default-image

অথচ জিম্বাবুয়ে সফর শেষে সৌম্যর কাছে ধারাবাহিকতা চেয়েছিলেন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘সৌম্য খুবই ভালো করছে (জিম্বাবুয়ে সফরে)। কিন্তু বারবার একটা জিনিসই চাইছি তার কাছে, সেটা হচ্ছে ধারাবাহিকতা। সবাই জানি সে খুবই ভয়ংকর ব্যাটসম্যান। কিন্তু ধারাবাহিকতায় ঘাটতি আছে। আশা করি, এটাই ওর ধারাবাহিক হয়ে ওঠার শুরু।’

সৌম্যর ধারাবাহিক হয়ে ওঠার বড় বাধা তাঁর ঘরের মাঠের পারফরম্যান্স। এখন পর্যন্ত ৬০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা সৌম্যর দেশের চেয়ে দেশের বাইরের কন্ডিশনেই রেকর্ড বেশি উজ্জ্বল। দেশের মাটিতে ২৫ ইনিংসে সৌম্যর গড় মাত্র ১৮.৫১, স্ট্রাইক রেট ১২২.৫১। রান করেছেন ৪১৯। দেশের বাইরে ২২ ইনিংসে সৌম্যর রান ৫৬৩। গতিময় উইকেটে সৌম্যর গড় বেড়ে যায় ইনিংসপ্রতি ২৬.৮০ রান। ১৩৭.৬৫ স্ট্রাইক রেটও ঈর্ষণীয়। সৌম্যর ক্যারিয়ার–সেরা ৬৮ রানের ইনিংসটিও এসেছে দেশের বাইরে।

default-image

ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীনের কথাও সৌম্যর ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানকে সমর্থন করে, ‘জিম্বাবুয়ের মতো কন্ডিশন তাকে বেশি মানায়। ঘরের মাঠের কন্ডিশন সৌম্য অতটা উপভোগ করে না।’ তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব কন্ডিশনের ব্যাটসম্যান না হলে টিকে থাকা কঠিন, ‘উপভোগ করুক আর না করুক, ব্যাটসম্যানকে সব কন্ডিশনেই মানিয়ে নিতেই হবে। সেখানেই সমস্যা হচ্ছে। প্রতিটা উইকেটের চ্যালেঞ্জই ভিন্ন। কোথাও বাউন্স বেশি, কোথাও টার্ন বেশি, কোথাও বা উইকেট স্লো। একেক উইকেটে একেক ধরনের শট খেলতে হয়, একেকভাবে রান করতে হয়। সেভাবেই ব্যাটসম্যানরা মানিয়ে নেয়। এই মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেই ওর সমস্যা হচ্ছে।’

default-image

সংস্করণটা টি-টোয়েন্টি বলেই সৌম্যর কাজটা কঠিন হচ্ছে বলে মনে করেন নাজমুল। উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে যে সময়টা দরকার, সেটি টি-টোয়েন্টিতে পাওয়া সম্ভব নয়, ‘টি-টোয়েন্টিতে হাতে তো বেশি সময় থাকে না। কয়েকটা ডট বল গেলেই সেটি বিশাল চাপ হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিবার সেটাই হচ্ছে। নামতে নামতেই ৫-৭টা বল চলে যাচ্ছে। ওই চাপটা অনুভব করছে। তারপর তাড়াহুড়ায় একটা শট খেলতে গিয়ে আউট হচ্ছে। ভাগ্যটাও খারাপ যে ওর ব্যাটে বলই লাগছে না। ও যদি টিকে থাকত, একটা শট ওর লাগত। তাহলে হয়তো আত্মবিশ্বাসটা পেত। ওই আত্মবিশ্বাসটাই পাচ্ছে না। সেটিই ব্যাটিংয়ে প্রভাব ফেলছে।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন