বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অথবা চলে যেতে পারেন ডেজার্ট সাফারিতে। এক বেলার এই মরুভ্রমণে আপনার সামনে জীবন্ত হয়ে উঠবে আরব্য সংস্কৃতি। আরব দেশের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, খাবার আর আরব্য পোশাকে উটযাত্রা আপনাকে দিতে পারে আরব্য রজনীর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

হাতে অত সময় না থাকলে দুবাই শহরের মধ্যেও ঘুরেফিরে দেখার জায়গার অভাব নেই। পকেটে যথেষ্ট দিরহাম থাকলে দুবাই মল, মেরিনা মল বা অন্য কোনো মলে ঢুঁ মারতে পারেন। আবার পকেট একেবারে ফাঁকা হলেও সমস্যা নেই। এসব মলে এমনিতেও মানুষ কেনে কম, ঘুরে বেশি।

default-image

ভালো কথা, বুর্জমান মলেও কিন্তু যাওয়া যায়! এই মলের অনেকগুলো মুভি থিয়েটারের একটাতে এখন চলছে ‘নো টাইম টু ডাই’। পপকর্ন খেতে খেতে দেখেই আসুন না জেমস বন্ড শেষ পর্যন্ত মরার সময় পেলেন কি না!

ভালো কোনো জায়গায় লাঞ্চ বা ডিনারে যাবেন? উপমহাদেশীয় খাবার থেকে শুরু করে চায়নিজ, জাপানিজ, লেবানিজ—সবই আছে। শুধু রুচি অনুযায়ী বেছে নিন কোথায় যাবেন, কী খাবেন। তবে খাবারের জায়গাটাকেও যদি ‘সাইট সিয়িং’-এর আওতায় নিয়ে আসতে চান, তাহলে যেতে পারেন শহরের আল মানখুল রোডের বিখ্যাত ইরানি রেস্টুরেন্ট আল উস্তাদ স্পেশাল কাবাবে।

এই রেস্টুরেন্ট সুস্বাদু খাবারের জন্য যেমন বিখ্যাত, বিখ্যাত এখানে খেতে আসা অতিথিদের জন্যও। সে তালিকায় আছেন কিংবদন্তি বক্সার মোহাম্মদ আলী থেকে শুরু করে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, বলিউড তারকা শাহরুখ খান, সালমান খান, সঞ্জয় দত্তসহ আপনার চেনাজানা আরও অনেকেই।

default-image

যখনই যে অতিথি এখানে খাবারের স্বাদ নিতে এসেছেন, তাঁদের সঙ্গে ছবি তুলে রেখেছেন রেস্তোরাঁর মালিক দুই ইরানি ভাই তালেব আনসারি ও আব্বাস আনসারি এবং হোটেলের কর্মচারীরা। সেসব ছবি পুরো হোটেলের দেয়ালজুড়ে গিজগিজ করে সাঁটা। কেউ খুঁজে বের করে না দিলে সেখান থেকে কারও ছবি আলাদা করা মুশকিল।

সেদিন এভাবে খুঁজতে খুঁজতেই একপর্যায়ে জন আব্রাহাম, সালমান খানদের পাশে আবিষ্কার করলাম বাংলাদেশের তামিম ইকবালকে। দুবাইয়ের ভোজনরসিকদের ঠিকানায় তামিম আসবেন না, তা কী করে হয়!

নির্দিষ্ট কোথাও যেতে চান না, মনটা উদাস উদাস লাগছে; তাহলে একটা ট্যাক্সি ডেকে দুবাই শহর দেখতে বেরিয়ে পড়ুন। সেটাও এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। এত আলো পৃথিবীর আর কোনো শহরে আছে কি না, জানা নেই। বুর্জ খলিফা, বুর্জ আল আরব থেকে শুরু করে শহরময় ছড়িয়ে থাকা আকাশছোঁয়া যত অট্টালিকা—সব কটিতেই আলোর খেলা।

default-image

আলোর বন্যায় ভেসে যাওয়া শহরটাতে সেদিন রাতে ঘুরতে ঘুরতে মনে হলো, আচ্ছা, এখানে বিদ্যুৎ বিল কেমন আসে? কৌতূহল মেটালেন সঙ্গে থাকা স্থানীয় মুঠোফোন কোম্পানি ডু মোবাইলের প্রকৌশলী প্রবাসী বাংলাদেশি আরিফিন সতেজ, ‘খুবই কম। এখানে তো সব ঘরেই সারা দিন এসি চলে, সব ঘরেই অনেক ইলেকট্রনিক সামগ্রী। তারপরও আমার মাসে ১ হাজার ২০০ দিরহামের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ হাজার টাকা) মধ্যে হয়ে যায়।’

প্রাসাদোপম অট্টালিকাগুলোতে খেলে যাওয়া আলোর নাচনের একটা বড় কারণ ভবনগুলোর বৈচিত্র্যময় নকশা। ভবনের নকশায় এখানকার প্রকৌশলীদের সৃষ্টিশীলতা কল্পনাকেও হার মানায়। কোনোটা আকাশ ভেদ করতে উদ্যত, কোনোটা হেলে পড়ছে, কোনোটা ডিম্বাকৃতির, কোনোটা ফুলের মতো পাপড়ি ছড়িয়ে আছে, আবার কোনোটাবা দাঁড়িয়ে পানির ওপর। নকশা নিয়ে এ যেন রীতিমতো ছেলেখেলা!

মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন আসছে, এই যে লেখার শুরু থেকে এই পর্যন্ত ক্রমাগত দুবাই ঘোরার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি, গুগল ম্যাপের মতো এটা-ওটা দেখিয়ে যাচ্ছি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করতে এসে এসব কেন?

default-image

আসলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা এখানে এখন মৃতপ্রায়, অনেকটাই আকর্ষণহীন। সেমিফাইনাল, ফাইনালের আগপর্যন্ত তাতে আর রং লাগছে বলে মনে হয় না। দুবাইয়ের এত জায়গায় ঘুরিয়ে আনাটা বিবর্ণ বিশ্বকাপ থেকে একটু চোখ সরিয়ে নেওয়ারই চেষ্টা আসলে।

দুবাইপ্রবাসীদের একটা বড় অংশ ভারত, বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের মানুষ। বাংলাদেশ তো আগেই বিশ্বকাপকে ‘গুডবাই’ বলে চলে গেছে। বিদায় নিয়েছে ভারতও। তার ওপর আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের ভারতীয় কিউরেটর মোহন সিংয়ের আকস্মিক মৃত্যু পুরো আয়োজনটাকেই পরিয়ে দিয়েছে শোকের চাদর। এই দুই অঘটন আলোকোজ্জ্বল দুবাইয়েও নিভিয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপের আলো।

ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে উপমহাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পাকিস্তানও অবশ্য আছে। কিন্তু দুবাইয়ে সেটার প্রভাব যে শুধু দেশটির ট্যাক্সিচালকদের উৎফুল্ল চেহারাতেই খুঁজে পাই!

আলোর গতিতে ছুটে চলা শহরটার যেন বিশ্বকাপ নিয়ে আর ভাবতেই চাচ্ছে না। সেটা এখন অতীতের কাছাকাছি। জেমস বন্ডের ভাষায় বললে দুবাইয়ে এই মুহূর্তের বাস্তবতা, ‘নো টাইম ফর ওয়ার্ল্ডকাপ।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন