বাবর আজমের দুর্দান্ত ইনিংস সেদিন ঢেকে দিয়েছিল পাকিস্তানি বোলারদের ব্যর্থতা।
বাবর আজমের দুর্দান্ত ইনিংস সেদিন ঢেকে দিয়েছিল পাকিস্তানি বোলারদের ব্যর্থতা।ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের বোলারদের ওপর ভীষণ চটেছিলেন রমিজ রাজা। বাবর আজমের ব্যাট ‘ঢাল’ হয়ে উঠেছিল বলে রক্ষা। নইলে হারিস রউফ-ফাহিম আশরাফদের নিয়ে রমিজ কী বলতেন কে জানে! সেদিন বাবরের সেঞ্চুরিই বাঁচিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের বোলারদের। রমিজ রাজার কথা শুনলে অন্তত এমনই মনে হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকা-পাকিস্তান চতুর্থ টি-টোয়েন্টি আজ। আপাতত চার ম্যাচের এ সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে পাকিস্তান। সেটি সম্ভব হয়েছে সেঞ্চুরিয়নে পরশু তৃতীয় ম্যাচে বাবরের দারুণ এক সেঞ্চুরির জন্য। তাঁর ৫৯ বলে ১২২ রানের ইনিংসে প্রোটিয়াদের ৫ উইকেটে ২০৩ রানের পুঁজি টপকে যেতে সমর্থ হয় পাকিস্তান। মোহাম্মদ রিজওয়ানের ব্যাট থেকেও এসেছে ৪৭ বলে ৭৩ রানের দারুণ এক ইনিংস।

টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানি বোলিংয়ের বিপক্ষে রানের গতি বাড়ানো কঠিন। ২০০ রান তোলা তো আরও কঠিন। এ সংস্করণে গত সাত বছরের মধ্যে প্রথম দল হিসেবে পাকিস্তানের বিপক্ষে সে ম্যাচে ২০০ রানের দেখা পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। পাকিস্তানের বোলাররা কতটা বাজে বোলিং করেছেন, তা বুঝিয়ে দেবে আরও একটি পরিসংখ্যান—টি-টোয়েন্টিতে (তৃতীয় ম্যাচে) এই প্রথম পাকিস্তানের পাঁচ বোলার মিলে নিজেদের ৪ ওভারের কোটায় ওভারপ্রতি গড়ে রান দিয়েছেন ৯-এর বেশি। পাকিস্তানের সাবেক ব্যাটসম্যান ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকার রমিজের তাই মেজাজ হারানো অস্বাভাবিক কিছু নয়।

default-image
বিজ্ঞাপন

সংবাদমাধ্যমকে রমিজ বলেন, ‘ইনিংস বিরতির সময় বিশ্লেষণে আমি পাকিস্তানের বোলারদের প্যান্ট টেনে খুলে ফেলতে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু বাবর আজমের ইনিংসে মেজাজ ঠান্ডা হয়। বাবর তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস খেলেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন ইনিংস আপনি দেখবেন না।’

পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ও দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া বাবর গড়েছেন আরেকটি বড় কীর্তিও। তৃতীয় ম্যাচটি ছিল পাকিস্তান অধিনায়কের ৫০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি। ৫০ ম্যাচে ১ হাজার ৯১৬ রান বাবরের। ২০ ওভারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ৫০ ম্যাচে এত রান করতে পারেননি অন্য কেউ।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরি ও ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস খেলার রেকর্ডও এখন বাবরের। দুটি রেকর্ডেরই মালিক ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জোহানেসবার্গে ১১৭ রান করার পথে ৫০ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন গেইল।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন