বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

৪৮ বছর বয়সী হোয়াইট প্রথম আলোচনায় আসেন ২০১০ সালে। যখন শচীন টেন্ডুলকার প্রকাশ্যেই তাঁকে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন। টেন্ডুলকার দাবি করেছিলেন, তাঁর হাঁটুর সমস্যা সারাতে ভূমিকা রেখেছেন শ্রীলঙ্কান এই ওঝা। আর সেটাই নাকি ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি পেতে সাহায্য করেছিল তাঁকে। শুধু টেন্ডুলকার নন, ভারতের গৌতম গম্ভীর ও আশিস নেহরাও নাকি তাঁর কাছে সেবা নিয়েছিলেন।

শ্রীলঙ্কান অনেক ক্রিকেটারই তাঁর কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পেসার লাসিথ মালিঙ্গাও আছেন। ২০১১ সালে তাঁর চিকিৎসা নেওয়ার পর উপুল থারাঙ্গা আইসিসির ডোপ টেস্টে ধরা পড়েন। এ ব্যাপারে থারাঙ্গা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু স্বীকার করেননি। কিন্তু সেটা ফাঁস হয়ে যায় তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রীর সুবাদে।

default-image

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রাজাপক্ষে যখন দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন, সে সময়ে বেশ দাপট ছিল হোয়াইটের। রাজাপক্ষের অনুরোধে নাকি ইয়ান বোথামের হাড়ের ব্যথাও সারিয়ে দিয়েছিলেন হোয়াইট। এমনকি ফুটবলার ডেভিড বেকহামের চোটও সারিয়ে তোলার দাবি তুলেছিলেন। কিন্তু ২০১০ সালের সে দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি।

যদিও দেশটির মূলধারার চিকিৎসকেরা হোয়াইটকে ‘ভণ্ড’ বলতেন। তিন হাজার বছরের পুরোনো আয়ুর্বেদশাস্ত্র ব্যবহার করেই সেবা দিচ্ছেন, এটা বলার পরও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকেরা তাঁর চিকিৎসার কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছিলেন।

default-image

বহুদিন পর গত নভেম্বরে আবার আলোচনায় আসেন হোয়াইট। তিনি দাবি করেছিলেন, ভারত ও শ্রীলঙ্কা থেকে করোনা দূর করতে পারবেন তিনি। আর সেটা করবেন দেশ দুটির নদীতে তাঁর কাছে থাকা ‘পবিত্র জল’ ঢেলে! শ্রীলঙ্কার সে সময়কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী পবিত্র বান্নিয়ারাচ্চির এ প্রস্তাব বেশ পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু দুই মাস পর নিজে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসিইউ ঘুরে আসার পর পদাবনতি হয়েছে বান্নিয়ারাচ্চির।

বান্নিয়ারাচ্চির এ ঘটনার পর আর ‘পবিত্র জল’ প্রকল্প এগোয়নি। এদিকে হোয়াইট করোনায় আক্রান্ত হয়ে বেসরকারি এক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গতকাল সেখানেই মৃত্যুবরণ করেছেন ১২ বছর বয়সে ‘বিশেষ ক্ষমতা’ পাওয়ার দাবি তোলা এই ওঝা। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, কোভিড-১৯–এর টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তিনি। হোয়াইটের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন দীর্ঘদিন তাঁর চিকিৎসা নেওয়া দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন