১৪৭ বলে ১১ চার আর ২ ছক্কায় নিশঙ্কার ১৩৭ রানের ইনিংসটিকে শুধু সংখ্যায় বর্ণনা ভুলই হবে। উদ্বোধনে নেমেছেন, দলীয় ৪২ রানে হারিয়েছেন সঙ্গী ডিকভেলাকে। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে কুশল মেন্ডিসের সঙ্গে ১৭০ রানের জুটিতেই শ্রীলঙ্কার জয়ের সুন্দর ভিত গড়ে দিয়েছেন। মেন্ডিস আহত অবসর না হলে জুটিটা কোথায় গিয়ে থামত কে জানে!

default-image

মেন্ডিস ৮৫ বলে ৮ চারে ৮৭ রান করে ফিরেছেন, তাঁর চেয়ে একটু কম স্ট্রাইক রেটে (৯৩.১৯) রান তুলে গেছেন নিশঙ্কা। তবে লক্ষ্যই যেখানে ওভারপ্রতি ৬ রানও পুরোপুরি দাবি করে না, সেখানে রান তোলার তো খুব তাড়া ছিল না...এমন ইনিংসে নজর কেড়েছে নিশঙ্কার ইনিংস ‘অ্যাঙ্কর’ করার দক্ষতা। কী ঠান্ডা মাথার, কী ধীরস্থির, কী দারুণ সুন্দর!

কুশল মেন্ডিস বা চারে নামা ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার ক্যারিয়ারের শুরুতে ব্যাটিংয়ের যে সৌন্দর্য ছিল, যে আত্মবিশ্বাসের জোর ছিল, সেটিই যেন চোখে পড়েছে বারবার।

মেন্ডিস যেখানে অর্ধশতকে পৌঁছেছেন ৩৯ বলে (৬ চারে), নিশঙ্কার লেগেছে ৬৫ বল আর তিন চার। ১২৩ বলে এল নিশঙ্কার শতক, নামের পাশে ততক্ষণে চার ৭টি, ছক্কা ১টি।

default-image

৪১তম ওভারে লাবুশেনের বলে ১ রান নিয়ে শতকে পৌঁছানোর পরও তাঁর উদ্‌যাপনটা হলো কী সাদামাটা! হয়তো তখনো জয় থেকে শ্রীলঙ্কা ৫৯ বলে ৬৮ রানের দূরত্বে ছিল বলেই মনোযোগ সরাতে চাননি।

কুশল মেন্ডিসের আহত অবসরের পর অন্যপ্রান্তে তখন ধনাঞ্জয়ার ব্যাটে তাড়াহুড়া। কিন্তু নিশঙ্কার শতকের পর তিনি আরও আগ্রাসী হতে গিয়ে ফিরলেন ১৭ বলে ২৫ রান করে। নিশঙ্কাও এর পর ফিরেছেন, তবে ততক্ষণে সম্ভবত শ্রীলঙ্কার জয় নিয়ে শঙ্কা আর নেই। ততক্ষণে যে দলের রান ২৮৪/৩, হাতে তখনো ১৭ বল। অধিনায়ক শানাকা ফিরলেও আসালঙ্কা আর করুণারত্নে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া অ্যারন ফিঞ্চের ৮৫ বলে ৬২ আর ট্রাভিস হেডের ৬৫ বলে ৭০ রানই অস্ট্রেলিয়ার ৩০০-র কাছাকাছি রানের ভিত্তি। অ্যালেক্স ক্যারির দুর্ভাগ্য, ৫২ বলে ৪৯ রান করে আউট হয়ে গেছেন। তবে শেষদিকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ১৮ বলে ৩৩ রান না হলে হয়তো এতটাও লড়াই করার মতো স্কোর পেত না অস্ট্রেলিয়া। শেষ দশ ওভারে অস্ট্রেলিয়া তুলেছে ৯৮ রান।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন