এ বছরের শুরুতেও খাজাকে অস্ট্রেলিয়া দলে দেখা যাবে, এ নিয়েই খুব বেশি আশাবাদী শোনা যায়নি কাউকে। অ্যাশেজের আগে দলের ব্যাটিং লাইনআপের পাঁচ নিয়েই চিন্তা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। ট্রাভিস হেড নাকি উসমান খাজা—এ প্রশ্নে হেডকেই বেছে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। দারুণ দুটি ইনিংসে নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন হেড। এর মধ্যেই সিডনি টেস্টে আচমকা সুযোগ মিলে গেল খাজার। করোনায় আক্রান্ত হয়ে সিডনিতে বসে রইলেন হেড। আর সুযোগ পেয়েই জোড়া শতক!

অ্যাশেজের শেষ টেস্টে তাই খাজাকে বাদ দেওয়ার উপায় ছিল না। ওদিকে হেডও তো বাদ পড়ার মতো কিছু করেননি। তাই হোবার্ট টেস্টে আর পাঁচে নয়, একদম ইনিংস উদ্বোধন করতে পাঠিয়ে দেওয়া হলো খাজাকে। বাদ পড়লেন ফর্ম হারানো ওপেনার মার্কাস হ্যারিস।

পাকিস্তান সফরের টেস্ট দলে তাই খাজার অন্তর্ভুক্তি কোনো চমক জাগায়নি। খাজার শিকড়ে ফেরার উপলক্ষ হিসেবেই দেখা হচ্ছিল এ সিরিজকে। পাঁচ বছর বয়সে যে দেশ ছেড়ে গেছেন, সেখানে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন জন্মস্থান থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে। জন্মভূমিতে স্বপ্নের এক ‘অভিষেক’ হয়ে যাচ্ছিল।

রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ৯৭ রানে আউট হয়ে গেলেন। রাওয়ালপিন্ডির সে দুঃখ তাঁর লাহোরেও ফিরেছে। সিরিজের শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে আউট হয়েছেন ৯১ রানে। কিন্তু তার আগে-পরে যা করেছেন, সেটা রূপকথায় স্থান পাওয়ার যোগ্য। করাচিতে প্রথম ইনিংসে ১৬০ রান করেছেন, দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের আশায় ৪৪ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন। সিরিজের একদম শেষ ইনিংসেও ১০৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।

তিন ম্যাচের সিরিজে পাঁচবার ব্যাট করে ৪৯৬ রান করেছেন খাজা। পাকিস্তানে সফর করতে যাওয়া প্রতিপক্ষের কোনো ওপেনারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি তাঁর পূর্বসূরির। ১৯৯৮ সালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ৩ টেস্টে ৫১৩ রান করেছিলেন মার্ক টেলর। খাজার অন্য কীর্তিটা আরও বড়। পাকিস্তানে ১৬৫.৩৩ গড়ে রান তুলেছেন খাজা। টেস্ট ইতিহাসে কোনো সিরিজে অন্তত পাঁচ ইনিংস খেলেছেন, এমন ওপেনারদের মধ্যে তাঁর চেয়ে ভালো গড়ে সিরিজ শেষ করতে পেরেছেন মাত্র একজন। ১৯৯০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ৩ ম্যাচে ১৬৯ গড়ে ৫০৭ রান করেছিলেন পাকিস্তানের শোয়েব মোহাম্মদ।

শুধু খাজাই নন, সিরিজে অন্য ওপেনাররাও দাপট দেখিয়েছেন। খাজার সঙ্গী ডেভিড ওয়ার্নার এবং পাকিস্তানের ইমাম-উল-হক ও আবদুল্লাহ শফিকও ছিলেন রানের মধ্যে। চার ওপেনার সিরিজে ১২টি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন। ৭টি শতকের দেখা পেয়েছেন খাজা, ইমাম ও শফিক। চার ওপেনার মিলে সিরিজে করেছেন ১৪৩২ রান। ১১ জুটিতে তিনবার শতকের দেখা মিলেছে, আরও তিনবার পঞ্চাশ পেরিয়েছে। সব মিলিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৮৪.৪০ গড়ে রান তুলেছেন ওপেনাররা। অন্তত ১০ বার ওপেনাররা ব্যাট করেছেন, এমন সিরিজে ওপেনিং জুটিতে এত বেশি গড়ে রান তোলা হয়নি। এর আগের রেকর্ড ছিল ২০০৬ সালের। ভারতের সর্বশেষ পাকিস্তান সফরের সিরিজে ৭৮.৭৭ গড়ে রান তুলেছিল দুই দলের ওপেনিং জুটি।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন