বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

আজ সকালে মুমিনুলেরও একই অনুভূতি হওয়ার কথা। আজহারের জন্য ইডেন গার্ডেন যা, জয়াবর্ধনের জন্য এসএসসি—মুমিনুলের জন্য চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামও তো তার চেয়ে কম নয়। টেস্টে তাঁর ১১ সেঞ্চুরির ৭টিই এই মাঠে। ২১ ইনিংসে গড় ৬৬.৮৩, ক্যারিয়ার গড়ের চেয়ে যা প্রায় ২৬ বেশি। ওই ৭ সেঞ্চুরির দুটি আবার একই টেস্টের দুই ইনিংসে। যে কীর্তি বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যানের নেই। সেটি কোন দলের বিপক্ষে, জানেন? শ্রীলঙ্কা!

এখানেই আসছে ‘ডাবল বোনাস’ কথাটা। মুমিনুলের ক্যারিয়ারে শ্রীলঙ্কা নিয়ে অনেক সুখস্মৃতি। ২০১৩ সালে এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই টেস্ট অভিষেক। যেটি রঙিন হাফ সেঞ্চুরিতে। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও যার পুনরাবৃত্তি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯ টেস্টে ৪টি সেঞ্চুরি ও ৩টি হাফ সেঞ্চুরি, গড় ৫৮.৯৩। সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, সবচেয়ে বেশি ব্যাটিং গড়ও। শুধু দেশেই সেঞ্চুরি করতে পারেন, দেশের বাইরে পারেন না—এই দুর্নামও ঘোচানোর কাজটাও শ্রীলঙ্কাকে দিয়েই করেছেন। দেশের বাইরে কোনো সেঞ্চুরি করার আগে দেশে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ডটা এখনো তাঁরই, তবে এখন আর সেটি মুমিনুলকে কোনো যন্ত্রণা দেয় বলে মনে হয় না।

পয়া মাঠ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, প্রিয় প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা—এই দুটি এক বিন্দুতে এসে না-ও মিলতে পারত। এমন তো হতেই পারত, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মুমিনুলের অনেক সাফল্য, কিন্তু তা এ মাঠে নয়। তা শুধু মিলছেই না, এই মাঠে শ্রীলঙ্কাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়া মানেই মুমিনুলের ব্যাটে রানের ফল্গুধারা। টেস্ট খেলেছেন দুটি, সেই দুই টেস্টেই ৩টি সেঞ্চুরি। ব্যাটিং গড় রীতিমতো চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতো—১৩১.৩৩!

default-image

এসব মনে করিয়ে দিলে মুমিনুল শুধু হাসেন। অদ্ভুত এক নির্লিপ্ততা আছে তাঁর মধ্যে। সবকিছু সহজভাবে নেওয়ার আশ্চর্য এক ক্ষমতা। ভালো করলে অবশ্যই আনন্দ হয়, খারাপ করলে আত্মদহন। কিন্তু সেসবের বাহ্যিক প্রকাশ বলতে গেলে ঘটেই না। পরশু সন্ধ্যার আড্ডাটাকেই একটু আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে কাল দুপুরে টেস্ট-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে প্রিয় মাঠ আর প্রিয় প্রতিপক্ষের কথাটা তুলেছিলাম আবারও। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এত সব ভালো পারফরম্যান্সের মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় কোনটা? শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই বা কোনটা? এখানেও সেই চিরচেনা মুমিনুল। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১১৫-ই এই মাঠে সর্বশেষ সেঞ্চুরি বলে কি না, সেটির কথাই মনে পড়ল আগে। সঙ্গে অবশ্য যোগ করে দিলেন, ওই টেস্টে বাংলাদেশ হেরে গিয়েছিল বলে সেটির কোনো মূল্য নেই।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেরা পারফরম্যান্স? অনুমিতভাবেই ২০১৮ সালের ওই জোড়া সেঞ্চুরি। প্রতিপক্ষ ড্রেসিংরুমে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের উপস্থিতির কারণে কি তা আরও বেশি স্মরণীয়? মুমিনুলের নির্লিপ্ত জবাব, ‘না, সে কারণে নয়।’

default-image

মুমিনুলকে যতটুকু চিনি, তাতে এই উত্তরই প্রত্যাশিত ছিল, যা বিশ্বাস করার প্রশ্নই উঠছে না। কারণটা বললে আপনিও তা বুঝতে পারবেন। ওই জোড়া সেঞ্চুরি তো মুমিনুলের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে অপমানজনক অভিজ্ঞতার জবাব। যেটির মূলে এই চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে মুমিনুলকে ৮ নম্বরে নামিয়ে দিয়েছিলেন সে সময়কার বাংলাদেশ কোচ। একজন স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যানের জন্য এর চেয়ে বড় অপমান আর কী হয়! হাথুরুসিংহের ওই সিদ্ধান্তটা যে ক্রিকেটীয় ছিল না, তা অনুমান করা কঠিন কিছু ছিল না। কেন এমন অনুমান, তা বুঝতে একটা তথ্য মনে করিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওই সিরিজের দল থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছিল মুমিনুলকে। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে তুমুল সমালোচনার পর নির্বাচকেরা (পড়ুন হাথুরুসিংহে) মুমিনুলকে ডাকতে বাধ্য হন। ঢাকায় প্রথম টেস্টে মুমিনুলকে বাইরে বসিয়ে রাখার পর চট্টগ্রামে ৮-এ নামিয়ে দিয়ে যার শোধ নেন হাথুরুসিংহে।

নিয়তির কী খেলা, বছর না ঘুরতেই শ্রীলঙ্কার কোচ হয়ে বাংলাদেশে এসে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে দেখলেন, ৮-এ নামিয়ে দেওয়া সেই ব্যাটসম্যান তাঁর দলের বিপক্ষে জোড়া সেঞ্চুরি করে বসেছেন। দুটি ঘটনাই একই মাঠে পরপর দুই টেস্টে। কোন মাঠ, তা বোধ হয় অনুমান করে ফেলেছেন।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন