গত মাসের শেষ দিকে নিউজিল্যান্ডে এসে পৌঁছায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল।
গত মাসের শেষ দিকে নিউজিল্যান্ডে এসে পৌঁছায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। ছবি: উইন্ডিজ ক্রিকেট টুইটার

এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইংল্যান্ড সফর দিয়েই করোনাভাইরাসকে পাশ কাটিয়ে ফিরেছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। সব নিয়ম মেনে সেবার সফরটা সফলভাবে শেষ করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা। এরপর করোনা ঠেকাতে তৈরি ‘জৈব সুরক্ষা বলয়’–এর মধ্যে থেকেই তাঁরা খেলেছেন ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল)। সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়েরাই নিউজিল্যান্ডে এসে জৈব সুরক্ষা বলয়ের নিয়ম ভেঙেছেন!

দলের কয়েকজন খেলোয়াড় নিয়ম ভেঙেছেন, সেটার শাস্তিও পাচ্ছেন। আইসোলেশনের নিয়ম ভাঙায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনুশীলন–সুবিধা চার দিনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড সরকার।

এ জন্য তিন টি-টোয়েন্টি ও দুই টেস্টের এই সিরিজের সফরসূচিতে কোনো অদলবদল হবে না বলেই ভাবা হচ্ছে। তবে ২৭ নভেম্বর অকল্যান্ডে প্রথম টি-টোয়েন্টি দিয়ে সফর শুরু হওয়ার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রস্তুতিতে ঘাটতি থেকে যাবে। পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা এখন চারদিক থেকে সমালোচিতও হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

করোনা প্রতিরোধে সবচেয়ে সফল দেশগুলোর একটি নিউজিল্যান্ড। প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের নির্দেশনায় শুরু থেকেই কড়াকড়িভাবে করোনা প্রতিরোধে সব ব্যবস্থা নেওয়ারই সুফল পেয়েছে দেশটি। সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে গিয়ে যে বেশ কড়াকড়ি নিয়মের মধ্যেই থাকতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের, তা জানাই ছিল। জৈব সুরক্ষা বলয়ে তিন ধাপে ক্রিকেটারদের ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপে একত্র করা হচ্ছিল। কিন্তু আইসোলশনের ১২তম দিনে গন্ডগোল বাধল।

default-image

ক্রাইস্টচার্চে দলের হোটেলে ২০ জনের দুটি গ্রুপে আইসোলেশনে ছিলেন ক্রিকেটাররা। নিয়ম হচ্ছে, এক গ্রুপে থাকা খেলোয়াড়েরা আইসোলেশনের সময় শেষ হওয়ার আগে আরেক গ্রুপের খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিশতে পারবেন না। আজ বুধবার নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হোটেলের সারভেইল্যান্স ফুটেজে দেখা গেছে, খেলোয়াড়েরা হলওয়েতে একসঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন, এমনকি খাবারও ভাগাভাগি করেছেন!

তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ-ও জানিয়েছে, ‘এটা জানানো গুরুত্বপূর্ণ যে সবকিছুই ঘটেছে হোটেলে নির্ধারিত সীমানার মধ্যে, তাই জনসাধারণের জন্য এখানে ঝুঁকির কিছু নেই।’

পরের বাড়িতে অতিথি হয়ে গিয়ে এমন আচরণ! ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত লোকজন স্বাভাবিকভাবেই হতাশ। দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (সিডব্লুআই) প্রধান নির্বাহী জনি গ্রেভ আজ জুম কলে বলেছেন, ‘আমরা হতাশ ও বিস্মিত এই ভেবে যে ওরা (ক্রিকেটাররা) নিজেদের এভাবে ছোট করবে, আর সফরটাকেও এভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেবে।’ গ্রেভের ধারণা, জৈব সুরক্ষা বলয়ের নিয়ম ভেঙেছেন বড়জোর পাঁচজনের মতো খেলোয়াড়। দলের কোচিং বা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত কেউ নিয়ম ভাঙেননি।

তবে চার দিন অনুশীলন করতে না পারার ধাক্কা সফরের প্রস্তুতিতে পড়বে বলেই মনে হচ্ছে গ্রেভের, ‘আমাদের প্রস্তুতির পরিকল্পনায় একটা ধাক্কা এটা। বিশেষ করে (আগস্ট-সেপ্টেম্বরে) ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে যে খেলোয়াড়েরা খেলেনি এবং সে কারণে গত জুলাইয়ের শেষ দিকে ইংল্যান্ড সফরের পর থেকে যাঁদের পেশাদার ক্রিকেট সেভাবে খেলা হয়নি, তাঁদের জন্য। আমাদের প্রস্তুতিতে বেশ বড় ধাক্কা এটি এবং আমি জানি, সফরে গিয়ে কয়েকজন খেলোয়াড় নিজেদের এভাবে ছোট করায় প্রধান কোচ ফিল সিমন্স খুবই হতাশ।’

বিজ্ঞাপন

এরই মধ্যে সফরে যাওয়া খেলোয়াড়-কোচসহ সবাইকে চিঠি পাঠিয়েছেন গ্রেভ, নিজেদের মতো করে তদন্তও চলছে বলে জানিয়েছেন সিডব্লুআইয়ের প্রধান।

আজ বুধবার দলের খেলোয়াড়দের করোনা পরীক্ষা হয়েছে। সেটির ফল আগামীকাল আসবে। সবার ফল নেগেটিভ এলে শুক্রবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল কুইন্সটাউনে রওনা দেবে। সেখানে পরের শুক্রবার, অর্থাৎ ২০ নভেম্বর নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে ক্যারিবীয়দের তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ শুরু হবে।

আইপিএলে খেলা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা আগামী শুক্রবার ফিরবেন। দুটি ভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে জৈব সুরক্ষা বলয়ে ঢুকবেন তাঁরা।

মন্তব্য পড়ুন 0