default-image

ফেবারিটের তকমা আছে দুদলের গায়েই। অনেকেই ফাইনালিস্ট হিসেবে দেখছেন দল দুটোকে। তার চেয়েও বড় কথা, দুটি দলই এবারে বিশ্বকাপ আসরের স্বাগতিক। তাই হয়তো অনেকেই কালকের অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড লড়াইটিকে ফাইনালের ড্রেস রিহার্সাল হিসেবে দেখছেন। যদিও ঘরের মাঠের সুবিধাটা কাল পাচ্ছে নিউজিল্যান্ড দল। অকল্যান্ডের ইডেন পার্ক মাঠে কাল চারবারের চ্যাম্পিয়নরা মুখোমুখি হচ্ছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা কিউইদের। লড়াইটা বেশ জমজমাট হবে বলেই আশা সবার। বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা হয়েছে দুর্দান্ত। প্রথম তিনটি ম্যাচের প্রতিটিতেই জয়। উপরি পাওনা হিসেবে কাল কিউইরা খেলবে নিজেদের দর্শকদের সামনেই।
পিছিয়ে নেই অস্ট্রেলিয়াও। বাংলাদেশের বিপক্ষের খেলাটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলেও নিজেদের প্রথম ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংলিশদের তারা একরকম গুঁড়িয়েই দিয়েছে। ১১১ রানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। আত্মবিশ্বাসটা তাই অটুট আছে অস্ট্রেলিয়া দলের। উড়তে থাকা কিউইদের যে ছেড়ে জবাব দেবে না তারা, সেটা অনুমেয়ই।
নিজেদের খেলা সর্বশেষ পাঁচটি ম্যাচের পাঁচটিতেই অপরাজিত উভয় দল। ব্যাটিং, বোলিং-ফিল্ডিং প্রতিটি বিভাগেই দারুণ ছন্দে আছেন দুদলের খেলোয়াড়েরাই। গত ম্যাচগুলোয় রান পেয়েছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, মার্টিন গাপটিল বা কোরি অ্যান্ডারসনের মতো খেলোয়াড়েরা। রস টেলরের ব্যাট এখনো পুরোপুরি জেগে উঠতে না পারলেও কাল নিশ্চয়ই লক্ষ্য থাকবে একটি অর্ধশতাধিক রানের ইনিংস খেলার। কারণ আর মাত্র ৫৯ রান হলেই ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত ৫০০০ রানের মাইলফলকটি ছুঁয়ে ফেলবেন তিনি। কাঁধে চোট পেলেও তা কালকের ম্যাচটি খেলার পথে বাধা হয়ে উঠবে না বলেই দৃঢ় ধারণা টিম সাউদির। এখন পর্যন্ত ১১ উইকেট নিয়ে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৩ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে তিনি গড়েছেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় সেরা বোলিং সাফল্যের নজির। কালকেও নিশ্চয়ই জ্বলে উঠতে চাইবেন তিনি।

ইনজুরির মেঘ কেটে গেছে অস্ট্রেলিয়া দলের ওপর থেকেও। প্রায় দু সপ্তাহ পর হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার প্রবল সম্ভাবনা নিয়মিত অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের। এ জন্য অবশ্য একাদশে জায়গা ছেড়ে দিতে হতে পারে আপৎ​কালীন অধিনায়কের দায়িত্ব সামলানো জর্জ বেইলিকে। অস্ট্রেলিয়া একাদশে বদল আসতে পারে আরও একটি। পেস অ্যাটাকে জশ হ্যাজলউডের জায়গায় দেখা যেতে পারে প্যাট কামিন্সকে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ তো বরাবরই দুর্দমনীয়। প্রথম ম্যাচেই ১৩৫ রানের বিধ্বংসী একটি ইনিংস উপহার দিয়েছেন অ্যারন ফিঞ্চ। রান এসেছে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ব্যাট থেকেও। ডেভিড ওয়ার্নার, শেন ওয়াটসনও রানে ফিরতে মরিয়া।
সব পরিস্থিতিই ইঙ্গিত দেয় একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের। ভৌগোলিক অবস্থানে দুটো দেশ প্রতিবেশী। কিন্তু মাঠে তো আর নয়। ইডেন পার্কে কাল দুদল নামবে একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে। টান টান উত্তেজনার একটি ম্যাচের আশা করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। তাঁদের চাওয়া কতটুকু পূরণ হয় অপেক্ষা এখন তা দেখার।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন