default-image

দৃশ্যটা ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে চিরায়ত। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ। ৫১ রানে ব্যাট করছিলেন পাকিস্তানের ওপেনার আমির সোহেল। ১৫তম ওভারে ভেঙ্কটেশ প্রসাদের করা অফ স্টাম্পের বাইরে খাটো লেংথের বল এক্সট্রা কাভার দিয়ে চার মারেন তিনি। এরপর ব্যাট উঁচিয়ে ভারতীয় পেসারকে কিছু একটা বলেন আমির সোহেল। পরের বলেই মধুর প্রতিশোধ! প্রসাদের বলে বোল্ড! আঙুল তুলে আমির সোহেলকে ড্রেসিং রুমের পথ দেখান প্রসাদ।

২৫ বছর পরেও সেই ঘটনা নিয়ে কথা থামেনি। এবার যেমন পাকিস্তানের এক সংবাদকর্মীর সঙ্গে কথার লড়াই হলো প্রসাদের। ভারতের সাবেক এ পেসার দারুণ জবাবই দিয়েছেন হাম টিভি ও পিটিভিতে কাজ করা সংবাদকর্মী নাজিব উল হাসনাইনকে। কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে সেই ঘটনার ছবি কাল টুইটারে পোস্ট করেন ভারতের হয়ে ৩৩ টেস্ট ও ১৬১ ওয়ানডে খেলা প্রসাদ। দুটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। এক ছবিতে আমির সোহেল তাঁকে ব্যাট দিয়ে সীমানার বাইরে যাওয়া বল দেখাচ্ছেন। দ্বিতীয় ছবিটি তাঁকে বোল্ড আউট করার দৃশ্য। ছবির ক্যাপশনে প্রসাদ লিখেছেন, ‘বেঙ্গালুরুতে ১৪.৫ (ওভারে) আমির সোহেলের বিপক্ষে আমি।’ প্রসাদ এরপর হ্যাশট্যাগ দিয়ে লিখেছেন ‘আমি ইন্দিরা নগরের গুন্ডা।’

বিজ্ঞাপন

এই হ্যাশট্যাগটি টুইটারে সম্প্রতি ঝড় তুলেছে। সেটি ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান রাহুল দ্রাবিড়ের একটি টিভি বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে। নম্রতা ও ভদ্রতার জন্য খ্যাতি কুড়ানো দ্রাবিড়কে বিজ্ঞাপনে রগচটা হিসেবে দেখা যায় এবং ব্যাট উঁচিয়ে তিনি ‘আমি ইন্দিরা নগরের গুন্ডা’ কথাটা বলেন। সে যা–ই হোক, প্রসাদের এই টুইটে তাঁকে খোঁচা মেরে পাকিস্তানি সংবাদকর্মী নাজিব লেখেন, ‘প্রসাদের ক্যারিয়ারে এটি একমাত্র অর্জন।’

১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ভারতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন প্রসাদ। স্লোয়ার এবং দুই দিকেই সুইং করাতে পারতেন। পেসার হিসেবে জাভাগাল শ্রীনাথের সঙ্গে বেশ ভালো একটা জুটি গড়ে উঠেছিল প্রসাদের। টেস্টে ৯৬ উইকেট এবং ওয়ানডেতে ১৯৬ উইকেট নেওয়া সাবেক এ পেসার দাঁতভাঙা জবাবই দেন পাকিস্তানি সংবাদকর্মীকে। প্রত্যুত্তরে প্রসাদ লেখেন, ‘নাহ, নাজিব ভাই। কিছু অর্জন পরের দিকেও জমিয়ে রেখেছিলাম। ইংল্যান্ডে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলাম। তারা ২২৮ রান তাড়া করতে পারেনি। সৃষ্টিকর্তা আপনার সহায় হোন।’

default-image

বেঙ্গালুরুতে ১৯৯৬ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে প্রসাদের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল, তা পরে খুলে বলেছিলেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে গত বছর ঘটনাটা খুলে বলেছিলেন প্রসাদ, ‘বাউন্ডারি মেরে সোহেলের উচিত ছিল ক্রিজে ফিরে যাওয়া। কিন্তু তারপর বাক্যবিনিময় চলে। ও এমন একটা ভঙ্গি করে যা মোটেই মেনে নেওয়ার নয়। পুরো দেশ, মাঠে থাকা দর্শকেরা এবং অবশ্যই আমি, কেউই তা সহ্য করতে পারিনি। আমার রক্ত তো টগবগ করে ফুটছিল। আর আমাদের তখন উইকেটের দরকারও ছিল।’ আমির সোহেল নাকি ব্যাট উঁচিয়ে প্রসাদকে বলেছিলেন, ‘...এভাবেই চার মারব।’ পরের বলেই তাঁকে বোল্ড করেন প্রসাদ। এরপর আঙুল তুলে পাকিস্তানি ওপেনারকে ড্রেসিং রুমের পথ দেখিয়ে দেন তিনি। সে ম্যাচে ৪৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন প্রসাদ। আমির সোহেল ছাড়াও ইজাজ আহমেদ ও ইনজামাম–উল–হককে আউট করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন