default-image

ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যাচটা কীভাবে হেরে গেল পাকিস্তান—এ নিয়ে আক্ষেপ পাকিস্তানজুড়েই। টেস্টের চার দিন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছড়ি ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে হেরে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না পাকিস্তানের অনেক সাবেক ক্রিকেটার। পাকিস্তানের কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ওয়াসিম আকরামের ক্ষোভটা অধিনায়ক আজহার আলীর ওপরই। তিনি মনে করেন ম্যাচের শেষ দিকে আজহারের ভুলেই পাকিস্তানের কাছ থেকে ম্যাচের লাগামটা চলে গেছে। তিনি অধিনায়ক বদলের কথাও বলেছেন।

তবে পাকিস্তান থেকে সমালোচনার তির ছুটে এলেও ইংল্যান্ড থেকে সহমর্মিতার ঢালই পাচ্ছেন আজহার। সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল আর্থারটন অবশ্য আজহারের পক্ষেই দাঁড়িয়েছেন। তিনি মনে করেন এমন চমৎকার একটা ম্যাচের পর আজহারকে নিয়ে এসব কথাবার্তা বলা অবিচার।

দুই ফাস্ট বোলার শাহীন শাহ আফ্রিদি আর নাসিম শাহকে বেশি ব্যবহার না করা, লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহকে দেরি করে আক্রমণে আনা...ম্যাচের শেষ দিকে কিছু কৌশলগত ভুল আজহার করেছিলেন বলে মনে করেন ওয়াসিম আকরাম। পেসারদের সঠিক পরামর্শও নাকি দিতে পারেননি পাকিস্তানি অধিনায়ক। আকরামের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন বেশ কয়েকজন সাবেক তারকাই।

কিন্তু আথারটনের মত আকরামের ১৮০ ডিগ্রি বিপরীতে। আজহারের প্রতি এই সমালোচনাকে তাঁর চোখে ‘অবিচার’ মনে হচ্ছে জানিয়ে আথারটন বললেন, ‘প্রথমত পাকিস্তান টেস্টের বেশির ভাগ সময় দুর্দান্ত খেলেছে। জয়ই ছিল প্রত্যাশিত। এ ধরনের একটা ম্যাচ যখন কোনো দল শেষ মুহূর্তে হেরে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই শেষের অংশটুকুর প্রতি সবার দৃষ্টি পড়ে। শেষটা কেন ভালো হলো না, সেটি নিয়ে কথাবার্তা হয়। এটা সহজ ব্যাপারই। কিন্তু গোটা টেস্টের দিকে তাকালে দেখা যায়, পাকিস্তান ওল্ড ট্রাফোর্ডে কতটা ভালো খেলেছে।’

তিনি এই ম্যাচে পাকিস্তানের ভালো খেলার ব্যাপারটিতে সবার দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, ‘আমি যদি আজহারের প্রসঙ্গে কথা বলি তাহলে আমি ম্যাচে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স নিয়েই কথা বলতাম। পাকিস্তানেরও উচিত নেতিবাচক দিকগুলোর দিকে না তাকানো।’

ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রথম ইনিংসে ভালো লিড পেয়েও দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যর্থতাটা বড় হয়েই দেখা দিচ্ছে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে। ইংল্যান্ডকে ২৭৭ রানের লক্ষ্য দিয়ে ১১৭ রানে ৫ উইকেট ফেলে দেওয়ার পরেও ৩ উইকেটে হারে অনেকেই মনে করেন বড় একটা সুযোগ হারিয়েছে পাকিস্তান। আজহারকে লক্ষ্যবস্তু বানানো আরও সহজ হচ্ছে তাঁর পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়েই। দুই ইনিংসেই ব্যাট হাতে ব্যর্থ তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন