সেঞ্চুরি পেয়েছেন করুণারত্নে।
সেঞ্চুরি পেয়েছেন করুণারত্নে। ছবি: এএফপি

পাল্লেকেলে টেস্টে শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস শেষে...ক্ষমা করবেন রসিকতার জন্য; শ্রীলঙ্কা এখনো ব্যাট করছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের আশা তো এমনই। কাল তৃতীয় দিন শেষেই হয়তো এই আশায় ঘুমোতে গেছেন অনেকে। আজ চতুর্থ দিনে প্রথম সেশনেই শ্রীলঙ্কার আরও কয়েকটা উইকেট তুলে নেওয়া যায়, তাহলে অন্তত জয়ের একটা সুযোগ থাকে!

কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি। আর এই বালিটুকু বেশ ভালোভাবেই ছিটিয়ে যাচ্ছেন শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে। আজ দিনের খেলা শুরুর ১৪তম ওভারে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। মধ্যাহৃভোজ বিরতিতে যাওয়ার আগে প্রথম সেশনের খেলা শেষে করুণারত্নে অপরাজিত ১৩৯ রানে, তাঁর সঙ্গী ধনঞ্জয়া ডি সিলভার রান ৭৪।

মজার ব্যাপার, এই টেস্টে দুই দলের অধিনায়কই টেস্ট ক্যারিয়ারে ১১তম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে অধিনায়ক মুমিনুল হকও তাঁর ক্যারিয়ারে ১১তম সেঞ্চুরির দেখা পান। কিন্তু আজ যে লক্ষ্যে ফিল্ডিংয়ে নেমেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক—দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া—তার দেখাই যে পাচ্ছেন না!

বিজ্ঞাপন

৩ উইকেটে ২২৯ রানে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল শ্রীলঙ্কা। আজ এখন পর্যন্ত কোনো উইকেট ফেলতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। ৩ উইকেটে ৩৩১ রান তুলে মধ্যাহৃভোজের বিরতিতে গেছে শ্রীলঙ্কা।

default-image

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে এখনো ২১০ রানে পিছিয়ে শ্রীলঙ্কা। আজকের পর কালই টেস্টের শেষ দিন। এখনো একটি করে ইনিংস বাকি দুই দলের। অর্থাৎ পাল্লেকেলে টেস্টে কেউ জিতবে না—এই যুক্তির পক্ষে বাজি ধরার লোকের সংখ্যাই সম্ভবত বেশি। তেমন কিছু ঘটলে দীর্ঘ সাত বছরের মধ্যে শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রথম ড্র টেস্ট দেখা যাবে। ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কলম্বো টেস্ট ড্র করেছিল শ্রীলঙ্কা। এরপর টানা ২৮ টেস্টে হার–জিত দেখা গেছে শ্রীলঙ্কার মাটিতে।

উপমহাদেশে টেস্টের চতুর্থ দিনে উইকেট যেমন হয়ে থাকে, পাল্লেকেলের ২২ গজে তার ছিটেফোঁটাও কি দেখা যাচ্ছে?

default-image

উইকেট যেন পাটার মতো শক্ত, আগের তিন দিনে বোলারদের স্পাইকের আঘাতেও উইকেটের দুই প্রান্তে তেমন কোনো ক্ষতের সৃষ্টি হয়নি। স্পিনারেরাও সেভাবে বাঁক পাচ্ছেন না। বলও ওঠানামা করছে না। এমন ব্যাটিং–স্বর্গে যা হওয়ার কথা, ঠিক তা–ই হচ্ছে। দেখেশুনে রান তুলে যাচ্ছেন দুই ব্যাটসম্যান—করুণারত্নে ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা।

সকালে স্পিনারদের সঙ্গে তিন পেসারকে দিয়েও বল করান অধিনায়ক মুমিনুল হক। কেউ সেভাবে বিপদ সৃষ্টি করতে না পারায় অগত্যা অধিনায়ক নিজেও বল হাতে তুলে নেন। কিন্তু চতুর্থ উইকেটে করুণারত্নে–ধনঞ্জয়ার জুটি ভাঙতে পারেননি বোলাররা।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন