অস্ট্রেলিয়ার দুই ক্রিকেটার স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার।
অস্ট্রেলিয়ার দুই ক্রিকেটার স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার।ফাইল ছবি: এএফপি

একই দেশের একদিকে মৃত্যুর মিছিল, অন্যদিকে বেশুমার চার-ছক্কার আনন্দ! অনেকে এ নিয়ে কথা বলছেন। এদিকে বিদেশি খেলোয়াড়েরা পড়েছেন শঙ্কায়। ভারতে করোনার সংক্রমণ যেভাবে বেড়ে চলছে, তাতে আইপিএল ছেড়ে দেশে ফিরতে চাইলেও তাঁরা দেশে ফিরবেন কীভাবে!

মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ক্রিস লিন যেমন ভাড়া করা বিমানে দেশে ফেরার আবেদন করেছিলেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) কাছে। নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

আইপিএলে খেলা দেশটির কোনো ক্রিকেটারকে দেশে ফেরানোর দায়দায়িত্ব নেবে না অস্ট্রেলিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, খেলোয়াড়দের দেশে ফেরার ব্যবস্থা ‘নিজেদেরই করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

অস্ট্রেলিয়া সরকার আগামী ১৫ মে পর্যন্ত দেশটিতে ভারত থেকে যেকোনো ফ্লাইটের অবতরণ নিষিদ্ধ করেছে। অস্ট্রেলিয়া থেকেও ভারতে এই কয়েক দিন বিমান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার।

এদিকে আইপিএল শেষ হবে আগামী ৩০ মে। স্কট মরিসন বলেছেন, তখনো যদি ভারতের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ থাকে, তাহলে দেশে ফেরার জন্য ‘নিজেদের ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে’ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের। স্কট মরিসন সাফ জানিয়ে দেন, অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের সফর হিসেবে ভারতে যাননি ক্রিকেটাররা। তাই দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে ক্রিকেটারদেরই। সেভেন নিউজকে মরিসন বলেছেন, ‘তারা সেখানে (ভারত) গিয়েছে ব্যক্তিগত উদ্যোগে...এটা অস্ট্রেলিয়া দলের সফরের অংশ ছিল না।’

অ্যান্ড্রু টাই, অ্যাডাম জাম্পা ও কেইন রিচার্ডসনরা এর আগেই আইপিএল ছেড়ে দেশে ফিরে গেছেন। এই তিন ক্রিকেটার ফিরলেও আরও ১৪ জন রয়ে গেছেন ভারতে। এ ছাড়া কোচ, ধারাভাষ্যকার এবং বিশ্লেষকও আছেন। তাঁদের পক্ষে এখন বাণিজ্যিক ফ্লাইটে আর দেশে ফেরা সম্ভব নয়। ভারতে এখন প্রতিদিন করোনার সংক্রমণের হার গড়ে তিন লাখের বেশি। মৃতের সংখ্যা গড়ে প্রায় দুই হাজার। সংক্রমিত রোগীদের জায়গা হচ্ছে না হাসপাতালে। আছে অক্সিজেনেরও প্রকট সংকট।

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের দেশে ফেরা নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে মরিসন বলেছেন, ‘তারা সেখানে গিয়েছে ব্যক্তিগত উদ্যোগে। এটা অস্ট্রেলিয়া দলের সফরের অংশ ছিল না। তাই সেখানে তারা নিজেরাই নিজেদের ভরসা এবং যার যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে, তা ব্যবহার করতে হবে। আমি নিশ্চিত, তারা (ক্রিকেটার) সেটা করবে। নিজেদের ব্যবস্থা নিজেরাই করে নিয়ম মেনে তারা যে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরবে, তা আমি নিশ্চিত।’

আইপিএলে লিগ ম্যাচগুলো শেষ হবে আগামী ২৩ মে, এরপর ফাইনালে ওঠার কোয়ালিফায়িং ম্যাচগুলো হবে। ফাইনাল হবে আগামী ৩০ মে। এর মধ্যে কী ঘটে, তা দেখে সিদ্ধান্ত নেবে সিএ। অর্থাৎ সিএ এখন অপেক্ষা করবে সামনে কী ঘটে, তা দেখার জন্য।

তবে ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিয়মিতই যোগাযোগ রাখছে সিএ। এক বিবৃতিতে বোর্ড জানিয়েছে, ‘আইপিএলে অংশ নেওয়া অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও কোচদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়দের এসোসিয়েশন। কঠোর জৈব সুরক্ষিত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আইপিএল। সরকারের পরামর্শ এবং ভারতে মাঠে থাকা ক্রিকেটারদের কথা আমরা শুনব। এই কঠিন সময়ে আমরা ভারতীয়দের পাশেই আছি।’

গুঞ্জন চলছে, আইপিএল রেখেই দেশে ফিরতে চান অস্ট্রেলিয়ার সব ক্রিকেটার। কিন্তু সিএর এক সূত্র মারফত ভারতের সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, আইপিএলে প্রতিদ্বন্দ্বীতা শেষ করেই দেশে ফিরতে চান তারা, ‘সে রকম কিছু ঘটার আগপর্যন্ত খেলোয়াড়েরা টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত থাকতে চান, সংবাদমাধ্যমে এর বাইরে যা বলা হচ্ছে, ভুল।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন