ওসাদা ফার্নান্দোর উইকেটের পর বাংলাদেশের উচ্ছাস
ওসাদা ফার্নান্দোর উইকেটের পর বাংলাদেশের উচ্ছাস এএফপি

রঙ্গনা হেরাথ, দিলরুয়ান পেরেরা মিলে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কাকে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন। এখন দুজনের একজনও নেই। হেরাথ খেলা ছেড়েছেন। পেরেরা ফর্মহীনতা ও চোটের সঙ্গে লড়ছেন। শ্রীলঙ্কান স্পিন বোলিংয়ের এমন দুর্বল অবস্থা গত দুই দশকেও ছিল না। এখন শ্রীলঙ্কার এক নম্বর স্পিনার ধরা হয় ১১ টেস্ট খেলা বাঁহাতি স্পিনার লাসিথ এম্বুলডেনিয়াকে। চোটের কারণে তিনিও খেলছেন না বাংলাদেশের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে।
খেলছেন আনকোরা, অপরীক্ষিত প্রবীণ জয়াবিক্রমা। কিন্তু ২২ বছর বয়সী এই তরুণ বাঁহাতি স্পিনারের সামনেই আজ তাসের ঘরের মতো ভাঙল বাংলাদেশ দল। শ্রীলঙ্কা ৭ উইকেটে ৪৯৩ রান করে ইনিংস ঘোষণার পর বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনিং জুটিতে ৯৮ রান করে। এরপর ২১৩ রানের সময়ও ছিল ৩ উইকেট। সেখান থেকে ৩৭ রানের ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ২৫১ রানে। তৃতীয় দিন শেষে ২৫৯ রানে এগিয়ে থাকা শ্রীলঙ্কাকে এমন অবস্থা থেকেও হারানোর স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। আজ দিনের খেলা শেষে কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের উদাহরণ দেখিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আজ সকালে ব্যাটিংয়ে নেমে তাসকিন আহমেদের বাউন্সারে রমেশ মেন্ডিস আউট হলেই ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। ১৫ মিনিট ব্যাট করে ৭ উইকেটে ৪৯৩ রানকেই এই উইকেটে যথেষ্ট মনে করে স্বাগতিকরা। কিন্তু তামিম ইকবালের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল তিনি নিজের ব্যাটিংয়ের জন্য আলাদা উইকেট নিয়ে এসেছেন। প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসের মতোই সাবলীল ব্যাটিংয়ে বাউন্ডারি খুঁজে নিচ্ছিলেন তিনি। অন্যদিকে রানের জন্য লড়তে হচ্ছিল গত টেস্টের দুই ইনিংসে ব্যর্থ হওয়া ওপেনার সাইফ হাসানকে। তবে তামিমের সঙ্গে সাইফ উইকেটে টিকে ছিলেন প্রথম সেশনের শেষ পর্যন্ত। শুধু আর কিছু বল খেললেই হতো। লাঞ্চের ঠিক আগেই সাইফ স্লিপে ক্যাচ তোলেন জয়াবিক্রমার বলে। পরের ওভারে অফ স্পিনার রমেশ মেন্ডিসের বলে স্লিপে ক্যাচ দেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান নাজমুল হোসেন। চোখের পলকে বাংলাদেশের জন্য আদর্শ প্রথম সেশন আর আদর্শ থাকল না।

default-image

জোড়া দুই উইকেটের ধাক্কা সামলানোর দায়িত্বটা বর্তায় অধিনায়ক মুমিনুল ও তামিমের ওপর। দুজনের কাজটা কঠিন করে তোলে উইকেটের ঘূর্ণি। বল উইকেটের মাঝ বরাবর থেকে বাঁক খাচ্ছিল, যা দুই বাঁ হাতির জন্য কঠিনই বটে। তবু দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে মুমিনুল-তামিম জুটি ভালোই করছিল। দুজনের জুটি ফিফটি ছাড়ায়। তামিম এগোতে থাকেন কাঙ্ক্ষিত দশম টেস্ট সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু ৯২ রানে থাকা অবস্থায় জয়াবিক্রমা ইনিংসে প্রথমবারের মতো ওভার দ্য উইকেটে এসে বল করে তামিমকে স্লিপের বানিয়ে ছাড়েন। টেস্টে এ নিয়ে ৮০ রান থেকে ৯৯ রানের মধ্যে ৮ বার আউট হলেন তামিম।

default-image


বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কাটা লাগে মুশফিকের আউটে। লঙ্কান স্পিনকে সাবলীল ব্যাটিংয়ে শাসন করছিলেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। উইকেটের কঠিন আচরণ যেন তাঁকে স্পর্শই করছিল না। কিন্তু মুমিনুলের সঙ্গে আরেকটি পঞ্চাশ রানের জুটি গড়ে তিনিও আউট হন জয়াবিক্রমার চতুর বোলিংয়ে। ৬২ বলে চোখের পলকে ৪০ রান যোগ করে মাঠ ছাড়তে হয় মুশফিককে। ছয় ব্যাটসম্যানের বাংলাদেশ দল তখন মুমিনুল ও লিটনের ব্যাটে তাকিয়ে। ফলো অন এড়াতে হলে দুজনকেই অতিমানবীয় কিছু করতে হতো। কিন্তু আজ দিনটা ছিল জয়াবিক্রমার। বাঁ হাতি মুমিনুলকে ফুলটসে লেগ বিফোর করে যেন বাংলাদেশি ব্যাটিংয়ে ধস নামানোর দায়িত্বটা জয়াবিক্রমার হাতেই তুলে দিলেন রমেশ। লিটন, মিরাজ, তাসকিনকে চোখের পলকে আউট করে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখান তিনি। পেসার সুরাঙ্গা লাকমল এসে নতুন বলে ২ উইকেট নিলে বাংলাদেশ অলআউট হয় ২৫১ রানে।

বিজ্ঞাপন

২৪২ রানের বিশাল লিড নিয়ে দিনের শেষ বেলায় শ্রীলঙ্কা নামে ব্যাটিংয়ে। উইকেট ততক্ষণে স্পিন স্বর্গই বলা চলে। লঙ্কান স্পিনারদের পর সেই সুবিধাটা নিয়েছে বাংলাদেশ। দ্রুত ওপেনার লাহিরু থিরিমান্নেকে আউট করে উইকেটের খাতা খোলেন মিরাজ। তাইজুলও হাত ঘুরিয়ে পেয়ে যান ওসাদা ফার্নান্দোর উইকেট। তৃতীয় দিন শেষে শ্রীলঙ্কা এগিয়ে ২৫৯ রানে। হাতে আছে ৮ উইকেট। বাংলাদেশকে যে চতুর্থ ইনিংসে পাল্লেকেলের মাইনফিল্ডে বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে হবে, তৃতীয় দিনের খেলা শেষেই আঁচ করা যাচ্ছে।

default-image


বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। ক্লান্তি ও উইকেটের আচরণকে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের কারণ বলছেন তিনি। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং ও ব্যাটিং দিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ, এমন আশা প্রধান কোচের। আজ দিনের খেলা শেষে তিনি বলেছেন, ‘আমরা কয়েক মাস আগেই অবিশ্বাস্য এক টেস্ট ম্যাচের অংশ ছিলাম। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৮৭ রান তাড়া করে জিতেছিল আমাদের বিপক্ষে। আমরা এখন পিছিয়ে আছি। অনেক চাপের মধ্যে আছি। তবে আমরা যদি কাল দ্রুত উইকেট নিতে পারি, তাদের ড্রেসিংরুমে যদি কিছু অস্বস্তি এনে দিতে পারি, তাহলে যেকোনো কিছুই হতে পারে। কেউ অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে ফেলতে পারে। আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন