default-image

বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ জাদুমন্ত্রের মতো হাজির করে কত নাটকের দৃশ্য! লড়াইটা ইদানীং সচরাচর নয়, কিন্তু দুই দলের প্রতিভার যে লড়াই দেখব, তা ভাবতেই শিহরিত হই। হারের লজ্জা এখানে অসহনীয়। কি দর্শক, কি রাজনীতিবিদ—সবারই রোষানলে পড়তে হয় পরাজিতদের। অথচ খেলার মধ্যে কিন্তু হার-জিত থাকেই, প্রত্যেকে সেরাটা দিয়েই খেলে। কখনো ভুলের মাত্রা এতই কম থাকে যে ব্যাট হাতে একটা ভালো ইনিংস, ভালো একটা বল বা দুর্দান্ত একটা ফিল্ডিংই ম্যাচটিতে ব্যবধান গড়ে দেয়।
কেন বিশ্বকাপের এই ম্যাচটি নিছক একটি ক্রিকেট ম্যাচ হয়েও এত গুরুত্বপূর্ণ? আমার মনে হয়, এখানে শুধু জয়টাই বড় কথা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটা জাতির গৌরব, সম্মান আর বিজয়ের অহংকার। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা আছে, কেউ কেউ ভালো বন্ধুও। ক্রিকেটের মর্যাদা সমুন্নত রেখেই একটা রোমাঞ্চকর ম্যাচ হবে নিশ্চয়ই।
আগের ম্যাচগুলোর ফলাফল কী হয়েছে, মনে হয় না এর কোনো প্রভাব এ ম্যাচে পড়বে। এদিন কে কেমন খেলল, তার ওপরই নির্ভর করে ২ পয়েন্টের মীমাংসা। জয় দিয়ে শুরু করাটা বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। আর পরাজয় হবে একটা বোঝার মতো, সাত দলের গ্রুপ থেকে পরের রাউন্ডে যাওয়ার দৌড়ে যা বয়ে যেতে হবে।
দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাই ক্রিকেটপ্রেমীদের বাড়তি রোমাঞ্চের রসদ জোগাবে। লড়াইটা শুধুই ব্যাট-বলের নয়, হবে ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির। লড়াই হবে বিরাট কোহলির সঙ্গে ইউনিস খান, রোহিত শর্মার সঙ্গে আহমেদ শেহজাদ, সুরেশ রায়নার সঙ্গে শহীদ আফ্রিদির। প্রত্যেকেই চাইবে একে অন্যকে ছাড়িয়ে যেতে। এখানে ব্যক্তিগত বাসনাও কাজ করবে। আমি অনেক কিছুতেই অনুপ্রাণিত হতাম, এর মধ্যে একটা ছিল ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান। তবে আমি যদি ভালো ব্যাটিং-বোলিং না করতাম, দর্শক-সংবাদমাধ্যমের চাপ ধেয়ে আসত। এ রকম চাপকে যে সামলাতে পারে, সেই টিকে থাকে। এ ম্যাচেও চাপ থাকবে সন্দেহ নেই। তবে খেলোয়াড়দের ওপর বেশি চাপ মানেই বাড়তি দর্শক-রোমাঞ্চ।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই মাসে ভারত জিতেছে একটি মাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ। আত্মবিশ্বাস হয়তো একটু কম থাকবে তাদের। তবে এটা বিশ্বকাপ আর ভারত হলো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। আর প্রথম ম্যাচের আগে কারও কোনো পয়েন্ট থাকবে না, থাকবে না রান অথবা উইকেট। এখন সবাই সমান। সময় এখন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণের।
ভারতের ম্যাচ জেতানো খেলোয়াড়ের কমতি নেই। ব্যাটিং লাইনআপ টুর্নামেন্টের আর যেকোনো দলের মতোই শক্তিশালী। সমস্যাটা বোলিং নিয়ে। অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে তাদের বোলাররা কতটা মানিয়ে নিতে পেরেছে, সেটিই দেখার বিষয়।
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ফর্মও সুবিধার নয়। শেষ ১২ ম্যাচে ২ জয়, তার ওপর নেই সাঈদ আজমলের মতো বোলার। পাকিস্তানের জয়ে প্রধান ভূমিকাটা পালন করতে হবে শহীদ আফ্রিদিকে। ৪০০ উইকেট ও ৮০০০ রান—অসাধারণ এক অর্জনের সামনে দাঁড়িয়ে সে। প্রতিপক্ষের জন্য সে একটা হুমকি। আর পাদপ্রদীপের আলো তাঁর বরাবরই প্রিয়। বিশ্বকাপ হতে পারে তাঁরই মঞ্চ!
প্রস্তুত অ্যাডিলেড ওভাল। প্রস্তুত ক্রিকেট-বিশ্ব। অপেক্ষা শুধু সেই লড়াইয়ের, পাল্লাটা যেখানে ভারতের দিকেই একটু ঝুঁকে থাকবে।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন