বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

সেরা একাদশ অবশ্য বিশ্বকাপের পরদিনই একটা ঘোষণা করেছে আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওয়েবসাইটে সে একাদশের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল টিম অব দ্য টুর্নামেন্ট’। এবার নিজের মতো করে বিশ্বকাপের সেরা একাদশ দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান কেভিন পিটারসেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সরব পিটারসেনের দলে সবচেয়ে বেশি তিনজন ক্রিকেটার আছেন পাকিস্তান দলের। দুজন করে আছেন ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার। বাকি দুজন অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের। ভারতের কাউকেই নিজের একাদশে রাখেননি দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ইংলিশ সাবেক ব্যাটসম্যান।

পিটারসেন তাঁর বিশ্বকাপ একাদশে পাকিস্তানের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ানকে দিয়েছেন ইনিংস উদ্বোধনের দায়িত্ব। তবে পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজমকে একাদশে রাখলেও তাঁকে ইনিংসের উদ্বোধনে রিজওয়ানের সঙ্গী হিসেবে রাখছেন না পিটারসেন। বাবর নামবেন তিনে। ইনিংস উদ্বোধনে রিজওয়ানের সঙ্গী হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে একমাত্র সেঞ্চুরি হাঁকানো ইংল্যান্ডের জস বাটলারকে রেখেছেন পিটারসেন।

default-image

বিশ্বকাপে রিজওয়ানের পারফরম্যান্সের পর তাঁকে রাখার কোনো ব্যাখ্যার দরকার পড়ে না। বেটওয়েতে দেওয়া পিটারসেনের ব্যাখ্যায়ও বরং পাকিস্তানের তারকার প্রতি মুগ্ধতাই ফুটে উঠল, ‘(রিজওয়ান) পাকিস্তানের একাদশে ধারাবাহিকভাবে রান করে গেছেন। শারীরিক অসুস্থতা থেকে এসেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ৬৭ রানের অসাধারণ একটা ইনিংস খেলেছেন।’

রিজওয়ান-বাটলারের পর টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৩০৩ রান করা বাবর। বিশ্বকাপে অবশ্য পাকিস্তানের হয়ে ইনিংস উদ্বোধনেই নেমেছেন বাবর। তবে এর আগে ৩ নম্বরেই খেলতেন। তাঁকে নিয়ে পিটারসেনের বিশ্লেষণ, ‘আরেকবার প্রমাণিত হলো ও (বাবর) বিশ্বের সবচেয়ে ধারাবাহিক, সবচেয়ে ভালো টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের একজন।’

চারে তাহলে কে খেলবেন? পিটারসেনের নজর কেড়েছেন শ্রীলঙ্কার আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান চারিথ আসালাঙ্কা। পাঁচে দক্ষিণ আফ্রিকার এইডেন মার্করাম। ৬ নম্বরে আবার নিজের উত্তরসূরিদের দিকে চোখ গেল পিটারসেনের, রাখলেন স্পিনিং অলরাউন্ডার মঈন আলীকে। বোলিং ও ব্যাটিং—দুই ভূমিকাতেই মঈনের কিছু করে দেখানোর ক্ষমতাকেই তাঁকে একাদশে রাখার কারণ হিসেবে জানালেন পিটারসেন।

default-image

এরপর আসে বোলারদের হিসাব। সেখানে দুই স্পিনারকে রেখেছেন পিটারসেন—শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম জাম্পা। হাসারাঙ্গা এবারের টুর্নামেন্টেরই সেরা উইকেটশিকারি বোলার, ১৬ উইকেট নিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা প্রথম রাউন্ড থেকেই খেলায় হাসারাঙ্গা ম্যাচ বেশি পেয়েছেন, তবে সুপার টুয়েলভেও তিনি পেয়েছেন ১০ উইকেট। সুপার টুয়েলভে সবচেয়ে বেশি উইকেট পাওয়া অ্যাডাম জাম্পাকে দলে নিতেও পিটারসেনকে দুবার ভাবতে হয়নি। ‘মাঝের ওভারগুলোতে জাম্পার উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জেতার অনেক বড় একটা কারণ’—বলেছেন পিটারসেন।

তিন পেসারকে নিয়ে সম্পূর্ণ হয়েছে পিটারসেনের একাদশ। এর মধ্যে দুজনের নাম সম্ভবত সহজেই অনুমান করে নেওয়া যায়—সুপার টুয়েলভে জাম্পার সমান ১৩ উইকেট নেওয়া ট্রেন্ট বোল্ট আর টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ বোলিংয়ে ৭ উইকেট নেওয়া পাকিস্তানের শাহিন শাহ আফ্রিদি। অন্যজন দক্ষিণ আফ্রিকার আনরাইখ নর্কিয়া, টুর্নামেন্টে ৯ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

তবে আইসিসির চোখে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নারের জায়গা হয়নি পিটারসেনের একাদশে। ভারতীয় দলেরও কোনো খেলোয়াড়কে নেননি তিনি। অবশ্য গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়া ভারতের কোনো খেলোয়াড় এবার কোনো টুর্নামেন্ট-সেরা দলে জায়গা পেলে সেটিই বরং চমক হবে!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন