মুমিনুল আজ বাউন্সার সামলানোর নতুন টেকনিক শিখলেন।
মুমিনুল আজ বাউন্সার সামলানোর নতুন টেকনিক শিখলেন।ছবি: প্রথম আলো

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের একটি নেটে গ্রানাইটের স্ল্যাব বসানো। টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক মূল নেট অনুশীলন শেষে একবার স্ল্যাবে গেলেন ব্যাটিং করতে। বল ছোড়ার জন্য পেলেন বিসিবি একাদশের ওপেনার মোহাম্মদ নাঈমকে। কিছু লাল বল নিয়ে মুমিনুলের প্রিয় কাট শটের অনুশীলনে সাহায্য করছিলেন নাঈম। শরীরে উঠে আসা বল কবজির মোচড়ে লেগে খেলার অনুশীলনও করলেন টেস্ট অধিনায়ক।

পাশের নেটে এতক্ষণ থ্রো-ডাউন করলেন ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক। আজকের জন্য তাঁর দিনের কাজ তখন প্রায় শেষ। চাইলে ড্রেসিংরুমে ফিরতে পারতেন। কিন্তু যাওয়ার আগে একবার পাশের নেটে অনুশীলনরত টেস্ট অধিনায়ক কী করছেন, সেদিকে নজর দিলেন কুক। এক কোণে দাঁড়িয়ে খুব মনোযোগের সঙ্গে কিছুক্ষণ দেখলেন মুমিনুলের ব্যাটিং। ঠিক তখনই নাঈমের ছোড়া একটি বল মুমিনুলের কাঁধে লাগে।

বিজ্ঞাপন

কুক তখন ফিল্ডিং কোচ থেকে হয়ে গেলেন ব্যাটিং কোচ। শর্ট বল খেলায় কিছু দিক ধরিয়ে দিলেন তিনি। বাংলাদেশি কন্ডিশনে বেড়ে ওঠা মুমিনুলের শর্ট বল খেলার কৌশল একটু এদিক-ওদিক করিয়ে দিলেন।

default-image

পাঁজর বরাবর উঠে আসা বল এবং অফ স্টাম্পের বাইরের বলগুলো মুমিনুল খেলছিলেন নিচ থেকে ব্যাট ওপরে তুলে। কুক মুমিনুলকে দেখিয়ে দিলেন ভিন্ন পথ, ‘তুমি ব্যাট নিচ থেকে ওপরে তুলছ। চেষ্টা করো ব্যাট যেন ওপর থেকে নিচে আসে। দক্ষিণ আফ্রিকায় আমরা এটাকে বলি, “উপত্যকায় নয়, পাহাড় থেকে যেন ব্যাট নিচে নামে”। তাহলে দেখবে বলের ওপর তোমার নিয়ন্ত্রণ থাকবে দারুণ। শট খেলায় পুরো ব্যাটের সাহায্য পাবে।’

মুমিনুলের অবশ্য কুকের দেখিয়ে দেওয়া কৌশলে কিছুটা অস্বস্তি হচ্ছিল, ‘আমার গ্রিপে তো এটা করা কঠিন।’ তবু মুমিনুলকে চেষ্টা করতে বললেন কুক।

কিছুক্ষণ পর কুকের দেখিয়ে দেওয়া পথে অনুশীলন করে যেন স্বস্তি পেলেন মুমিনুল। কাট শটগুলোর জোর বাড়ছিল সময়ের সঙ্গে। নেটের একেবারে গোড়ায় গিয়ে পড়ছিল প্রতিটি বল। ঠিক যেখানে চাইছিলেন মুমিনুল।

দুটি বল খেলেই আবার মুমিনুল বললেন, ‘বল তো বাতাসে যাচ্ছে এভাবে খেললে। ফিল্ডার থাকবে তো।’ কুকও নাছোড়বান্দা, ‘তুমি ফিল্ডার নিয়ে ভেবো না। তোমার কৌশল নিয়ে ভাবো শুধু।’

কিছুক্ষণ পর কুকের দেখিয়ে দেওয়া পথে অনুশীলন করে যেন স্বস্তি পেলেন মুমিনুল। কাট শটগুলোর জোর বাড়ছিল সময়ের সঙ্গে। নেটের একেবারে গোড়ায় গিয়ে পড়ছিল প্রতিটি বল। ঠিক যেখানে চাইছিলেন মুমিনুল। পাশের উইকেটে বল ফেলতে পারলেই হলো। উইকেটের শক্ত মাটিতে পড়ে বল দৌড়ে যাবে বাউন্ডারিতে। মুমিনুলের নতুন কৌশলের কাট শট দেখে নেটের ওপাশ থেকে কুক জোরালো গলায় বললেন, ‘হ্যাঁ! দেখলে তো! এটাই চাচ্ছিলাম।’

এরপর একই কৌশলে মুমিনুলকে লেগ সাইডে খেলতে বললেন কুক, ‘ব্যাট যেন পাহাড় থেকে নামে। উপত্যকায় তুমি থাকতে চাইবে না।’ নাঈমের ছোড়া পাঁজর তাক করা বলগুলো মুমিনুল খেলছিলেন ঠিক ওপর নেমে আসা ব্যাটে। কিছুক্ষণ পর মুমিনুল মুখে হাসি টেনে নিজেই কুকের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমি খুব দ্রুত শিখতে পারি, তাই না?’

কুক তারপর হাজির করলেন নতুন চ্যালেঞ্জ। মুমিনুল জানবেন না, বল কোন দিকে যাবে। কুক চেঁচিয়ে বলছিলেন, ‘এবার তৈরি থাকো। কাট কিংবা ফ্লিক—যেকোনো কিছুর জন্য তৈরি থাকো।’ মুমিনুল সেই পরীক্ষাতেও উতরে গেলেন সহজেই।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন