বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুরো ৯০ ওভারই খেলা হয়েছে। তিন পেসারের ৪৫ ওভারের পাশাপাশি মূল স্পিনার নাথান লায়নকে দিয়ে ৩০ ওভার বোলিং করিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক কামিন্স, তাতেও কাজ না হওয়ায় বল হাতে তুলে দিয়েছেন স্মিথ-হেড-লাবুশেনদের। পেস বোলিং অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনও বোলিং করেছেন। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে নিয়েছেন আটজন! কিন্তু এর মধ্যে সাফল্য বলতে শুধু মধ্যাহ্নবিরতির ৬ বল আগে লায়নের বলে শফিকের উইকেট।

তা-ও বোলারের কৃতিত্ব তাতে খুব বেশি নয়। শফিকের ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে যায় আকাশে, মিড অফে দারুণ ক্যাচ নেন কামিন্স। মধ্যাহ্নবিরতির ছয় মিনিট আগে কী ভেবে শফিক এমন শট খেলেছেন, সে এক প্রশ্ন বটে!

দিনের শুরুতে অবশ্য প্রশ্নটা ছিল কামিন্সদের একাদশ ঘিরে। পাকিস্তানে তাদের এতদিন পর যাওয়া নিয়ে এত কথা, অস্ট্রেলিয়া তো দেশের বাইরেই খেলছে করোনাকালে এই প্রথম! অস্ট্রেলিয়ার বাইরে তারা খেলছে ৯০০ দিন পর, এশিয়ার মাটিতে ১২৩১ দিন পর।

default-image

দুই যুগ পর পাকিস্তানে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া যে অচেনা উইকেট পড়তে ভুল করেছে, প্রথম দিন শেষে সম্ভবত সেটি বলে দেওয়াই যায়। আগের দিনও সংবাদ সম্মেলনে ‘দুই স্পিনার না তিন পেসার’ প্রশ্নে কামিন্স বলেছিলেন, আরেকবার উইকেট দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। সিদ্ধান্তটা ভুলই নিয়েছেন!

অস্ট্রেলিয়ার অনেক সাংবাদিক যে উইকেটকে বলছিলেন ‘হাইওয়ের মতো’, সে উইকেটেই অস্ট্রেলিয়া নেমেছে তিন পেসার নিয়ে। কামিন্স ও মিচেল স্টার্কের সঙ্গে জশ হ্যাজলউডকে ফিরিয়েছে অস্ট্রেলিয়া—ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গত ডিসেম্বরে অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর এই প্রথম টেস্টে নামা তাঁর। পাকিস্তান যেখানে তিন স্পিনার সাজিদ খান, ইফতিখার আহমেদ ও নোমান আলীকে নামিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ স্পিনার শুধু লায়নই।

অস্ট্রেলিয়ানরা বোলিংটা খারাপ করেননি, পাকিস্তানের রান রেট তা না হলে ৩-এর নিচে থাকত না! কিন্তু উইকেট থেকে কোনো সাহায্য পাননি কামিন্সরা। পাকিস্তানের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শফিক হয়তো এখন নিজের চুল নিজেই ছিঁড়ছেন! ওভাবে উইকেটটা বিলিয়ে দিয়ে না এলে কে জানে, হয়তো দিনশেষেও পাকিস্তানের উইকেটের ঘরে সংখ্যাটা ০-ই থেকে যেত।

default-image

তবে আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইমাম পুরো দিনই ব্যাটিং করে এসেছেন। উদ্বোধনী জুটিতে শফিকের সঙ্গে ১০৫ রানের জুটির পর দ্বিতীয় উইকেটে আজহারের সঙ্গেও আরেকটা শতরানের জুটি হয়েছে তাঁর। ১৪০ রানে অবিচ্ছিন্ন এই জুটিতেই কাল দ্বিতীয় দিন সকালে দারুণ শুরুর আশায় থাকবে পাকিস্তান। আশার কেন্দ্রে হয়তো ইমামই থাকবেন!

২০১৯ সালের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই নিজের ১২ টেস্টে গড়ানো ক্যারিয়ারের সর্বশেষ টেস্টটি খেলেছিলেন ইমাম। এরপর নিউজিল্যান্ডে চোটে পড়লেন, এরপর থেকে তো দলেই জায়গা পাননি। পাকিস্তানের জন্য ঐতিহাসিক হয়ে যাওয়া টেস্ট দিয়ে ফিরে ইমাম নিজেকে প্রমাণ করেছেন দারুণভাবে। শফিক আউট হওয়ার আগেই ৮১ বলে অর্ধশতক হয়ে গেছে তাঁর, সে পথে আটটি চারের পাশাপাশি ১টি ছক্কা মেরেছেন। শফিক আউট হওয়ার সময়েও তাঁর রান ছিল ৯৯ বলে ৫৭। মধ্যাহ্নবিরতিতেও তা-ই।

চা বিরতিতে গেছেন শতক থেকে ৮ রান দূরে থেকে। চা খেয়ে এসেই শতক! ২০০ বলে শতকের পথে চার ১৩টি, ছক্কা দুটি। চার মেরেই শতক পূর্ণ করলেন। উদ্‌যাপনে তাঁর বাঁধনহীন উল্লাস বলে দিচ্ছিল, ফেরার ম্যাচেই ‘দেখিয়ে দেওয়ার’ তাড়ণাটা কত বেশি ছিল তাঁর!

অন্য পাশে আজহার দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন তাঁকে। ইমামের শতকের কিছুক্ষণ পর তাঁর অর্ধশতকও পূর্ণ হলো। ১১৩ বলে ৫০ পেরোনোর পথে চার মেরেছেন ৪টি, ছক্কা ১টি।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন