আজ ৩৭ রানে ১ উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজ।
আজ ৩৭ রানে ১ উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজ।ছবি: আইপিএল

আগের ইনিংসেই ‘গোল্লা’ মেরেছিলেন। দলের টপ ও মিডল অর্ডার ঝড় তোলার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল, মহেন্দ্র সিং ধোনির কাজ ছিল সেটার পূর্ণতা দেওয়া। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে সে দায়িত্ব পূরণে ব্যর্থ হয়েছিলেন চেন্নাই সুপার কিংস অধিনায়ক। দুই বল খেলে শূন্য রানে ফিরেছিলেন।

এক ম্যাচ বিরতি দিয়ে আবার একই পরিস্থিতিতে আজ নামতে হয়েছিল ধোনিকে। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ১৪তম ওভারে নামেন ভারতের কিংবদন্তি অধিনায়ক। দলের রান তখন ৫ উইকেটে ১২৫।

ওভারপ্রতি ৯ করে তোলা এই রানরেট ধরে রাখা শুধু নয়, সে গতিকে বাড়িয়ে দলকে দুই শ এনে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল ধোনির। কিন্তু ধোনি পরীক্ষায় ফেল! তবে তাঁর দল একেবারে খারাপ করেনি। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৮৮ রান তুলেছে চেন্নাই।

বিজ্ঞাপন
default-image

ধোনির এই ব্যর্থতার আগে–পরে ব্যাটে-বলে দারুণ লড়াই হয়েছে আজ ওয়াংখেড়েতে। চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসেই রাজস্থানকে ধাক্কা দিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর স্লোয়ারে বোকা বনে ক্যাচ দিয়েছেন রুতুরাজ গায়কোয়াড়। প্রথম ওভারে মাত্র ৩ রান দেওয়া মোস্তাফিজকে অবশ্য পরের ওভারেই ভুগতে হয়েছে। মঈন আলীর সামনে পড়ে ওই ওভারে ১৩ রান দিয়েছেন মোস্তাফিজ।

তাঁর তৃতীয় ওভারটি ছিল ধোনির বিপক্ষে। সে ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়েছেন বাংলাদেশি পেসার। ইনিংসের শেষ ওভারে তাঁর বলে দুটি রানআউট হলেও দিয়েছেন ১৫ রান। ১ উইকেট পেয়ে, একটি রানআউট করিয়েও সব মিলিয়ে ৪ ওভারে দিয়েছেন ৩৭—মোস্তাফিজকে টেনেটুনে পাস মার্কই দেওয়া যায়!

রানরেট বাড়ানো না হোক, অন্তত ধরে রাখার দায়িত্ব নিয়ে নামা ধোনি পুরোপুরিই ব্যর্থ হয়েছেন আজ। ইনিংসের ১৪ ওভারে নামা এক ব্যাটসম্যানের যেভাবে খেলা উচিত, তার উল্টো কিছুই দেখা গেছে ধোনির ব্যাটে। প্রথম ছয় বলে মাত্র ১ রান করেছেন চেন্নাই অধিনায়ক।

default-image

রান তোলার প্রতি এরপর একটু মনোযোগ দিয়েছেন ধোনি। ১২ বলে ৭ রান তোলার পরই প্রথম চারের দেখা মিলল। ক্রিস মরিসকে চার মারার পরের ওভারে চেতন সাকারিয়ার প্রথম বলেই আবার চার মারলেন।

সাকারিয়া অবশ্য প্রতিশোধ নিতে সময় নেননি। পরের বলেই ধোনিকে এক্সট্রা কাভারে ক্যাচ তুলতে বাধ্য করলেন অফ কাটারে বিভ্রান্ত করে। ১৭ বলে কষ্টার্জিত ১৮ রান নিয়ে ফিরে গেলেন ধোনি। দলের রানরেটও ৯ থেকে ততক্ষণে সাড়ে আটের নিচে নেমে এসেছে। গৌতম গম্ভীরের দেওয়া পরামর্শ তাই বেশ ভালোভাবেই মনে পড়েছে।

গত ইনিংসে ব্যর্থ হওয়ার পর গম্ভীর বলেছিলেন, ধোনির আর সাতে নামা ঠিক নয়। আগের মতো আর নেমেই চার-ছক্কা যেহেতু মারতে পারেন না, ধোনির উচিত চার বা সর্বোচ্চ পাঁচে নামা। নেতৃত্ব দিতে চাইলে আগে নেমেই ব্যাট করা উচিত ধোনির—এমন এক খোঁচাও দিয়ে রেখেছিলেন গম্ভীর। আজ অন্তত সাবেক সতীর্থকে ভুল প্রমাণ করতে পারেননি ধোনি।

ধোনির ব্যর্থতার পরও চেন্নাইয়ের এত বড় স্কোরের রহস্য তাদের ব্যাটিং লাইনআপে। নয়ে ডোয়াইন ব্রাভো ও দশে শার্দুল ঠাকুর ব্যাট করেন এই দলে! এরই সুবিধা পেয়েছে চেন্নাই। কেউই বড় ইনিংস খেলেননি, কিন্তু ফাফ ডু প্লেসি (৩৩), মঈন আলী (২৬), সুরেশ রায়না (১৮), আম্বাতি রাইডু (২৭), ধোনি (১৮), স্যাম কারেন (১৩) ও ব্রাভোর (২০*) ছোট সব ইনিংসই দলকে ১৮০ রান পার করে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন