default-image

পাকিস্তানের স্কোরকার্ডে একবার চোখ বোলান। আপনি যদি পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সমর্থকও হয়ে থাকেন, তার পরেও তা আপনাকে উষ্মা মেশানো কৌতুকের উপলক্ষ এনে দেবে। ১১ জনের দলটিতে মাত্র তিনজন ব্যাটসম্যান কিছু রান পেয়েছেন—উমর আকমল, শোয়েব মাকসুদ ও শহীদ আফ্রিদি। আকমল ও মাকসুদ ফিফটি করেছেন আফ্রিদি করেছেন ২৮। এই তিনের বাইরে বাকি ব্যাটসম্যানদের স্কোর একসঙ্গে করে সুন্দর ডিজিটের একটা ফোন নম্বরই তৈরি করে ফেলা যায়।
আগে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩১০ রানের জবাব দিতে গিয়ে ব্যাটিং-প্রদর্শনীটা যাচ্ছেতাই হলো পাকিস্তান দলের। ক্যারিবীয়দের সংগ্রহের জবাবে নিজেদের ইনিংস ১৬০ রানে শেষ করে দেড় শ রানের হার মাথা পেতে নিতে হয়েছে তাদের। বিশ্বকাপে এটাই পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় হার। সব মিলিয়েই এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে বড় জয়। শুধু তা-ই নয়, পাকিস্তানের বিপক্ষে এত বড় জয় গত ২৩ বছরে তারা পায়নি।
পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা আসলে ম্যাচটি শেষ করে দিয়েছেন নিজেদের ইনিংস শুরু করতে না করতেই। স্কোর বোর্ডে মাত্র একটি রান তুলেই একে একে সাজঘরে ফিরেছেন পাকিস্তানের চার ব্যাটসম্যান—নাসির জামশেদ, ইউনিস খান, হারিস সোহেল ও আহমেদ শেহজাদ। ওয়ানডেতে সবচেয়ে কম রানে প্রথম ৪ উইকেট পড়ার রেকর্ড। এমন বিপদ থেকে টেনে তুলতে পারতেন যিনি, টেনে তোলাটা যাঁর দায়িত্ব, সেই অধিনায়ক মিসবাহ-উল হকও খানিক পরে মাত্র ৭ রান করে ফিরলেন।
২৫ রানে নেই পাঁচ উইকেট। যে দলের প্রথম ৫ উইকেট ২৫ রানে পড়ে, সেই দলের শেষের ৫ উইকেট ১৩৫ রানে—এটাও তো বিস্ময়ের!
নিজের প্রথম দুই ওভারে তিন উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে এই ধাক্কাটা দিয়েছিলেন জেরোম টেলর। সেই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি মিসবাহর দল। খেলা তো শেষ ওখানেই। এরপর উমর আকমল ও শোয়েব মাকসুদ মিলে সম্মান পুনরুদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টাটাই কেবল করে গেছেন। সেটি যতটা না ম্যাচ জয়ের লড়াই ছিল, তার চেয়ে বেশি সম্মান উদ্ধারের। দুজনের ফিফটি আর ৮০ রানের জুটি সম্মান খানিকটা ফিরিয়েছে। কিন্তু ফিফটির পরপরই দুজনের আউট হওয়াটা কাজে দেয়নি পাকিস্তানের। সেই সঙ্গে আফ্রিদির ২৬ বলে ২৮ হয়ে থাকল তাঁর আরেকটি ক্যামিও মাত্র।
টেলরের পাশাপাশি পাকিস্তানের সর্বনাশ করেছেন আন্দ্রে রাসেল। তিনিও নিয়েছেন ৩ উইকেট। কিন্তু রাসেলের শেষের দিকে নেমে মাত্র ১৭ বলে ৪২ রানের ইনিংসটা ক্যারিবীয়দের সংগ্রহকে তিন শ ছাড়িয়ে যেতে দারুণ ভূমিকা রেখেছে বলে ম্যাচ সেরা তিনিই।
টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে পাকিস্তানি পেসাররা কিন্তু নতুন বলে শুরুটা ভালোই করেছিলেন। স্কোরবোর্ডে ২৮ রান উঠতে না উঠেতেই দুই উইকেট হারিয়ে বেশ বিপদের গন্ধই ছড়িয়ে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে। কিন্তু লেন্ডল সিমন্স আর দিনেশ রামদিন দারুণ দুটো ফিফটি করে কক্ষপথে ফেরান দলকে। সিমন্স, রামদিনের পাশাপাশি ব্রাভো ৪৯ রান করে আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন। এরপর মারলন স্যামুয়েলসের ৩৮, ড্যারেন সামির ৩০ দলের সংগ্রহকে বাড়িয়ে নেয় অনেকখানিই। রাসেলের ঝোড়ো ইনিংসের কথা তো বলা হয়েছে আগেই।
আইরিশ-অঘটনের পর দারুণভাবে ফিরে এল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্তান মনে হয় ভারত-ধাক্কার শোক এখনো সামলে উঠতে পারেনি। সূত্র: এএফপি।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন