বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৩৯৯ উইকেট নিয়ে ব্রিসবেন টেস্টে খেলতে নেমেছিলেন লায়ন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে উইকেট পাননি। অবশ্য ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরাই লায়নকে পর্যাপ্ত ‘সুযোগ’ দেননি! মাত্র ৫০.১ ওভারে ১৪৭ রানে গুটিয়ে গেলে একজন ‘ক্ল্যাসিক’ অফ স্পিনার সেখানে বোলিংয়ের সুযোগ পান কীভাবে?

মাত্র ৯ ওভার বল করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। লায়নের মতো ‘ক্ল্যাসিক’ স্পিনারদের ক্ষেত্রে ৮-৯ ওভার তো ব্যাটসম্যানকে ‘সেট আপ’ (ফাঁদ পাতা) করতেই লাগে!

কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে পর্যাপ্ত সুযোগটা পেয়ে যান লায়ন। তৃতীয় দিনে ২৪ ওভার বল করেও উইকেট পাননি। আজ পঞ্চম দিনে খেলা শুরুর চতুর্থ ওভারে ডেভিড ম্যালানকে তুলে নিয়ে প্রায় ১১ মাসের (৩২৬ দিন) প্রতীক্ষার অবসান ঘটান লায়ন। নতুন ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রে তাঁর মতো ধ্রুপদি ঢঙের স্পিনাররা যেকোনো উইকেটেই ভয়ংকর। ঘটেছেও ঠিক তা–ই।

প্রথমটি পেয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম অফ স্পিনার হিসেবে চার শ উইকেটের ক্লাবে নাম লেখানোর পর আরও ৩ উইকেট তুলে নিতে লায়নের তেমন সময় লাগেনি।

প্রতীক্ষার কথা বলা হচ্ছিল। সেটা আগে খোলাসা করা যাক। ব্রিসবেনে খেলতে নামার আগে লায়ন টেস্টে সর্বশেষ উইকেট পেয়েছিলেন এ বছরের ১৯ জানুয়ারি ভারতের বিপক্ষে এই ব্রিসবেন টেস্টেই।

তারপর এই ৩২৬ দিনে ২০৮টি নিষ্ফলা ডেলিভারির পর ‘ফোর হানড্রেড ক্লাব’-এর দেখা পেলেন ৩৪ বছর বয়সী এ অফ স্পিনার। টেস্টে ১৭তম বোলার হিসেবে এই মাইলফলকের দেখা পেলেন তিনি। শেন ওয়ার্ন ও গ্লেন ম্যাকগ্রার পর তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ান।

টেস্টে উইকেট নেওয়া প্রসঙ্গে লায়ন একবার বলেছিলেন, ‘পরের উইকেটটা (নেওয়াই) সবচেয়ে কঠিন। মনকে সব সময় এভাবে প্রস্তুত রাখি এবং তা কখনো পাল্টাবে না।’ টেস্ট অভিষেকে প্রথম বলেই উইকেট নেওয়া এই স্পিনার যে মিথ্যা বলেননি তা বুঝিয়ে দিচ্ছে পরিসংখ্যানও। সিডনিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে গত বছর ৬ জানুয়ারি নিজের ৩৯০তম উইকেটটি পেয়েছিলেন লায়ন। পরের ১০টি উইকেট নিয়ে ‘৪০০’ ছুঁতে তাঁর সময় লাগল ৭০৪ দিন! টেস্ট ইতিহাসে ৩৯০ থেকে ৪০০ উইকেটের দেখা পেতে এটাই সবচেয়ে বেশি সময় লাগার উদাহরণ। রিচার্ড হ্যাডলিকে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল ৪২৭ দিন।

তবে ৪০০তম উইকেটটি নিয়ে ‘আইস ব্রেক’-এরপর পট পট করে আরও ৩টি তুলে নেন লায়ন। তাই দেখে মজার এক টুইট করেন নেদারল্যান্ডস নারী দলে খেলা মিডলসেক্সের সাবেক অধিনায়ক, ক্রিকেট লিখিয়ে ও আইনজীবী ইসাবেল ওয়েস্টবুরি, ‘বুঝতেই পারিনি লায়ন অনেকটাই লন্ডনের বাসের মতো। ৩৯৯তম থেকে ৪০০তম উইকেটের দেখা পেতে ৩২৬ দিন অপেক্ষার পর পরেরটি তুলে নিতে তাঁর সময় লেগেছে ৩২৬ সেকেন্ড।’

৩২৬ সেকেন্ড—ওয়েস্টবুরির উল্লেখ করা সময়ের এ হিসাবটা পুরোপুরি সঠিক কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ৭৪তম ওভারের (চতুর্থ দিনে তাঁর দ্বিতীয় ওভার) চতুর্থ বলে ডেভিড ম্যালানকে আউট করে ৪০০তম উইকেটের দেখা পান লায়ন।

মাঝে তিন ওভার পর নিজের চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলে তুলে নেন ওলি পোপকে। মাঝের এ তিন ওভারের মধ্যে দুই ওভার বল করেন পেস অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন। অন্য ওভারটি লায়নের, যে ওভারে তিনি পোপকে আউট করে ৪০১তমের দেখা পান।

default-image

গ্রিন পেসার হওয়ায় রানআপ নিয়ে বল করেছেন দুই ওভার, তাতে সময়টা স্পিনারদের চেয়ে বেশি লেগেছে। এর মধ্যে ওভার শেষে ফিল্ডারদের জায়গা অদলবদলে সময়ক্ষেপণ তো রয়েছেই। কিন্তু ওয়েস্টবুরি বলছেন ৩২৬ সেকেন্ড—অর্থাৎ ৫ মিনিট ২৬ সেকেন্ড পর।

এ সময়ের মধ্যে একজন পেসারের দুটি ওভার এবং একজন স্পিনারের ১.৩ ওভার শেষ করা প্রায় অসম্ভব। তবে যা–ই হোক না কেন, লায়নের ক্ষেত্রে ওই প্রবাদটি সর্বৈব সত্যি—‘কস্ট করলে কেষ্ট মেলে!’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন