একজন হঠাৎ করে ওয়ানডে দলের দায়িত্ব পেয়ে যাওয়া তরুণ অধিনায়ক। অন্যজন দলের উইকেটকিপার ও টেস্ট দলের অধিনায়ক। জেসন হোল্ডার ও দিনেশ রামদিন। এ দুজনের সঙ্গে যোগ দিলেন দুই ধরনের ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক অলরাউন্ডার ড্যারেন স্যামি। ম্যাচ শেষে তিনজনকেই একসঙ্গে দেখা গেল। হাসিমুখে গলাগলি করে মাঠ ছাড়ছেন। পাকিস্তানকে হারানোর হাসি। আইরিশদের কাছে প্রথম ম্যাচে হারের পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর উচ্ছ্বাস। যে হাসি, যে উচ্ছ্বাস মাত্র ৭ ঘণ্টা আগেও দেখবে বলে ভাবেনি বেশির ভাগ ক্যারিবীয় সমর্থক।
১৫০ রানের জয়! ওয়ানডে ইতিহাসে রানের হিসাবে এর চেয়ে বড় ব্যবধানে পাকিস্তানকে কখনো হারাতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বিশ্বকাপে পাকিস্তানও কখনো হারেনি এর চেয়ে বড় ব্যবধানে। অথচ ক্রাইস্টচার্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের আধাআধি সময়েও বোঝা যায়নি ম্যাচটা এমন একতরফা হতে যাচ্ছে!
৩৬ ওভার পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৩ উইকেটে ১৬৭। ফিরে গেছেন ক্রিস গেইল, ডোয়াইন স্মিথ আর মারলন স্যামুয়েলস। ড্যারেন ব্রাভো আহত অবসর। এ অবস্থায় কে বাজি ধরবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে! কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের বাকি ১৪ ওভার আর পাকিস্তান ব্যাট করতে নামার পর প্রথম ৪ ওভারেই বদলে গেল পুরো দৃশ্য। লেন্ডল সিমন্স, দিনেশ রামদিন আর আন্দ্রে রাসেলের ব্যাটে শেষ ১৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলল ১৪৩ রান! সিমন্স-রামদিন দুজনেই ফিফটি করেছেন এক শর ওপর স্ট্রাইকরেটে, তবে পাকিস্তানি বোলারদের কচুকাটা করেছেন রাসেল। ১৩ বলে অপরাজিত ৪২, আর দু-একটা বল পেলে হয়তো আগের দিন ম্যাককালামের গড়া বিশ্বকাপে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ডটাই ভেঙে দিতেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অলরাউন্ডার। তাঁর টর্নেডো ইনিংসেই শেষ ৬ ওভারে ৮৯ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ!
পাকিস্তানের জন্য ম্যাচটা শেষ হয়ে যায় রান তাড়ার শুরুতেই। জেরোম টেলরের করা প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই নাসির জামশেদ নেই, ষষ্ঠ বলে ইউনিস খান। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে আবার হারিস সোহেল আউট। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে আহমেদ শেহজাদ যান হোল্ডারের বলে সিমন্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে। স্কোরবোর্ডটাকে অবিশ্বাস্য দেখাচ্ছিল—১/৪! পাকিস্তান এরপর ঘুরে দাঁড়াতে পারলে সেটা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক নতুন মহাকাব্যের জন্ম দিত। মিসবাহ-উল-হক, উমর আকমল আর শহীদ আফ্রিদিরা সেটা পারেননি। ম্যাচ জয়ের আশা জাগানো দূরের কথা, চেষ্টা করে গেছেন সম্মানজনকভাবে হারতে।
শেষ পর্যন্ত ১৬০ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ায় সেটাও হয়নি। স্টার স্পোর্টস।
১/৪
১ রানেই পড়েছে পাকিস্তানের প্রথম ৪ উইকেট। ওয়ানডেতে এটি প্রথম ঘটনা। এর আগে ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় কানাডা। ২০০৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের চতুর্থ উইকেট পড়ে ৫ রানে।
১৫০
বিশ্বকাপে রানের হিসাবে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় হার। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে বড় জয়।
৫১
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫১ দিনেশ রামদিনের। ৩০০ রানের দলীয় ইনিংসে সর্বনিম্ন।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন