। এই মানসিক বাধাটাই তাদের সামলাতে হবে। তিনটি ফাইনালে খেলেও কখনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। ওরাও ফর্ম ফিরে পাওয়ার আভাস দিচ্ছে, তাদের ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করার কথা।
শ্রীলঙ্কা কিছুদিন ধরেই নিউজিল্যান্ডে আছে, ওয়ানডে সিরিজে অবশ্য ৪-২-তে হেরে গেছে। কিন্তু তাদের দুর্দান্ত ব্যাটিং-সামর্থ্য অস্বীকার করার উপায় নেই। বড় স্কোর করার ক্ষমতাও আছে তাদের। প্রশ্নটা হচ্ছে, তাদের বোলিংটা একটু কমজোরি কি না? লাসিথ মালিঙ্গা ফিট হয়ে গেলে গত সিরিজের চেয়ে অনেক বেশি লড়াই করতে পারবে। তাদের হারানো তখন মোটেই সহজ হবে না।
পাকিস্তান একটা প্রহেলিকা, তার পরও তারা কিন্তু বড় একটা হুমকিই। একদিন তারা অসাধারণ খেলে পরের দিনই একদম ডুবিয়ে দিতে পারে। তাদের হিসাব থেকে বাদ দেওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কিছু খেলোয়াড়ের চোট ও নিষেধাজ্ঞার খড়্গ তাদের বেশ ভোগাবে। শহীদ আফ্রিদির অলরাউন্ড পারফরম্যান্সই পাকিস্তানের চাবিকাঠি।
এই মুহূর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভীষণ সংগ্রাম করছে। তাদের বড় কোনো হুমকি বলেও মনে হচ্ছে না। বিশেষ করে ডোয়াইন ব্রাভো ও কাইরন পোলার্ডের মতো খেলোয়াড়ের শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তার পরও তাদের কিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য ক্রিস গেইলের ওপর অনেক চাপ থাকবে, তবে ভালো কিছু করতে হলে সবাইকেই কিছু না-কিছু করতে হবে। আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের মতো দল ওদের সঙ্গে অঘটনের স্বপ্নও হয়তো দেখছে।
নিউজিল্যান্ডের প্রস্তুতি দারুণ হয়েছে। ফর্মটা দুর্দান্ত। ব্যাটিং, ফাস্ট ও স্পিন বোলিং, উইকেটকিপিং—সব দিকেই তারা বেশ গোছানো। সম্ভবত এটাই বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিউজিল্যান্ডের সেরা দল। আগে আমরা ছয়বার সেমিফাইনাল খেলেছি, ভালো কিছু করার এটাই সেরা সুযোগ। ১৯৯২ সালের মতো সমর্থন পেলে বছরটা আমাদেরও হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা—সবারই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা উচিত। তবে আমি আশা করছি একটা সহযোগী দেশ শীর্ষ আট দলের একটিকে হারিয়ে দেবে। সেটি যে কে আমি নিশ্চিত নই! বিশ্বকাপে অঘটন তো হবেই।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন