default-image

সমর্থকদের গলা ফাটানো চিৎকারটাকে যদি রান আর উইকেটে বদলে নেওয়ার সুযোগ থাকত, তাহলে আগে থেকেই নিশ্চিন্তে বলে দেওয়া যেত—আজকের ম্যাচটা ভারতই জিতবে। মেলবোর্নের রাস্তা, রেস্তোরাঁ এরই মধ্যে ছেয়ে গেছে ভারতীয় সমর্থকে। ধারণা করা হচ্ছে, আজ গ্যালারির বেশিটাই তাদের দখলে থাকবে। যেটির আভাস পেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড পর্যন্ত বলে দিয়েছেন, ‘ভারতের জন্য এক অর্থে এটা তো নিজের মাঠে খেলার মতোই।’
এটা ম্যাচের আগের একটা ছবি। যেখানে ভারতকে একটু এগিয়ে রাখতে হচ্ছে। কিন্তু অন্য একটা ছবিও আছে। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারত যেমন ৬-০ এগিয়ে, তেমনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩-০-তে পিছিয়ে। ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে ইতিহাস তাই দক্ষিণ আফ্রিকার হয়েই কথা বলে।
বিশ্বকাপে এবার দুই দল শুরুটাও করেছে দুর্দান্ত। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। দক্ষিণ আফ্রিকার জয়টা অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ওই ম্যাচেই কুইন্টন ডি কক, হাশিম আমলা, এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ফাফ ডু প্লেসির মতো ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হয়েছেন, কিন্তু ডেভিড মিলার আর জেপি ডুমিনি দেখিয়েছেন কতটা শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটিং। বিরাট কোহলি, শিখর ধাওয়ান আর রোহিত শর্মাদের চেয়ে তাই কোনোভাবেই পিছিয়ে রাখার উপায় নেই প্রোটিয়া ব্যাটিং লাইনআপকে।
ঐতিহ্যগতভাবেই দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডিং বিশ্বের অন্যতম সেরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ফিল্ডিং যথেষ্ট ভালো হলেও এখানটায় স্পষ্টতই দক্ষিণ আফ্রিকা এগিয়ে। যেমন এগিয়ে তাদের পেস আক্রমণ। ডেল স্টেইন, ভারনন ফিল্যান্ডার ও মরনে মরকেলের মতো বোলারদের সামর্থ্য আছে যেকোনো দিন পৃথিবীর সেরা ব্যাটিং লাইনআপটাকেও দিশেহারা করে দেওয়ার। সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ তাই আগে থেকেই বলে দিয়েছেন, ‘মেলবোর্নে মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং ও ভারতীয় ব্যাটিংয়ের লড়াই দেখবে ক্রিকেট-বিশ্ব।’ আরেক সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান জন্টি রোডসের মতে, ডেল স্টেইনকে সামলানোই হবে ভারতের ব্যাটসম্যানদের বড় চ্যালেঞ্জ, ‘ভারতীয় ওপেনাররা যদি স্টেইনকে একটাও উইকেট না দিয়ে শুরুটা করতে পারে, তা হলে পরের ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় ইনিংস গড়া সহজ হবে।’ কথাটা যে একেবারে ভুল নয় তার প্রমাণ মিলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা-জিম্বাবুয়ে ম্যাচেই। ৯ ওভার বল করে ৬৪ রান দিয়েছেন সেদিন স্টেইন, একমাত্র উইকেটটা পেয়েছেন নিজের ৮ম ওভারে। ম্যাচ হারলেও জিম্বাবুয়েও চোখে চোখ রেখে কথা বলেছে, তুলেছে ২৭৭ রান।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিদিনই কি আর এমন ছন্দহীন থাকবেন স্টেইন? জবাবটাও আজই মিলবে মেলবোর্নে। এএফপি, ক্রিকইনফো।
মুখোমুখি ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা
ম্যাচ ভারত দ. আফ্রিকা টাই/পরি.
মোট ৭০ ২৫ ৪২ ০/৩
বিশ্বকাপে ৩ ০ ৩ -
অস্ট্রেলিয়ায় ১ ০ ১ -
২০০১
সবচেয়ে বেশি রান শচীন টেন্ডুলকারের
২০০*
সর্বোচ্চ ইনিংসও টেন্ডুলকারের
৪৮
সবচেয়ে বেশি উইকেট শন পোলকের
৫/৬
সেরা বোলিং সুনীল যোশির
বিশ্বকাপে একমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকাকেই এখনো হারাতে পারেনি ভারত। বিশ্বকাপে তিনবার খেলে তিনবারই হারা ভারত দুই দলের সর্বশেষ ১০ লড়াইয়ের সাতটিতেও হেরেছে।
মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ৯ ম্যাচ খেলে ৭টিতেই জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। উল্টো দিকে ভারত ১৮ ম্যাচে খেলে জিতেছে আটটিতে।
ভারতের বিশ্বকাপ দলের শিখর ধাওয়ানেরই শুধু ওয়ানডে সেঞ্চুরি আছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স (৩), কুইন্টন ডি কক (৩) ও হাশিম আমলা (২) মিলে করেছেন ৮ সেঞ্চুরি।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন