রোহিত শর্মা খুশি হয়েছেন পিটারসেনের কথা শুনে।
রোহিত শর্মা খুশি হয়েছেন পিটারসেনের কথা শুনে। ছবি: বিসিসিআই

কেভিন পিটারসেন ব্যাটসম্যানদের সমালোচনা করেছেন। একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে রোহিত শর্মার সেটিতে নাখোশ হওয়ার শঙ্কা ছিল। কিন্তু হলো উল্টো। ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যানের সমালোচনা শুনে রোহিতের মনে হচ্ছে, ক্রিকেট খেলাটার বিশ্লেষণ পিটারসেন ভালোই করেন!

কোন ব্যাটসম্যানদের সমালোচনা করেছেন পিটারসেন? কেনই-বা করেছেন? আহমেদাবাদে ভারত আর ইংল্যান্ডের টেস্ট দুই দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে, ১০ উইকেটে টেস্টটা জিতে চার টেস্টের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ভারত। কিন্তু ওই টেস্টের পর থেকে ইংলিশদের সমালোচনায় বারবার ভারতের ‘র‍্যাঙ্ক টার্নার’ বা অনেক বেশি স্পিনসহায়ক পিচ বানানোর প্রসঙ্গ আসছে। পিটারসেন এ দিক থেকে ব্যতিক্রম। তাঁর কথা, পিচ যেমনই হোক, দুই দলের ব্যাটসম্যানরা বাজে ব্যাটিং করেছেন বলেই টেস্টটা দুই দিনে শেষ হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

ক্যারিয়ারে স্পিন খেলায় খুব একটা ঝামেলার মুখে পড়েননি পিটারসেন। ২০১২ সালে ভারত সফরে এসে ইংল্যান্ডকে ম্যাচ জেতানো দারুণ কিছু ইনিংস খেলেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত পিটারসেন। আহমেদাবাদে দুই দিনে ভারত আর ইংল্যান্ড দুই দলের ব্যাটসম্যানদেরই নাকাল হতে দেখে একটু রুষ্ট তিনি।

default-image

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পিটারসেন জানিয়েছেন তাঁর বিশ্লেষণ। প্রথমে দুই দলের ব্যাটসম্যানদের ধুয়ে দিয়েছেন, ‘আমি শুধু এতটুকুই বলি, দুই দলের ব্যাটিংই জঘন্য, খুবই বাজে হয়েছে। আমার মনে হয়, ওরা যদি নিজেদের প্রতি সৎ থেকে বিশ্লেষণ করে, ওরা স্বীকার করে নেবে কত বাজে ব্যাটিং করেছে। ৩০টি আউটের মধ্যে ২১টিই পড়েছে স্টাম্পের দিকে আসা সোজা বলে।’

তবে উইকেট নিয়ে যেখানে চারদিকে অনেক সমালোচনা চলছে, সেখানে পিটারসেনের ব্যতিক্রমী বিশ্লেষণ, ‘উইকেটে বিপজ্জনক কিছু ছিল না। এখানে ব্যাটিং আরও ভালো হওয়া দরকার ছিল। ব্যাটিংটা আরও ভালো হলে এই টেস্ট তৃতীয় দিনে গড়াত, হয়তো চতুর্থ দিনেও যেত।’

পিটারসেনের ইনস্টাগ্রামে এই বিশ্লেষণ মনে ধরেছে রোহিত শর্মার। ভিডিওর নিচে মন্তব্যে ভারতীয় ওপেনার লিখেছেন, ‘যাক! অন্তত কেউ একজন তো খেলাটা বোঝে!’

কিন্তু রোহিত কোন দিক ভেবে কথাটা বলেছেন, সেটি আবার আলোচনার জোগান দিয়েছে। একদিক থেকে খুব সহজভাবে ব্যাপারটাকে দেখা যায়। সেটি এই যে, পিটারসেনের কথা রোহিতের পছন্দ হয়েছে। ভারতীয় ওপেনারের ভাবনাও হয়তো এমনই ছিল। আর একটা টেস্ট দুই দিনেরও কম সময়ে শেষ হয়ে যাওয়ার পেছনে যে সে টেস্টে দুই দলের ক্রিকেটারদের অসংখ্য ভুল জড়িত, তা বোঝার জন্য তো পিটারসেন হওয়ার দরকার পড়ে না।

তাহলে রোহিতের কথা নিয়ে আলোচনার জোগান হচ্ছে কেন? আবার ভারতীয় ওপেনারের কথায় অন্য কিছুর সুরও যে চাইলে খুঁজে নেওয়া যায়। চেন্নাইয়ে সিরিজের প্রথম টেস্টে অসহায় হারের পর সিরিজে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভারত। পরের দুই টেস্টই জিতেছে। কিন্তু দুটি টেস্টেই ভারত জিতেছে স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে। দ্বিতীয় টেস্টের পর থেকেই তাই উইকেট নিয়ে আলোচনা চলছিল। ইংলিশ সংবাদমাধ্যম তো বটেই, সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটাররাও ভারতের উইকেটের সমালোচনায় মেতেছিলেন। ঘরের মাঠের সুবিধা ভারত একটু বেশিই নিয়েছে কি না, ঠারেঠোরে এমন প্রশ্নও উঠেছিল।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে তৃতীয় টেস্ট শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে একবার পিচ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন রোহিত। ভারতের ওপেনার তখন প্রশ্নটাকে বাউন্সার ভেবে উড়িয়ে দেন দারুণ হুকে, ‘আমি উইকেট নিয়ে এত বিতর্কের কোনো কারণ দেখি না। মানুষ এটা নিয়ে কথা বলেই যাচ্ছে। কিন্তু ভারতে তো উইকেট এ রকমই থাকে। আমার মনে হয় না কিছু বদলানোর দরকার আছে। সবাই ঘরের মাঠের সুবিধা নেয়। আমরা যখন বাইরে খেলতে যাই, কেউ তো আমাদের কথা ভাবে না? আমরা কেন অন্যদের কথা ভাবতে যাব?’

কিন্তু আহমেদাবাদে আরও কঠিন স্পিনিং পিচে ভারত-ইংল্যান্ড দুই দলই নাকাল হওয়ার পর উইকেট নিয়ে সমালোচনা আরও বেড়েছে বহুগুণ। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন এ ব্যাপারে আইসিসির কড়াকড়ি চাইছেন। অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস আর অ্যালিস্টার কুকও পিচের সমালোচনা করেছেন। এর মধ্যে পিটারসেনের এভাবে উইকেট বাদ দিয়ে ব্যাটসম্যানদের সমালোচনা করা ভারতীয়দের কাছে প্রশংসিতই হওয়ার কথা।

৪ মার্চ আহমেদাবাদেই শুরু হচ্ছে সিরিজের চতুর্থ ও শেষ টেস্ট। সেই টেস্টে না হারলেই আগামী জুনে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠবে ভারত, যেখানে আগে থেকেই জায়গা নিশ্চিত করে রেখেছে নিউজিল্যান্ড। ইংল্যান্ডের আর ফাইনালে খেলার সুযোগ নেই। আহমেদাবাদের চতুর্থ টেস্টে ইংল্যান্ড জিতলে ভারতকে টপকে অস্ট্রেলিয়া খেলবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন