নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পাত্তাই দিলেন না মরিনিও।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পাত্তাই দিলেন না মরিনিও।ছবি: রয়টার্স

সাংবাদিকেরা কাল অধীর আগ্রহে বসেছিলেন। ফুটবলজগতে মুখরোচক সংবাদ দেওয়ার জন্য জোসে মরিনিওর তুলনা নেই। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সংবাদ শিরোনাম হন পর্তুগিজ কোচ। চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলানের মতো ক্লাবগুলোতে দুর্দান্ত সময় পার করে আসা মরিনিও গত কয়েক বছর শুধু ভুল কারণেই শিরোনাম হচ্ছেন। নিজের দল ও কৌশলের ঘাটতি লুকাতে বিতর্কিত মন্তব্য করাকেই যেন অস্ত্র মেনেছেন মরিনিও। সেই ব্যক্তির হাতে কাল সব রকম মসলাই ছিল।

গত সপ্তাহে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচ ছিল মরিনিওর টটেনহামের। সে ম্যাচেও সাবেক দলের বর্তমান কোচ উলে গুনার সুলশারের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে জড়িয়েছেন। এরপরই পল পগবা তাঁকে বেশ দুকথা শুনিয়ে দিয়েছেন। সুলশার কত ভালোভাবে খেলোয়াড় সামলান আর এই কাজে মরিনিও কত বাজে-সেটাই ছিল পগবার মূল ভাষ্য। এমন কথার জবাব মরিনিও না দিয়েই পারেন না!

কাল এভারটনের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল টটেনহাম। ২-২ গোলে ড্র হওয়া সে ম্যাচের পর পগবার প্রসঙ্গ তুলে মরিনিওকে খোঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সবাইকে হতাশ করেছেন এই কোচ।

বিজ্ঞাপন
default-image

কোচ মরিনিওর খেলোয়াড় সামলানোর বিষয়টি বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। কিছু খেলোয়াড়ের সঙ্গে তাঁর এতটাই ভালো সম্পর্ক যে তাঁরা মরিনিওর জন্য জীবন দিতে রাজি আছেন। আবার অনেকে ক্লাবেই অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে দা-কুমড়া সম্পর্ক করে এসেছেন এই কোচ। রিয়াল মাদ্রিদের ইকার ক্যাসিয়াস ও সের্হিও রামোসদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল।

চেলসিতে ছাঁটাই হওয়ার আগে হ্যাজার্ড-ফ্যাব্রিগাসদের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতি হয়েছিল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যেমনটা হয়েছিল পল পগবা, লুক শ ও অ্যান্থনি মার্শিয়ালদের সঙ্গে। তাঁর অধীনে একপর্যায়ে খেলার আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছিলেন পগবা। প্রকাশ্যেই ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এই মিডফিল্ডার।

স্কাই স্পোর্টসের কাছে মরিনিওর সময়কালে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছিলেন পগবা। বলেছিলেন কাউকে দরকার হচ্ছে না মনে হলেই তাঁকে একদম অচ্ছুত বানিয়ে ফেলতেন মরিনিও, ‘উলের সঙ্গে এখন যেটা হচ্ছে, সেটা ভিন্ন ব্যাপার। কারণ, তিনি খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে চলে যান না। হতে পারে উলে কোনো খেলোয়াড়কে দলে নিচ্ছেন না। কিন্তু তাই বলে তিনি এমন পরিস্থিতি তৈরি করেন না যে ওই খেলোয়াড়ের মনে হবে সে আর ইউনাইটেডেই নেই। মরিনিও আর ওলের মধ্যে পার্থক্য এটাই।’

default-image

২০১৬ সালে একই সঙ্গে ইউনাইটেডে যুক্ত হয়েছিলেন পগবা ও মরিনিও। শুরুতে পগবাকে ঘিরেই নিজের সব পরিকল্পনা ছিল কোচের। কিন্তু দিন যত এগিয়েছে, দুজনের মধ্যে সম্পর্কে তত অবনতি হয়েছে। কেন হয়েছে সেটা অবশ্য জানেন না বলেই জানিয়েছেন ফ্রেঞ্চ মিডফিল্ডার, ‘একসময় মরিনিওর সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। সবাই দেখেছে সেটা। কিন্তু সম্পর্কটা এক দিন ভালো ছিল, তো পরের দিনই আপনি জানতেও পারবেন না কী থেকে কীভাবে কী হয়ে গেল! মরিনিওর ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটাই আমার অদ্ভুত লাগে। কেন এমনটা হয়েছিল, সেই ব্যাখ্যা আমি দিতে পারব না। কারণ, আমি নিজেই তো জানি না আসলে কী ঘটেছিল!’

মরিনিওর বিপক্ষে খেলোয়াড়দের অভিযোগ নতুন নয়। বহু আগ থেকেই বলা হয়, যাঁকে পছন্দ নয়, তাঁর পেছনে উঠে পড়ে লাগেন এই কোচ। তবু সরাসরি এভাবে প্রকাশ্যে কেউ এভাবে বলেননি এর আগে। পগবার এমন স্বীকারোক্তির পর মরিনিওর কাছে তাই এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছিল। স্কাই স্পোর্টসই জানতে চেয়েছিল এই ব্যাপারে। কিন্তু সবার আগ্রহে পানি ঢেলে দিয়েছেন এই কোচ। স্কাইয়ের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘আমি এটাই বলতে চাই, সে কী বলেছে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার কিছুই যায় আসে না। একদমই আগ্রহী নই এ ব্যাপারে।’

কাল ম্যাচের ফল নিজের পক্ষে না পাওয়াতে হয়তো মুখে লাগাম দিয়েছেন মরিনিও। কিন্তু কয়েক দিন পরই হয়তো পগবার ব্যাপারে ভয়ংকর কোনো বোমা ফাটাবেন মরিনিও। অতীত অভিজ্ঞতা তো তাই বলে।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন