default-image
পাকিস্তান দলে সিনিয়র ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ওয়াকার ইউনুস। ক্যারিয়ার লম্বা করতে সিনিয়র ক্রিকেটাররা সঠিক সময়ে অবসর নেন না বলেও অভিযোগ তুলেছেন কিংবদন্তি এ পেসার


পাকিস্তানের সিনিয়র ক্রিকেটাররা সেরা সময় পেরিয়ে গেলেও অযথাই ক্যারিয়ার লম্বা করতে থাকেন—এমন মন্তব্য কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনুসের। এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও উঠতে পারেনি পাকিস্তান। বিদায় নিয়েছে পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম হয়ে। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে বাজে ফল এড়াতে চাইলে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ও ফর্মের ব্যাপারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন নব্বইয়ের দশক মাতানো এই তারকা ফাস্ট বোলার।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের বাজে ফিটনেস নিয়ে কথা উঠেছিল। পাকিস্তানের আরেক পেস কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম এ জন্য ড্রেসিংরুমে ‘বিরিয়ানি’ খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে বলেছিলেন ক্রিকেটারদের। এবার সিনিয়র ক্রিকেটারদের ধুয়ে দিলেন ওয়াকার। নির্দিষ্ট করে কোনো ক্রিকেটারের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও আমাদের বিশ্বকাপ দল চূড়ান্ত ছিল না। বড় সমস্যা হলো সিনিয়র খেলোয়াড়েরা অযথাই ক্যারিয়ার লম্বা করার চেষ্টা করে, এমন কেউই নেই যে তাদের কড়া ভাষায় জানিয়ে দেবে, অবসর নেওয়ার এটাই সময়। এসব আমরা অনেক বছর ধরেই দেখছি।’

এবার বিশ্বকাপে পাকিস্তান ভালো পারফর্ম করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির দু-একজন সাবেক ক্রিকেটার। গ্রুপ পর্বে শেষ চার ম্যাচ জেতার ভিত্তি করে অনেকেই এ ব্যাপারে একমত। কিন্তু ওয়াকার একমত হতে পারেননি। দেশটির সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এ অধিনায়ক বলেন, ‘আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওভারে আমরা যেভাবে ভুগেছি তা হওয়া উচিত নয়। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো খেলোয়াড় নির্বাচনে ফিটনেস, জ্যেষ্ঠতা এসব ব্যাপারে আপস করে নেই।’ বিশ্বকাপ চলাকালে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ ও মোহাম্মদ হাফিজের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিশ্লেষকেরা।

পাকিস্তান দলের কোচের পদও সামলেছেন ওয়াকার। ২০১৬ সালে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন মিকি আর্থার। ওয়াকার সরাসরিই বলেছেন, এবার বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফিটনেসের তুলনায় পিছিয়ে ছিল পাকিস্তান দল। বিশ্বকাপ শেষে পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচকের পদ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইনজামাম-উল হক। কোচ মিকি আর্থারের চাকরিও যেকোনো সময়ে চলে যেতে পারে। আর ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামো পাল্টানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। তবে ওয়াকার এসব নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন, ‘প্রতি বিশ্বকাপ শেষেই আমরা একই চিত্রনাট্য দেখি। শুধু চরিত্রগুলো পাল্টে যায়। প্রতি চার বছর শেষে আমরা একই কাজ করি। অধিনায়ক পাল্টাই, কোচ ছাঁটাই করি, নির্বাচকদের সরিয়ে দিই, ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামো পাল্টানোর কথা বলি। কিন্তু এটা কোনো সমাধান নয়, বরং একই ভুল বারবার হচ্ছে।’

পাঁচ বছর আগে পিসিবিকে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দিয়েছিলেন ওয়াকার। খেলোয়াড়দের ফিটনেস বাড়ানো, ওভারপ্রতি গড়ে ৪ রান নিতে পারবে এমন খেলোয়াড় বের করা এবং সিনিয়রদের ঠিক সময়ে অবসর নেওয়া—এসব ছিল ওয়াকারের পরিকল্পনার অংশ। কিন্তু পিসিবি সেসব কানে তোলেনি বলে জানিয়েছেন ৪৭ বছর বয়সী সাবেক এ ক্রিকেটার। মিকি আর্থারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ইচ্ছা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াকার জানিয়েছেন, কোচ হওয়ার কোনো ইচ্ছাই তাঁর নেই। অন্য কোনো পদে থেকেও পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতি করা যায়। পিসিবি এ ব্যাপারে প্রস্তাব দিলে ভেবে দেখার কথাও বলেছেন ওয়াকার।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0