বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দুটি টি-টোয়েন্টি খেলতে পাকিস্তান যাওয়ার কথা ছিল ইংল্যান্ডের পুরুষ দলের। আর নারী দলের খেলার কথা ছিল তিনটি ওয়ানডে। শেষ পর্যন্ত হচ্ছে না কোনোটিই। রমিজ বলছেন, এ দুঃসময়ে তাঁদের পাশে একটু দাঁড়ানো উচিত ছিল ইসিবির, ‘এটা আরেকটি ক্রিকেট বোর্ডকে সহায়তা করার মতো ব্যাপার ছিল। তাদেরকে মাঠের পাশেই জাতীয় হাই পারফরম্যান্স সেন্টারেও রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। এটা আসলে একটা ক্রিকেট সফরের চেয়েও বেশি কিছু ছিল। তবে এখন মনে হচ্ছে, তারা আমাদের ব্যবহার করে ফেলে দিয়েছে। হাত ধরে একটু পাশে দাঁড়াতে পারত তারা, একটু সহানুভূতি দেখাতে পারত। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড এভাবে চলে যাওয়ার পর এটা দরকার ছিল আমাদের। তবে ইসিবির কাছ থেকে সেটা পাইনি আমরা।’

default-image

এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা অস্ট্রেলিয়া আসবে কি না, সেটা নিয়েও নিজের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন রমিজ, ‘অবশ্যই ইংল্যান্ডের না আসার সিদ্ধান্তে আমি হতাশ, তবে এটা প্রত্যাশিতই ছিল। কারণ, পশ্চিমা গ্রুপটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে এককাট্টা হয়েছে। এখন আপনি নিরাপত্তার যেকোনো হুমকি বা নিজের ধারণার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আসলে রাগই হচ্ছে আমার। প্রথমে নিউজিল্যান্ড কিছু না বলেই চলে গেল। এরপর ইংল্যান্ড এটা করল। আসলে আমাদের জন্য এটা একটা শিক্ষা। কারণ, তারা এলে আমরা নিজেদের সীমার বাইরে গিয়ে হলেও জায়গা করে দিই, তাদের তোয়াজ করি। আবার সেখানে গিয়ে কঠোর কোয়ারেন্টিন মেনে চলি, তাদের ভর্ৎসনা শুনি। এটাই শিক্ষা আমাদের। এখন থেকে নিজেদের স্বার্থেই যাব।’

এর আগে আইসিসিতে নিউজিল্যান্ডকে ‘দেখে নেওয়ার’ কথা বলেছিলেন রমিজ। তবে গতকাল বলেছেন, তিনিও জানেন এটাতে কিছু যায় আসবে না, ‘কিছু হবে না। নিজেদের আর্থিক দিকটা নিজেদেরই দেখতে হবে আমাদের। পাকিস্তানের অনেক সম্ভাবনা আছে। বিশ্বের সেরা দল হয়ে উঠতে হবে আমাদের। যাতে দলগুলো না আসার কোনো অজুহাত দাঁড় করাতে না পারে। পারফরম্যান্স দিয়েই সব পুষিয়ে দিতে হবে। সর্বোচ্চ এটাই করতে পারি আমরা। তবে কারও সহায়তা চাওয়া, পরামর্শ চাওয়া, এ পর্যায়ে কারও ভেতর একটু বোধের উদয় ঘটানোটা বেশ কঠিন।’

default-image

নিউজিল্যান্ড চলে যাওয়ার পর ইংলিশ ক্রিকেটাররা হুট করে ভয় পেয়ে গেছেন, এটাও মানতে নারাজ পিসিবি চেয়ারম্যান, ‘এটার মানে কী? আর পিএসএল খেলতে তারা পাকিস্তান আসে, বাংলাদেশে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলতে যায়। তখন তো কিছু হয় না!’
‘এটা আসলে অসাধারণ একটা বৈপরীত্য। আপনি মানসিক উদ্বিগ্নতার কথা বলছেন, অবসাদের কথা বলছেন, খেলোয়াড়দের হুট করে ভয় পেয়ে যাওয়ার কথা বলছেন। অথচ এখান থেকে দেড় ঘণ্টার দূরত্বে বিশ্বকাপের আগে জৈব সুরক্ষাবলয়ের কঠিন পরিবেশে নিজেদের বন্দী করে রাখছে তারা দুবাইয়ে। তারা সে টুর্নামেন্টটায় খেলছে। এসব দেখে তো নিজেদের ছোট মনে হয়। সত্যি বলতে কী, নিজেদের সরিয়ে নেওয়া কোনো কিছুর জবাব হতে পারে না,’—রমিজ এভাবেই প্রকাশ করেছেন ক্ষোভ।

২০০৫ সালের পর এবারই প্রথম পাকিস্তান সফর করার ছিল ইংল্যান্ডের। আইসিসির এফটিপি (ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম) অনুযায়ী, ২০২২ সালে আবারও পাকিস্তান সফর করার কথা ছিল ইংল্যান্ডের। তবে রমিজ বলছেন, এবার আর ভরসা করতে চান না তাঁরা। আগে থেকেই রাখতে চান বিকল্প ব্যবস্থা। এবারও যেমন নিউজিল্যান্ড সফর বাতিল করে যাওয়ার পর বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার দ্বারস্থ হয়েছিল পিসিবি। তবে এ দুই দলের পক্ষেই এতো সংক্ষিপ্ত সময়ে পাকিস্তান সফর করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ দ্বিতীয় সারির একটা দলও পাঠাতে চেয়েছিল বলে জানিয়েছেন রমিজ।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন