default-image

সেদিন ক্রিস গেইলকে দেখে মনে হচ্ছিল, ওকে আসলে কোথায় বল করা উচিত? স্টাম্পে বা স্টাম্পের বাইরে, ও আপনাকে তাড়া করবেই। এটা সে এমন অনায়াসে করে কখনো কখনো আমার মনে হয়, ব্যাটিং কি এতই সহজ? বোলাররা কি ওর সামনে এতটাই নির্বিষ, আটকে রাখারই চিন্তা করতে পারে না? কোনো সন্দেহ নেই, সে বিধ্বংসী, বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কত দূর যাবে সেটা ওর ওপর অনেকটা নির্ভর করছে।
ক্রিকেটে ম্যাচ বের করে নেওয়ার মতো খেলোয়াড় খুবই দরকার। গেইল এমন একজন। টেস্টে সে চাইলে ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টির মতো ব্যাট করতে পারে। আমি জানি, এই কৌশল নিয়ে সে সব সময় সফল হবে না। কিন্তু সে যেভাবে রান করে সেটাই দৃষ্টিসুখকর। গেইল এক নির্ভেজাল বিনোদন।
বীরেন্দর শেবাগ, সনাৎ জয়াসুরিয়া, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম বা গেইলের মতো ব্যাটসম্যানরা বিশ্বকাপে সব সময় ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। ডেল স্টেইন ও লাসিথ মালিঙ্গার মতো বোলাররাও পারে একইভাবে ম্যাচ বের করে নিতে। ভারতের যেমন মহেন্দ্র সিং ধোনি একাই ম্যাচ জেতাতে পারে। ভারতের একজন নির্ভেজাল ম্যাচ জেতানো বোলারের অবশ্য অভাব আছে, তবে ব্যাটিং সেটি পুষিয়ে দিতে পারে। বিরাট কোহলি অবশ্য একেবারেই আলাদা। সে সবাইকে তার পারফরম্যান্স দিয়ে অনুপ্রাণিত করে।
আরব আমিরাতকে অনেকে চুনোপুঁটি বলতে চাইলেও টুর্নামেন্টে ওরা ভালোই করছে। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ২৮৫ রান করেছে, আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ২৭৮। ওরা দেখিয়েছে ওরা ঠিক পথেই আছে। ছোট দলগুলোর বড়দের সঙ্গে রান করা অবশ্যই ভালো লক্ষণ। আমার মনে হয় আমিরাত ও আয়ারল্যান্ড নিজেদের মানটা আরও ওপরে তুলে এনেছে। আইসিসির উচিত এদের বড় দলগুলোর সঙ্গে আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়া।
আইসিসির উচিত ব্যাটসম্যান ও বোলারদের মধ্যে ভারসাম্য আনাও। কিছু নিয়ম বোলারদের একেবারেই অসহায় বানিয়ে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বড় মাঠে ছয় মারা সহজ নয়। তাও এবার ছক্কা-বৃষ্টি হচ্ছে। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে ও বৃত্তের বাইরে চার ফিল্ডার বোলারদের কাজটা কঠিন করে তুলেছে। ওভারে ১০ রান এখন কোনো ব্যাপারই নয়। ৫ ওভারে ৫০ রান করাও এখন দশবারের মধ্যে নয়বারই সম্ভব। ব্যাটসম্যানরাই কেন সব সুবিধা পাবে? স্পিনারদের জন্য খারাপই লাগে। ছোট মাঠে মার না খাওয়ার লক্ষ্যে তাদের জোরের ওপর বল করতে হয়।
ভারতের উচিত হবে না আমিরাতকে হালকাভাবে নেওয়া। জয়টা বড়ই হওয়া উচিত, কারণ রানরেট পার্থক্য গড়ে দিতে পারে পরে। পার্থে বাউন্স থাকবে, আমি নিশ্চিত ভারত সেটিকে স্বাগতই জানাবে। এখানে বল ব্যাটে দ্রুত আসে, সেটা ব্যাটসম্যানদের জন্য ভালোই। সিমিং বা বাউন্সি উইকেটে ভালো করার মতো ব্যাটসম্যান ভারতের আছে। ১৯৮৩ সালে ফাইনালের আগে লর্ডসের মাঠে ঘাস দেখে আমরা ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমাদের সিমাররা দারুণ করেছিল। (পিচ সলিউশন)

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন