ভালো খেলতে খেলতে হুট করে আউট হয়ে গেলেন তামিম ইকবাল।
ভালো খেলতে খেলতে হুট করে আউট হয়ে গেলেন তামিম ইকবাল।ছবি: টুইটার

সেঞ্চুরি পাওনাই ছিল। তামিম ইকবালই বুঝে নিতে পারছিলেন না। শ্রীলঙ্কা সফরে আগের টেস্টে দুই ইনিংসে তাঁর স্কোর ৯০ ও ৭৪*। দুটি ইনিংস–ই ছিল মনোমুগ্ধকর স্ট্রোক–প্লের অনুপম প্রদর্শনী।

কিন্তু আসল কাজটাই করা হয়ে ওঠেনি। দেখা পাননি সেঞ্চুরির। আজও চোখজুড়ানো স্ট্রোক খেলে নব্বুইয়ের ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন তামিম। কিন্তু দৃশ্যপটের পরিবর্তন ঘটেনি।

‘নড়বড়ে নব্বুই’–এ গিয়ে তামিমের কী যেন ঘটে! আজ যেমন পাল্লেকেলে টেস্টের তৃতীয় দিনে ৯২ রানে আউট হলেন অপেক্ষাকৃত নিরীহ এক ডেলিভারিতে। ১৫০ বলে ১২ চারে সাজানো তামিমের এই ইনিংসের সমাপ্তি ঘটল আক্ষেপে।

বিজ্ঞাপন

অপেক্ষাকৃত নিরীহ ডেলিভারি বলার কারণ, উইকেটে সকাল থেকেই বল বাঁক নিচ্ছে। প্রবীন জয়াবিক্রমে ও রমেশ মেন্ডিসে বেশ বিপজ্জনক কিছু ডেলিভারি অবলীলায় খেলেছেন তামিম। ৮ চারে ৫৭ বলে ফিফটি তুলে নেওয়ার বাকি ৪২ রান করেন ৯৩ বলে। বোঝাই যাচ্ছিল, বড় ইনিংস খেলার ছক কাটছেন।

কিন্তু ৪৪তম ওভারে রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে জয়াবিক্রমের তৈরি করা অ্যাঙ্গেল এর কাছে হার মানতে হয় বাংলাদেশ ওপেনারকে। বল বাঁক ব্যাটে আসার পথে থাকলেও তামিম খেলেছেন ব্যাটের কানায়। ব্যস, আরও একটি সেঞ্চুরির সুবাস ছড়ানো ইনিংসের করুণ সমাপ্তি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এ নিয়ে তিনবার নড়বড়ে নব্বুইয়ে আউট হলেন তামিম।

সেঞ্চুরির সুযোগ তিনি কতবার নষ্ট করেছেন, সেটি অবশ্য তার নব্বুইয়ের ঘরের ইনিংস দিয়ে পুরোপুরি বোঝা যাবে না। ৮০ রান থেকে ৯৯ রান পর্যন্ত হিসেব করলে এই রানসংখ্যার মধ্যে এ পর্যন্ত ৮বার আউট হয়েছেন তামিম।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাল্লেকেলে টেস্টে তৃতীয় দিনে ৩ উইকেটে ১৮৪ রান তুলেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস থেকে এখনো ৩০৯ রানে পিছিয়ে মুমিনুল হকের দল। উইকেটে রয়েছেন মুশফিকুর রহিম (২৪) ও মুমিনুল (৩৬)।

সুরঙ্গা লাকমলকে ইনিংসের তৃতীয় বলে মিড অন দিয়ে মারা চারে তামিম বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, আজও রাজত্ব করতে চান বোলারদের ওপর। ঘটেছেও ঠিক তাই—প্রথম সেশন শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ২টি উইকেট পড়লেও তামিম নিজের প্রান্তে খেলেছেন নিজের মতো করে।

উইকেটে আজ বল ভালো বাঁক নেওয়ার সঙ্গে ওঠা–নামা করলেও ব্যক্তিগত ৯১ রানের আগ পর্যন্ত তামিম কোনো বড় ভুল করেননি। ৯১ রানে থাকতে প্রবীন জয়াবিক্রমার বলে শর্ট লেগে একটু জোরের ওপর ক্যাচ দিয়েছিলেন। কিন্তু কঠিন সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি শ্রীলঙ্কা।

default-image

তামিমের আগের কয়েকটি ইনিংসেই বড় রানের ইঙ্গিতটা পরিষ্কার ছিল। কিন্তু নিজ ভুলে এই সময়টা বাংলাদেশ ওপেনার নিজেই বের করতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সর্বশেষ টেস্টে তাঁর ৪৬ বলে ৫০ রানের ইনিংস থেকে শ্রীলঙ্কার মাটিতে শেষ টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরির সুযোগটা তাঁর ছিল।

বিজ্ঞাপন

কিংবা আরেকটু পিছিয়ে যাওয়া যায়—হ্যামিল্টনে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে টেস্ট ক্যারিয়ারে এর আগে সর্বশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম। এরপর তাঁর ১৩টি ইনিংসের স্কোর দেখুন—৭৪,৭৪,৪,৩,৩৪,৪১,৯,০,৪৪,৫০,৯০,৭৪* ও ৯২।

অন্তত পাঁচটি ইনিংসে সেঞ্চুরির সুবাস ছড়িয়ে আউট হওয়ায় টেস্ট ক্যারিয়ারে তাঁর সেঞ্চুরিসংখ্যা ৯–এ আটকে থাকল, যেটা তাঁর সামর্থ্যের সঙ্গে বেমানান।

আউট হওয়ার পর ড্রেসিং রুমে বসে উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন তামিম। ঝাপসা হয়ে আসা চোখ দুটো বলে দিচ্ছিল, ১৫০ বলের মনোমুগ্ধকর ইনিংসটির অপমৃত্যুর জন্য দায়ী কে!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন