বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সেমিফাইনালে ওঠার পর পাকিস্তান দলের চোখ এখন নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপের ট্রফিতে। সেমিফাইনালটা জেতার আগে তো আর সেটি মুখ ফুটে বলা যায় না! বাবর আজমও বললেন না। তবে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্যের কথা বলতে গিয়ে প্রকারান্তরে সে আভাসই তো দিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক, ‘আমরা টুর্নামেন্টজুড়েই ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলে আসছি। এই ধারাবাহিক ছন্দটাই সেমিফাইনালে ধরে রাখতে চাই এবং এরপর সম্ভব হলে তা ফাইনালেও ধরে রাখব।’

default-image

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে সেই যে চমক জাগানো বিশ্বকাপ শুরু করল পাকিস্তান, এরপর থেকে শুধু চমকই দিয়ে গেল তারা। ভারতকে হারিয়ে পাওয়া আত্মবিশ্বাস দলটাকে পার করিয়ে দিয়েছে একের পর এক বাধা। এমন সাফল্যের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাবর আজম আজ বলেন, দল নির্বাচনে তাঁর ইচ্ছা গুরুত্ব পাওয়াতেই আজ বিশ্বকাপে পাকিস্তান এ জায়গায়, ‘আমি দলে কিছু খেলোয়াড়কে চেয়েছিলাম। তাঁদের দলে পাওয়ার পর থেকেই আমরা ভালো ফলাফল করতে শুরু করলাম। আমি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছি, এটাই সবচেয়ে বড় কথা।’

default-image

বাবর আজম মানছেন, তাঁর দলের সব খেলোয়াড়ই ভালো খেলছেন না। পেস বোলার হাসান আলী আর ব্যাটসম্যান ফখর জামান যেমন। দুজনের কারোরই পারফরম্যান্স ভালো নয় এই বিশ্বকাপে। হাসান আলী ভারতের বিপক্ষে ২ উইকেট পেলেও ৪ ওভারে রান দিয়েছেন ৪৪। পরের ৪ ম্যাচে ৩ উইকেট পেয়েছেন বটে, তবে বোলিং খুব একটা ভালো করেননি।

ব্যাট হাতে ফখর জামানও বিশ্বকাপে কেবল হতাশাই উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। সুপার টুয়েলভের সব ম্যাচই খেলেছেন। ভারতের বিপক্ষে ১০ উইকেটে জেতা প্রথম ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগ না পেলেও পরের চার ম্যাচে রান করেছেন ১১, ৩০, ৫ ও ৮।

default-image

হাসান ও ফখরকে তবু সব ম্যাচে টেনে নেওয়ার কারণ, অধিনায়ক তাঁদের ওপর আস্থা হারাননি। আর অধিনায়কের সিদ্ধান্তে আস্থা রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও (পিসিবি)। বাবর আজমের কথায়ই সেটি পরিষ্কার, ‘হাসানকে বাদ দেব, অধিনায়ক হিসেবে আমি সেটাও ভাবতে পারি না। হ্যাঁ, সে হয়তো ভালো করছে না। কিন্তু সে একজন ম্যাচ উইনার এবং আমাদের অনেক ম্যাচও জিতিয়েছে। একই কথা প্রযোজ্য ফখরের ক্ষেত্রেও।’

এই দুজনের ওপর আস্থাটা এই পর্যায়ে যে সেমিফাইনালেও তাঁদের খেলানোর আভাস দিয়ে রাখলেন পাকিস্তান অধিনায়ক, ‘আমি জানি হাসান বড় ম্যাচের খেলোয়াড়, কাজেই সে সেমিফাইনালে ভালো করবে। ফখরও তার দিনে যেকোনো ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। আর একই দিনে তো সবাই ভালো পারফরম করবে না।’

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আর সব দলের মতোই জৈব সুরক্ষাবলয়ের কঠিন শৃঙ্খলে বন্দী পাকিস্তান ক্রিকেট দল। বিশ্বকাপের পরপরই তারা যাবে বাংলাদেশ সফরে। কাজেই বলয়বন্দী জীবন থেকে এখনই নিষ্কৃতি নেই। খেলোয়াড়দের মনোজগতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়াটা স্বাভাবিক। পাকিস্তান দল কীভাবে সে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে, তা জানাতে গিয়ে বাবর আজম বলেছেন, ‘যদি কারও কোনো সমস্যা হয়, আমরা দলের সিনিয়র কাউকে বলি তার সঙ্গে কথা বলতে, তাকে পরামর্শ দিতে।’

আর অধিনায়ক নিজে তো সব সময়ই আছেন সেই ভূমিকায়। মাঠের নেতৃত্বটা পরে, তার আগে সবার বুকে আত্মবিশ্বাসের ফুঁ দিয়ে দিচ্ছেন তিনি। নিজের পছন্দে গড়া দল নিয়ে বিশ্বকাপে একটার পর একটা সাফল্য পাওয়া বাবর সতীর্থদের সম্বোধন করেন ‘আমার খেলোয়াড়’ বলে। তাঁর কথা, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমি এখনো শিখছি। আমি আমার সব খেলোয়াড়কে আমার সঙ্গে রাখি, তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর চেষ্টা করি।’

সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া বুঝি একেই বলে!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন