বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ডেভিড ওয়ার্নার
গত আইপিএলে ডেভিড ওয়ার্নারের ফর্ম একদমই ভালো ছিল না। ৬ ম্যাচে করেছিলেন সাকল্যে ১৯৩ রান। স্ট্রাইক রেট সন্তোষজনক ছিল না। যে ওয়ার্নার দুই মৌসুম ধরে ছিলেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক, বাজে ফর্মের জন্য তাঁকেই মূল একাদশ থেকেই বাদ দিয়ে দেয় হায়দরাবাদ। আইপিএলে হায়দরাবাদের যা কিছু অর্জন, সেটা ডেভিড ওয়ার্নারের সুবাদেই। দলটিকে বছরের পর বছর টেনেছেন। টানা পাঁচ মৌসুম ১৪০ স্ট্রাইক রেটে ৫০০-এর বেশি রান তোলার প্রায় অসম্ভব এক কীর্তি আছে তাঁর। ২০১৬ সালে দলকে আইপিএল জেতানোর পথে ৯০০-এর বেশি রান করেছেন। আইপিএল জেতানো অধিনায়কের এমন পরিণতি কেউ ভাবতে পারেননি। হায়দরাবাদের সঙ্গেও ওয়ার্নারের সম্পর্কেরও অবনতি ঘটেছে। নিঃসন্দেহে বলা যায়, হায়দরাবাদে আর থাকছেন না এই ওপেনার।

হায়দরাবাদের এই অনাদরের জবাব বিশ্বকাপে দুর্দান্তভাবে দিয়েছেন ওয়ার্নার। দলকে বিশ্বকাপ তো জিতিয়েছেনই, নিজে হয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। ৭ ম্যাচে ২৮৯ রান তুলেছেন ৪৮.১৬ গড় আর ১৪৬.৭০ স্ট্রাইক রেট নিয়ে। ৩২টা চার মারার পাশাপাশি ছক্কা হাঁকিয়েছেন দশটা।


ইনিংসের শুরুতে খেলানোর মতো একজন মারকুটে ওপেনার, যিনি অধিনায়ক হিসেবেও দুর্দান্ত; বিশেষ করে আইপিএলের যে দলগুলো নিয়মিত পারফর্ম করতে পারে এমন একজন অধিনায়ক খুঁজছে, তাঁদের জন্য ওয়ার্নার হতে পারেন আদর্শ এক সংযোজন। আগামী আইপিএলে এমনিতেও দুটি নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি আসছে, এ ছাড়া কলকাতা নাইট রাইডার্সের মতো বেশ কয়েকটা ফ্র্যাঞ্চাইজি এখনো অধিনায়কত্ব নিয়ে দোনোমনায় আছে। আগামী নিলামে ওয়ার্নারের দাম তাই বেশ ভালোই উঠবে, বলেই দেওয়া যায়।

default-image

চারিত আসালাঙ্কা (শ্রীলঙ্কা)
বাংলাদেশের সমর্থকদের কাছে নামটা মোটেও অপরিচিত নয়। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৭২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে এই আসালাঙ্কাই শেষ করে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের জয়ের আশা। আসালাঙ্কার দুর্দান্ত স্ট্রোক–প্লের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে যান বাংলাদেশের বোলাররা। শুধু বাংলাদেশের বিপক্ষেই নয়, বাকি ম্যাচগুলোতেও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন আসালাঙ্কা।

শ্রীলঙ্কা সুপার টুয়েলভ থেকে বিদায় নিলেও দলটার বেশ কিছু ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে একজন ছিলেন এই আসালাঙ্কা। ৬ ম্যাচে ৪৬.২০ গড় আর ১৪৭.১৩ স্ট্রাইক রেট নিয়ে রান করেছেন ২৩১। ২৩টা চার মারার পাশাপাশি এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ছক্কা হাঁকিয়েছেন ৯টি। ব্যাটিং শক্তি বাড়ানোর জন্য যেকোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি নিঃসন্দেহে আসালাঙ্কার দিকে নজর দেবে।

default-image

জস বাটলার (ইংল্যান্ড)
ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কী অবলীলায় না ধ্বংস করেছেন প্রতিপক্ষের বোলারদের।


৬ ইনিংসে ২৬৯ রান, গড় ৮৯.৬৬, স্ট্রাইক রেট ১৫১.১২, সর্বোচ্চ ১৩টি ছক্কা—ব্যাটিং পারফরম্যান্সের বিচারে এক ওয়ার্নার ছাড়া বাটলারের ধারেকাছেও নেই অন্য কেউ। ইংল্যান্ডের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সেঞ্চুরিটা এবারই পেয়েছেন বাটলার। এমনিতেই রাজস্থান রয়্যালসের পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ তিনি। যে দুজন খেলোয়াড় রাজস্থান ধরে রাখতে পারবে, তাঁদের মধ্যে একজন বাটলার হলে আশ্চর্যের কিছু থাকবে না। আর যদি ওই দুজনের মধ্যে বাটলার না থাকেন, তাহলে আইপিএলের বাকি যেকোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিই তাঁকে দলে চাইবে।

default-image

ডেভিড ভিসা (নামিবিয়া)
টি-টোয়েন্টি অঙ্গনে ডেভিড ভিসা আগে থেকেই পরিচিত মুখ। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলেছেন ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, তবে সে ক্যারিয়ারও লম্বা হয়নি। পাঁচ বছর পর আরেকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভিসা জাতীয়তা বদলে হয়ে গেছেন নামিবিয়ার। পুঁচকে দলটার সবচেয়ে বড় তারকা এই পেস বোলিং অলরাউন্ডারই। ৮ ম্যাচে রান করেছেন ২২৭, গড় ৪৫.৪০, স্ট্রাইক রেট ১২৭.৫২। ১৩ চারের পাশাপাশি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ১১টা।

বল হাতেও নামিবিয়ার অন্যতম বড় ভরসা ছিলেন ভিসা। ছয় উইকেট নিয়েছেন ৩৪.৬৬ গড় আর ৭.৪২ ইকোনমি নিয়ে। এর আগে বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলে গেলেও দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন না। এবার হয়তো সে অবস্থা বদলাতেও পারে!

default-image

ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (শ্রীলঙ্কা)
কী ব্যাট, কী বল—টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখেছে হাসারাঙ্গার ঝলক। লেগ স্পিনে প্রতি ম্যাচে গড়ে দুটো করে উইকেট নিয়েছেন, ৮ ম্যাচে ১৬টা। ইকোনমি রেট যেকোনো বোলারকে লজ্জায় ফেলে দিতে বাধ্য, মাত্র ৫.২০।

ব্যাট হাতেও মিডল অর্ডারে শ্রীলঙ্কার ‘বাতিঘর’ হয়ে ছিলেন এই হাসারাঙ্গা। ১৪৮.৭৫ গড়ে রান তুলেছেন ১১৯। কিছুদিন আগেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে আইপিএলে খেলে যাওয়া হাসারাঙ্গাকে নিয়ে এবার কাড়াকাড়ি পড়ে যাবে নিশ্চিত!

default-image

মিচেল মার্শ (অস্ট্রেলিয়া)
ফাইনাল ম্যাচে মিচেল মার্শ কিউই বোলারদের ওপর যেভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালালেন, তা দেখার পর যেকোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিই এই পেস বোলিং অলরাউন্ডারকে দলে চাইবে। আগে যে ব্যাটসম্যান ইনিংসের শেষ দিকে ব্যাট করতে নামতেন, এবারই তিন নম্বরে নেমে নিজের জাত চিনিয়েছেন।

৬ ম্যাচে ১৪৬.৮৫ স্ট্রাইক রেটে ১৮৬ রান তুলেছেন, পঞ্চম বোলার হিসেবে হাত ঘুরিয়েও বেশ সফল হয়েছেন। গোড়ালির চোটে দুই মৌসুম ধরে আইপিএলে হায়দরাবাদের হয়ে তেমন আলো ছড়াতে পারছেন না। এমনটা যে আগামীবার হবে না, সেটা তো মার্শের পারফরম্যান্সের বোঝা যাচ্ছে!

default-image

জিমি নিশাম (নিউজিল্যান্ড)
এবার নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ যে ধুমধাড়াক্কা ব্যাটসম্যানে ভরপুর ছিল, তা বলা যাবে না। পাঁচজন বিশেষজ্ঞ বোলারকে নিয়মিত খেলাতে এমনিতেই একজন ব্যাটসম্যান কম নিয়ে গোটা টুর্নামেন্ট খেলেছে কিউইরা, ফলে ইনিংসের শেষ দিকে ‘স্লগ’ ওভারে ঝড় তোলার দায়িত্বটা ছিল শুধু জিমি নিশামের ওপর।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে যে কাজ তিনি করেছেন দুর্দান্তভাবে। গত কয়েক মৌসুম আইপিএলে দল পেলেও নিয়মিত খেলতে পারেন না। আগামীবার প্রতিটি ম্যাচ খেলার দাবি নিয়েই আইপিএলে হয়তো খেলতে যাবেন ৭ ম্যাচে ১৭৫.৫১ গড়ে রান তোলা নিশাম।

default-image

অ্যাডাম জাম্পা (অস্ট্রেলিয়া)
ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে কবজির স্পিনারদের দাপট আজকের নয়। সে কথাটা এবার সবচেয়ে ভালভাবে প্রমাণ করেছেন অ্যাডাম জাম্পা। বিশ্বজয়ী অস্ট্রেলিয়ার বোলিং বিভাগে সবচেয়ে ভালো পারফর্ম এই জাম্পাই করেছেন।

৭ ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন ১৩টা, প্রতি ওভারে রান দিয়েছেন মাত্র ৫.৮১ করে। প্রতি ১১.৫ বলে এক উইকেটপ্রাপ্তি তাঁকে ইনিংসের মাঝপথে দলের মূল অস্ত্র বানিয়ে দিয়েছে। ইনিংসের মাঝপথে প্রতিপক্ষের রানের গতিতে লাগাম দেওয়ার জন্য জাম্পাকে তাই যেকোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিই চাইবে।

default-image

ট্রেন্ট বোল্ট (নিউজিল্যান্ড)
আইপিএলের হয়ে গত কয়েক মৌসুমে বোল্ট মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে যা করছেন, তাতে এই বিশ্বকাপে অত ভালো না করলেও বোল্ট আইপিএলে দল পেতেন। সেই বোল্ট বিশ্বকাপেও কিউই বোলিং আক্রমণের প্রধান অস্ত্র ছিলেন। কিউই এ গতিতারকা পেসের সঙ্গে সুইংটাও মেশাতে পারেন ভালোভাবে। এ বিশ্বকাপে অন্য যেকোনো বোলারের চেয়ে পাওয়ারপ্লেতে সবচেয়ে বেশি সুইং করিয়েছেন বোল্ট।

কিউইদের হতাশার ফাইনালে এক বোল্টই নিজের কাজটা ঠিকঠাক করেছিলেন, ৪ ওভার বোলিং করে ১৮ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। সব মিলিয়ে ৭ ম্যাচে পেয়েছেন ১৩ উইকেট, ইকোনমি ৬.২৫। আইপিএলের কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি এখন বোল্টকে পায়, সেটাই দেখার বিষয়!

default-image

লিয়াম লিভিংস্টোন (ইংল্যান্ড)
কী টপ অর্ডার, কী মিডল অর্ডার—দলের চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো পজিশনে নেমে বেশ ঝড় তুলতে পারেন ইংল্যান্ডের এই ব্যাটসম্যান, এবার বিশ্বকাপে যার ঝলক দেখা গেছে। ১৫৮.৬২ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছেন, অধিনায়ক এউইন মরগান প্রয়োজনমতো তাঁর লেগ স্পিনটাও ব্যবহার করেছেন সময়–সময়।

গত দুই-তিন বছর এক রাজস্থান রয়্যালস ছাড়া কেউ তাঁর ওপর তেমন আগ্রহ দেখায়নি। একবার ৫০ লাখ রুপিতে, আরেকবার ৭৫ লাখ রুপিতে একই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে নাম লিখিয়েছিলেন লিভিংস্টোন। এবার হয়তো পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতেও পারে!

default-image

ম্যাথু ওয়েড (অস্ট্রেলিয়া)
অস্ট্রেলীয় দলে নিজের জায়গা নিয়ে লড়ছিলেন ওয়েড। একই জায়গায় তাঁর শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কমপক্ষে তিনজন—অ্যালেক্স ক্যারি, পিটার হ্যান্ডসকম্ব আর টিম পেইন। এমনকি স্কোয়াডে থাকা জশ ইংলিশকেও অনেকে ওয়েডের জায়গায় একাদশে নেওয়ার দাবি তুলেছিলেন। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ওয়েড পিটার নেভিলের কাছে জায়গা হারিয়েছিলেন একেবারে শেষ মুহূর্তে। ওয়েড নিজেও ভেবেছিলেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর আর হয়তো অস্ট্রেলিয়ার জার্সি গায়ে তোলা হবে না তাঁর। সেই এক ম্যাচেই নিজের ভাগ্য কী দুর্দান্তভাবেই না বদলে দিলেন এই বাঁহাতি! অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ইনিংসের শেষে ঝড় তোলার দায়িত্বটা এ বিশ্বকাপে তাঁকে আর স্টয়নিসকে দেওয়া হয়েছিল।

পাকিস্তানের বিপক্ষে মারকাটারি এক ইনিংস খেলে দলকে যে শুধু ফাইনালেই তুলেছেন, তা নয়, আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মনোযোগের কেন্দ্রেও চলে এসেছেন নিশ্চিত। ১৬৪.৪৪ স্ট্রাইক রেট নিয়ে শেষ করেছেন টুর্নামেন্ট, শিরোপা তো জিতেছেনই। বছর দশেক আগে একবার শুধু দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে আইপিএল খেলার অভিজ্ঞতা ছিল ওয়েডের। ১০ বছরের অপেক্ষা ফুরোল বলে!

default-image

ড্যারিল মিচেল (নিউজিল্যান্ড)
এবার বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডারের অন্যতম ভরসা ছিলেন এই ড্যারিল মিচেল। ৭ ম্যাচে ২০৮ রান তুলেছেন, ১৪০.৫৪ স্ট্রাইক রেটে। ১৫টা চার মারার পাশাপাশি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ১০টা।

ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খেলার তেমন অভিজ্ঞতা নেই মিচেলের, তবে এই বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স দেখে মিচেলের প্রতি যেকোনো দলই আগ্রহী হতে পারে, ইনিংসের শুরুতে ঝড় তোলার জন্য।

default-image

এইডেন মার্করাম (দক্ষিণ আফ্রিকা)
মার্করামের অবস্থাও মিচেলের মতোই। মিচেলও কখনো আইপিএল খেলেননি, মার্করামও গত মৌসুমের আগপর্যন্ত আইপিএলের স্বাদ পাননি। গত মৌসুমেও হয়তো পেতেন না, যদি সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হওয়া আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বে পাঞ্জাব কিংসের হয়ে খেলার জন্য রাজি হতেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান ডেভিড ম্যালান। ম্যালানের জায়গাতেই মার্করামকে দলে ঢুকিয়েছিল পাঞ্জাব।

মার্করামও খেলেছেন নিয়মিত। তবে এবার বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মার্করাম যেমন খেলেছেন, তাতে নিশ্চিত এবার হয়তো কারোর বিকল্প হিসেবে আইপিএলের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ঢুকতে হবে না মার্করামকে। ৫ ম্যাচে ১৬২ রান তুলেছেন ১৪৫.৯৪ স্ট্রাইক রেটে।

default-image

ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস (দক্ষিণ আফ্রিকা)
আনরিখ নরকিয়া বা কাগিসো রাবাদা নন, এ বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের সফলতম বোলার ছিলেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। চোটের কারণে বলের গতি কমিয়ে দিয়েছেন আগেই, লাইন-লেংথের দিকেই এখন বেশি গুরুত্ব দেন এই তারকা। আর সে সুবিধা এবার দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়েছে পুরোদমে, ইনিংসের শেষ ওভারগুলোতে। পাঁচ ধরনের স্লোয়ার ডেলিভারি করতে পারেন, যে কারণে প্রিটোরিয়াস ডেথ ওভারগুলোতে অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার বড় ভরসার জায়গা হয়ে ছিলেন।

৫ ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন ৯টি, ডেথ ওভারে বল করেন সে হিসেবে ৬.৮৮ ইকোনমিকে সহনীয়ই মনে হবে। ইনিংসের শেষ ওভারগুলোতে বল করানোর জন্য আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নজরে তাই প্রিটোরিয়াসও থাকবেন।

default-image

জশ হ্যাজলউড (অস্ট্রেলিয়া)
এবার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে অন্য কোনো ক্রিকেটার হ্যাজলউডের চেয়ে সফল সময় কাটিয়েছেন কি না, প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। মাসখানেক আগেই চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আইপিএলের শিরোপা জিতেছেন, এক মাস পরেই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জিতেছেন বিশ্বকাপের শিরোপা এবং দুই শিরোপা জয়ের পেছনেই রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিশ্বকাপ ফাইনালের কথাই ধরুন।

কেইন উইলিয়ামসন যেখানে স্টার্ক-কামিন্সদের কচুকাটা করছিলেন, এই এক হ্যাজলউডের বল খেলতেই সমস্যা হচ্ছিল কিউইদের। চার ওভার বল করে মাত্র ১৬ রান দিয়ে উইকেট তুলে নিয়েছেন তিন-তিনটি উইকেট। গোটা টুর্নামেন্টে উইকেট নিয়েছেন ১১টি, প্রতিনিয়ত উন্নতি করছেন ক্রিকেটের এই সংস্করণে। চেন্নাই যদি তাঁকে ছেড়েও দেয়, নতুন দলের অভাব হবে না হ্যাজলউডের।

default-image

আনরিখ নর্কিয়া (দক্ষিণ আফ্রিকা)
টি-টোয়েন্টিতে নর্কিয়া যে কতটা দুর্দান্ত, সেটা দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্সেই বোঝা যায়। এ বিশ্বকাপে সেটা বুঝেছে দক্ষিণ আফ্রিকাও। এ বিশ্বকাপে ১১.৫৫ গড়ে ১১টা উইকেট শিকার করেছেন নর্কিয়া। ইকোনমিটাও চোখধাঁধানো ৫.৩৭।

এমনকি তাঁর ৫৬ শতাংশেরও বেশি বলে কোনো রান নিতে পারেননি প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা। গতি দিয়ে আইপিএলের যে ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিপক্ষকে বধ করতে চাইবে, নর্কিয়া তাঁদের জন্য বেশ ভালো এক সংযোজন হতে পারেন।

default-image

জশ লিটল (আয়ারল্যান্ড)
প্রথম রাউন্ডের গেরোই এবার পেরোতে পারেনি আইরিশরা। কিন্তু সুপার টুয়েলভে না উঠলেও জশ লিটল দেখিয়ে দিয়েছেন, বাঁহাতি পেস দিয়ে ব্যাটসম্যানদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য আছে তাঁর।

আইরিশদের হয়ে লিটলের পারফরম্যান্স দেখে লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগের দল ডাম্বুলা জায়ান্টস এর মধ্যেই তাঁকে দলে নিয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৩ রানে চার উইকেট নেওয়া এই পেসারকে শুধু লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগেই হয়, সামনে দেখা যেতে পারে আইপিএলেও।

default-image

মার্ক ওয়াট (স্কটল্যান্ড)
তিন বছর আগে এডিনবরায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের ঐতিহাসিক ৬ রানের জয়ে আলোচনায় আসেন ওয়াট। ৫৫ রানে ৩ উইকেট নেন এ স্পিনার। এবার বিশ্বকাপেও আলো ছড়িয়েছেন এই স্পিনার। এক পাকিস্তান ছাড়া এই স্কটিশ স্পিনারের বিপক্ষে কোনো দলই এবার সেভাবে রান তুলতে পারেনি।

এক পাকিস্তানের বিপক্ষেই চার ওভার বল করে ৪১ রান দিয়েছেন, বাকি কোনো ম্যাচে ২৩-এর বেশি রান দেননি। আর পাকিস্তানের কোনো খেলোয়াড় যেহেতু আইপিএলে খেলেন না, সেহেতু এবার মার্ক ওয়াটকে নেওয়ার মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিরও আবির্ভাব ঘটতে পারে।

default-image

রুবেন ট্রাম্পেলমান (নামিবিয়া)
ছেলেদের টি–টোয়েন্টি ম্যাচে প্রথম ওভারে অন্তত ৩ উইকেট নেওয়া একমাত্র বোলার এই ট্রাম্পেলমান। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে যে রেকর্ডটা করেছেন এই পেসার। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতির আশপাশে বল করেন ট্রাম্পেলমান।

ভেতরে–বাইরে দুই দিকেই সুইং করাতে পারেন। নতুন বলে তাঁকে খেলাটা একটু অসুবিধাই। এবার আট ম্যাচ খেলে ছয় উইকেট নিয়েছেন ৭.৬৭ ইকোনোমি রেখে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন