বিজ্ঞাপন

তহবিল গঠন করে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ভরত সুন্দরেসন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাবেক এই সাংবাদিক বহু দিন ধরেই চেষ্টা করছেন প্যাট্রিক প্যাটারসনকে ক্রিকেট–দুনিয়ায় ফেরাতে। একসময় যাঁর গতি আর নিয়ন্ত্রণে আঁতকে উঠতেন ভিভ রিচার্ডস-গ্রাহাম গুচদের মতো ব্যাটসম্যানরা, সেই প্যাটারসন বিষণ্ণতার কাছে হার মেনে দুই যুগ ধরে সবার চোখের আড়ালে থাকা এক জীবন বেছে নিয়েছেন। কিন্তু সেই জীবন আর চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না তাঁর পক্ষে।

গোফান্ডমিতে তহবিল গঠনের কারণ হিসেবে সুন্দরেসন লিখেছেন, ‘ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে ভীতিকর ফাস্ট বোলারদের একজন প্যাট্রিক প্যাটারসন। এরপর ২৫ বছরের জন্য দুর্ভাগ্যজনকভাবে পাদপ্রদীপের আলো থেকে হারিয়ে গিয়েছেন। তাঁকে খোজার জন্য তিনবার ক্যারিবিয়ায় যাওয়ার পর ২০১৭ সালে আমি জ্যামাইকাতে প্যাটারসনকে খুঁজে পেয়েছিলাম। ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর গৌরবের কথা খুব একটা মনে নেই তাঁর এবং কোনোমতে জীবন পার করছিলেন।’

‘গত চার বছর তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি এবং অনন্য এক উপায়ে ক্রিকেট মাঠে অসাধারণ কিছু কীর্তির গল্প তাঁকে দিয়ে বলিয়ে নিয়েছি। কিন্তু তাঁর দৈনন্দিন জীবন আরও খারাপ হয়েছে এবং এখন আপনাদের সাহায্য তাঁর দরকার।’

‘জনাব প্যাটারসনের এখন সামান্য খাবার কিনতেও কষ্ট হচ্ছে। দিনে দুই বেলা খাবার পাচ্ছেন না। আপনাদের সবার ভালোবাসা ও সমর্থন তাঁর দরকার। ওনার এটা প্রাপ্য। এই আবেদন শুধু ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের কাছে নয়; বরং বিশ্বের প্রতিটি গলি আর উঠোনে তাঁর অননুকরণীয় বোলিং অ্যাকশন ও গতি দেখে আমোদিত হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের সবার কাছেই করছি।’

default-image

এর আগে ভরত সুন্দরেসন পণ করেছিলেন, প্যাটারসনকে আড়াল থেকে বের করে আনবেন। ১৯৯৩ সালে শৃঙ্খলার কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল থেকে বাদ পড়েছিলেন প্যাটারসন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁকে সে বছরের পর আর দেখা যায়নি। জ্যামাইকার হয়ে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত লিস্ট এ ম্যাচ খেলেছেন। এরপরই ভোজবাজির মতো হাওয়ায় মিলিয়ে গেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সম্মান না পাওয়া আর সে সঙ্গে অমূলক কিছু শঙ্কা মিলিয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বসেন। নিজেকে একঘরে করে ফেলেন এরপর।

মাঝে ২০টা বছর তাঁর খোঁজ পায়নি কেউ। বহুজন বহুভাবে চেষ্টা করেছেন। একসময়ের সতীর্থ ভিভ রিচার্ডস, কোর্টনি ওয়ালশরা বহু চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কোনো কিছুতে সাড়া মেলেনি প্যাটারসনের। ২০১১ সাল থেকে তাঁর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা চালিয়েছেন সুন্দরেসন। সবাই জ্যামাইকার কিংস্টনে খোঁজ চালিয়েই থেমে যেতেন, ২০১৩ সালে প্যাটারসনের খোঁজে সুন্দরেসন একেবারে তাঁর মা–বাবার সঙ্গেই দেখা করে এসেছিলেন। তাঁর জন্মভূমি পোর্টল্যান্ডে গিয়েও অবশ্য প্যাটারসনের দেখা মেলেনি। মা–বাবা জানতেন তিনি বেঁচে আছেন, কথাবার্তা হতো, কিন্তু তিনি কোথায় থাকেন সেটা জানতেন না তাঁরাও!

২০১৭ সালে গিয়ে প্যাটারসনের দেখা পেয়েছেন সুন্দরেসন। বহু চেষ্টার পর তাঁকে বাসা থেকে বের করে এনে ক্রিকেটীয় দিনের গল্প করারও চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাইরের দুনিয়া থেকে নিজেকে এখনো গুটিয়ে রাখেন প্যাটারসন। সেটাই কাল হয়ে উঠেছে ৫৯ বছর বয়সী সাবেক ফাস্ট বোলারের। সুন্দরেসন তাই আরেকবার চেষ্টা চালাচ্ছেন কিংবদন্তিকে ফেরানোর। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শুরু করা তহবিলে ৪ হাজার ৬৫ ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। সুন্দরেসনের লক্ষ্য ২০ হাজার ডলার।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন