নিউজিল্যান্ডের অপেশাদার ক্রিকেটার আরশাদ বশির।
নিউজিল্যান্ডের অপেশাদার ক্রিকেটার আরশাদ বশির।ছবি: স্টাফ.এনজেড

নিউজিল্যান্ড শান্তির দেশ। কিন্তু শান্তির দেশ বলেই যে অশান্তি থাকবে না একদম, তা তো আর না। ব্যাপারটা বেশ ভালোভাবে বুঝেছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে ওই হামলার সময় তামিমরা তো নিউজিল্যান্ডেই ছিলেন। এবার আবারও খেলার মাঠ অশান্ত হয়েছে নিউজিল্যান্ডে। এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম হয়েছে, সৃষ্টি হয়েছে অশান্তির।

৪১ বছর বয়সী আরশাদ বশির তেমনই এক ঘটনার শিকার। পরশু আঞ্চলিক ক্রিকেট ম্যাচে কথা–কাটাকাটি থেকে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় তাঁকে ঘুষি মারেন। বশির কিছুক্ষণের জন্য অজ্ঞান ছিলেন, ভুগেছেন শ্বাসকষ্টে।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন উঠতে পারে, কে এই আরশাদ বশির? না চেনা খুবই স্বাভাবিক। পেশাদার ক্রিকেটার নন তিনি। পেশাদার খেলোয়াড় না হওয়া সত্ত্বেও ক্রিকেটের কারণেই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন তিনি।

দেশটির সংবাদমাধ্যম স্টাফ জানিয়েছে, নিউলিন ক্রিকেট ক্লাব ও হাউউইক পাকুরাঙ্গা ক্লাবের মধ্যকার ম্যাচে এই ঘটনা ঘটে। বশির বল করছিলেন। এ সময় আম্পায়ারের দেওয়া একটি ওয়াইডের সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ হয় বশিরের। ডেলিভারিটি ওয়াইড ছিল কি না, তা নিশ্চিত ছিলেন না বশির। তাঁর মতে, ওটা ওয়াইড ছিল না। এ সময় হাউউইক দলের এক খেলোয়াড়ের উদ্দেশে বশির বলেন, ‘দয়া করে প্রতারণা কোরো না।’ এরপরই বাধে বিপত্তি।

default-image

সেই খেলোয়াড় বশিরের দিকে তেড়ে গিয়ে বলেন, ‘যা বলেছ, সেটা আবারও বলো।’
তারপর কী হলো, শুনুন বশিরের মুখেই, ‘এরপর সে আমার মুখে ঘুষি মারে। দুই হাত দিয়ে আমার ঘাড় ধরে রেখেছিল। আমি ছাড়ানোর চেষ্টা করি। আমাকে সে আবারও মেরে বসে’—বলেন বশির। তাঁর নাক থেঁতলে যায়। ঘুষির ধাক্কা হজম করতে না পেরে মাটিতে পড়ে যান বশির। অজ্ঞান ছিলেন কিছুক্ষণ। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুলিশকে ঘটনাটা জানান তিনি।

বশির পেশাদার ক্রিকেটার নন। সন্ধ্যায় ট্যাক্সি চালান। ক্রিকেট খেলা তাঁর খণ্ডকালীন কাজ। সেদিন সন্ধ্যায় এই ঘটনার পর আর ট্যাক্সি চালাতে পারেননি। ফলে তাঁর ২০০ থেকে ৩০০ ডলারের মতো ক্ষতি হয় বলে জানিয়েছে নিউজিল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম।
পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত করছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি, জানিয়েছেন এক মুখপাত্র।

বশিরের চিকিৎসা নেওয়া যে শেষ, তা-ও নয়। মাথায় ব্যথা অনুভব করলে তাঁকে আবারও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সংবাদমাধ্যমকে বশির বলেন, সেই খেলোয়াড়ের আচরণ ‘অগ্রহণযোগ্য’। তাঁকে নিষিদ্ধ করারও দাবি তুলেছেন এই ট্যাক্সিচালক।

অকল্যান্ডের কমিউনিটি ক্রিকেট ম্যানেজার ডিন বার্টলেট জানান, অকল্যান্ড ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাটি জেনেছে এবং দুই ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, ‘এতটুকু জেনেছি একজন খেলোয়াড়কে বাইরে রেখেছে তার ক্লাব। মৌসুমের বাকি সময়ে সে আর খেলতে পারবে না।’

ঘটনার পুলিশি তদন্তে সহযোগিতার দরকার হলে অকল্যান্ড ক্রিকেট সাহায্য করবে বলে জানিয়েছেন বার্টলেট, ‘পুলিশের তদন্ত শেষ হলে আমরা আইনি পথে এগোব। অকল্যান্ড ক্রিকেটের বিচারিক দলের সামনে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন