default-image

কিছুক্ষণ আগেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে মাহেলা জয়াবর্ধনেকে নিয়ে দারুণ একটা টুইট করেছেন সাবেক অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার টম মুডি। তিনি বলেছেন, ‘মাহেলা ২২ গজের সত্যিকারের একজন শিল্পি।’ মুডির মন্তব্যে কারোরই দ্বিমতের অবকাশ নেই। আজ দলের বিপদের মধ্যে এই লঙ্কান ব্যাটসম্যান ‘​শৈল্পিক’ ব্যাটিংয়ের অনুপম প্রদর্শনী ঘটিয়ে প্রমাণ করে দিলেন টম মুডির মন্তব্যটি কতটা স্বার্থক। বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ সেঞ্চুরিটি করে খাদের কীনারা থেকে দলকে তুলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে উপহার দিলেন দারুণ এক জয়।
প্রথমে ব্যাট করা আফগানিস্তানের ২৩২ রানের সংগ্রহটা কিন্তু শ্রীলঙ্কানরা সহজে পেরিয়ে যেতে পারেনি। বরং ইনিংসের শুরুতেই ভয়াবহ ব্যাটিং-বিপর্যয়ে দূর-দিগন্তে পরাজয়টা খুব স্পষ্টই দেখছিল তারা। লাহিরু থিরিমান্নে, তিলকরত্নে দিলশান, কুমার সাঙ্গাকারা ও দ্বিমুথ করুণারত্নে দলীয় ৫১ রানের মধ্যে ফিরে গেলে দলের হাল ধরেছিলেন ওই মাহেলা। অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে সঙ্গে নিয়ে ৫ম উইকেটে ১২৬ রানের দুর্দান্ত একটি জুটি গড়ে দলকে শুরুর বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেন। নিজে ১২০ বলে ১০০ রানের ইনিংসটি খেলেন দারুণ ঠান্ডা মাথায়, অনন্য দৃঢ়তার সঙ্গেই। তাঁর ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৪৮ মিনিটে, ৮টি চার ও একটি ছয়ের মারে।
আজ সেঞ্চুরি করে অনেকগুলো রেকর্ডের পাতায় নিজের নামকে পুনর্বিন্যাস করেছেন মাহেলা। আজকের সেঞ্চুরিটি বিশ্বকাপে তাঁর চতুর্থ—এটা বলা হয়েছে আগেই। বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বাধিক সেঞ্চুরির মালিকদের তালিকায় তিনি আজ নিজের নাম তুলে দিয়েছেন তৃতীয় স্থানে। শ্রীলঙ্কার হয়ে অবশ্য তিনিই এই মুহূর্তে বিশ্বকাপে সর্বাধিক সেঞ্চুরির মালিক। লঙ্কানদের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান করা ব্যাটসম্যানদের তালিকাতেও তিনি এই মুহূর্তে দ্বিতীয় স্থানে। তাঁর ওপর আছেন কেবল সনৎ​ জয়সূরিয়া। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আজকের জয়সূচক ইনিংসটি বিশ্বকাপে তাঁর নবম পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস।
আফগান বোলারদের দারুণ বোলিংয়ে ইনিংসের শুরুতেই পথ হারিয়েছিল লঙ্কানরা। দুই ওপেনার সাজঘরে ফেরেন ‘গোল্ডেন ডাক’ নিয়ে। সাঙ্গাকারা দুইবার ‘জীবন’ পেয়ে শেষে হামিদ হাসানের বলে বোল্ড হন। আফগানদের শুরুর প্রলয়টা অবশ্য ছিল দৌলত জাদরান ও শাপুর জাদরানের। হামিদ হাসান ফেরার দ্বিমুথ করুণারত্নেকেও। করুণার উইকেট নিয়ে হামিদ হাসান চলে গেছেন অন্য উচ্চতায়। আফগানিস্তানের হয়ে একদিনের ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি উইকেটশিকারী বোলার এখন তিনিই। হামিদ হোসেন ফিরিয়েছেন জয়াবর্ধনেকেও। তিনি এই মুহূর্তে অ-টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রততম সময়ে করে ফেললেন উইকেটের অর্ধশতকটি।
পঞ্চম উইকেট-জুটিতে ১২৬ রানের পরেও খেলাটা পুরোপুরি শ্রীলঙ্কার দখলে যায়নি। তবে শেষের অনিশ্চয়তাটাকে দূরে ঠেলে দেয় জীবন মে​ন্ডিস ও থিসারা পেরেরার মধ্যকার সপ্তম উইকেট-জুটি। এই দুই ব্যাটসম্যান ৫৮ রানে অবিচ্ছিন্ন থেকেই সব অনিশ্চয়তাকে কাটান দিয়ে দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে। সূত্র: স্টারস্পোর্টস-৪

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন