বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওবেদ ম্যাকয়ের ওভারের প্রথম তিন বলেই মারেন তিন ছক্কা। কিন্তু তৃতীয় বলে ছক্কার পরই যত নাটক-বিতর্কের শুরু। ফুলটস বলটাকে পাওয়েল ছক্কা তো মেরেছেন, কিন্তু দিল্লির দাবি, বলটা কোমরের চেয়েও বেশি উচ্চতায় ছিল।

সেটি নো-বল দেওয়া হলে একটা ফ্রি-হিট পেত দিল্লি, ৩ বলের বদলে তখন ৪ বল হাতে থাকত, রান ১৮-র বদলে করতে হতো ১৭। অর্থাৎ আগের দিন চেন্নাই সুপার কিংসকে জেতানোর পথে মহেন্দ্র সিং ধোনি যা করেছেন, তা করার সমীকরণ দাঁড়াত পাওয়েলের সামনে। কিন্তু মাঠের আম্পায়ার দিল্লির দাবি কানেই তুললেন না। দিল্লি তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে যেতে বলেছে, কিন্তু মাঠের আম্পায়ার তা মানতে রাজি ছিলেন না।

ক্রিজে থাকা দুই ব্যাটসম্যান পাওয়েল ও কূলদীপ যাদব দুই আম্পায়ার নিতিন মেনন ও নিখিল পটবর্ধনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ডাগআউট থেকে পন্ত ও দিল্লির কোচিং স্টাফের কয়েকজন দুই ব্যাটসম্যানকে আম্পায়ারদের ওপর চাপ দিয়ে যেতে বলেন। যদিও নিয়ম বলে, উইকেট পড়া-না পড়ার ব্যাপার না থাকলে নো বলের সিদ্ধান্ত তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে নেওয়ার দরকার নেই।

default-image

কিন্তু উত্তেজনার মুহূর্তে নিয়মই বুঝি সবার আগে ভুলে যায় সবাই! দুই আম্পায়ারকে নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল দেখে পন্ত দুই ব্যাটসম্যানকে মাঠ ছেড়ে উঠে আসতে বলেন। রাজস্থানের যুজবেন্দ্র চাহাল আবার কূলদীপকে সেটি করতে নিষেধ করেন। এর মধ্যে পন্ত তাঁর দলের সহকারী কোচদের আরেকজন প্রভিন আমরেকে বলেন মাঠে নেমে দুই আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতে। ওয়াটসন আবার তখন পন্তকে মাথা ঠান্ডা রাখতে বলেন। ম্যাচে রাজস্থানের হয়ে শতক হাঁকানো ইংলিশ ব্যাটসম্যান জস বাটলার আবার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পন্তের কাণ্ডকীর্তি দেখে।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা শুরু হলেও পরের ৩ বলে ২ রান নিতে পেরেছেন পাওয়েল, শেষ বলে তো ছক্কা মারতে গিয়ে আউটই হয়ে গেলেন! ম্যাচের পর নিজের আচরণের সাফাই গাইলেন পন্ত, ‘পাওয়েল শেষদিকে আমাদের জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল। ওই নো-বলটা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত। আমার মনে হয়েছে, আমরা নো বলটা হয়েছে কি না, সেটা পরীক্ষা করে দেখতে পারতাম, কিন্তু সেটা তো আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। আমি হতাশ, তবে এ ব্যাপারে খুব বেশি কিছু করারও নেই।’

আম্পায়াররা কেন তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে যাননি, এ নিয়েই যত ক্ষোভ পন্তের, ‘মাঠে উপস্থিত সবাই-ই এটা দেখেছে। আমার মনে হয় তৃতীয় আম্পায়ারেরও এ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল, বলা উচিত ছিল এটা নো বল হয়েছে। কিন্তু আমি তো আর নিয়ম বদলাতে পারব না।

সহকারী কোচ আমরেকে মাঠে পাঠানো ঠিক হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে অবশ্য নিজের ভুল মেনে নিয়েছেন পন্ত, ‘অবশ্যই সেটা ঠিক হয়নি। কিন্তু তার আগে যা হয়েছে, সেগুলোও ঠিক ছিল না। ওটা (আমরেকে মাঠে পাঠানো) মুহূর্তের উত্তেজনায় হয়ে গেছে, তখন আসলে এসব ভাবার অবস্থা ছিল না। এখানে দোষটা দুই পক্ষেরই, শুধু আমাদের নয়, কারণ, টুর্নামেন্টজুড়ে আমরা কিছু ভালো আম্পায়ারিং দেখেছি। আমরাও আজ আরও অনেক ভালো করতে পারতাম।’

তবে দিল্লির সহকারী কোচদের একজন ওয়াটসন নিজ দলের অধিনায়কের এমন আচরণের পেছনে অন্য ব্যাখ্যাই দিচ্ছেন। তাঁর মনে হয়েছে, ম্যাচজুড়ে রাজস্থানের সঙ্গে লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকায় পুরোটা সময়ই তো দিল্লিকে রাজস্থানের পিছু ধাওয়া করতে হয়েছে, সেখান থেকে হঠাৎ জেগে ওঠা জয়ের সম্ভাবনা আরও না বাড়ারই হতাশা পন্তকে ঘিরে ধরেছে।

‘শেষ ওভারে যেটা হয়েছে, সেটা হতাশাজনক। যেটা হয়েছে, দিল্লি ক্যাপিট্যালসে আমরা সেটা কখনোই চাই না। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত যতই ভুল হোক বা ঠিক, আমাদের সেটা মেনে নিতে হবে। কেউ একজন মাঠে নেমে যাবে, এটা আমরা মেনে নিতে পারি না’ - বলেছেন ওয়াটসন।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন