default-image

৩৯তম জন্মদিনের দুপুরে পরাজয়ের বিস্বাদ। মুখ কালো করে বেরিয়ে গেলেন রঙ্গনা হেরাথ। শ্রীলঙ্কা অধিনায়কের প্রস্থানের পরই মঞ্চে এলেন সাকিব-মুশফিক, একসঙ্গে।
মুশফিকের দিকে যখন প্রশ্ন ছুটে গেল, একটু নতমুখী হয়ে টেবিলের আড়ালে মুঠোফোন হাতে সাকিব আল হাসান। মাঝেমধ্যেই নীরবে হাসছেন। নিশ্চিত এ অবসরে ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করছিলেন। এমন সময়ই তাঁকে প্রশ্ন, ‘এই যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনার অনেক সমালোচনা হয়, এতে আপনি কি প্রভাবিত হন?’
সাকিবের মুখে হাসি, ভঙ্গি নির্লিপ্ত, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখি না। সুতরাং ও নিয়ে আমার চিন্তাও নেই।’ আবারও প্রশ্ন, ‘আপনার পরিবারের কেউ প্রভাবিত হয় না?’ সাকিবের উত্তর, ‘মনে হয় না।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা-ই হয়ে থাক না কেন, তাতে কিছু এসে যায় না। দরকার ছিল সাকিবের পারফরম্যান্স। সেটি করেছেন। কিন্তু দুদিন আগের সাকিব আর ম্যাচ শেষের সাকিব যে অন্য রকম। একেবারেই বদলে যাওয়া মানুষ! কীভাবে হলো এই বদল? বিশ্বসেরা টেস্ট অলরাউন্ডার জবাব দেন, ‘ঠিক জানি না। তবে আমরা জানতাম আমাদের রান করতে হবে, ভালো বোলিং করতে হবে। শেষ পর্যন্ত হয়ে গেছে।’
যখন তাঁকে নিয়ে সমালোচনামুখর পুরো দেশ, এমনকি দলের কোচ, তখনই ঘুরে দাঁড়ান সাকিব। নিউজিল্যান্ডে ২১৭ রানের ইনিংস খেলার পর ভারতের বিপক্ষে হায়দরাবাদ টেস্টে ৮২ রান। তিন ইনিংস পরই সেঞ্চুরি। কোচ বললেন, সাকিব আর আগের সাকিব নেই, তারপরই শততম টেস্ট জয়ে সর্বোচ্চ অবদান রাখলেন ৪ উইকেট তুলে নিয়ে। কীভাবে এটা পারেন? সাকিবের উত্তরটা খুব সরল, ‘আমি ভাগ্যবান যে দলের প্রয়োজনের সময় আমি পারফর্ম করতে পারি।’
তাহলে এই যে সমালোচনার তির ছুটে আসে চারপাশ থেকে, এই যে কোচরা পর্যন্ত তাঁর মাঠের পারফরম্যান্সের নিন্দা করছেন, এতে তাঁর রাগ-বিরাগ কিছুই হয় না। তাই হেসে হেসেই বলে গেলেন, ‘এরপর থেকে কোচ হয়তো বলবেন আমি আগের মতোই বল করছি।’
শুধু কোচই তো নন, সারা দেশ তাকিয়ে থাকে সাকিবের দিকে। সাকিব ভালো বোলিং করলে বাংলাদেশ ভালো করে। সাকিবের ভালো ব্যাটিং বাংলাদেশের জয়ের আশা জাগিয়ে তোলে। বাংলাদেশের বাঁহাতি অলরাউন্ডার জানিয়ে গেলেন, ‘আমি এই পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি করতে চাইব। বারবার।’
সাকিবের এমন পারফরম্যান্স মানে বাংলাদেশের ক্রিকেটের হাসি। বাংলাদেশ সব সময়ই এই সাকিবকে চায়। যে সাকিব বিষণ্নতার ভাঙা টুকরোগুলোকে পাশে সরিয়ে রেখে মাঠে উজ্জ্বল হয়ে আলো ছড়াতে জানেন।
ও হ্যাঁ, সাকিব ও মুশফিক শততম টেস্টের জয় উৎসর্গ করেছেন বাংলাদেশের অগণন ক্রিকেট-ভক্তদের উদ্দেশে। যাঁরা সুখে-দুঃখে ক্রিকেটের পাশে আছেন। জয়ের আনন্দে আছেন, পরাজয়ের বিষাদে আছেন, এমনকি আছেন সমালোচনাতেও!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন