ফর্মেই ছিলেন, মনে করিয়ে দিলেন লিটন
প্রথম ম্যাচে ফজলহক ফারুকির দুর্দান্ত এক বল লিটন দাসকে মাত্র ১ রানে থামিয়ে দিয়েছিল। ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ফর্ম নিয়ে তাই কথা উঠে গিয়েছিল আবার। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই টি-টোয়েন্টি সংস্করণে রান না থাকায় অনেকের মনেই হয়তো গেঁথে গেছে, রান পাচ্ছেন না লিটন দাস। বিপিএলের শেষ দিকেও টানা ব্যর্থতা সে ধারণার ভিত আরও পোক্ত করেছে।
আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১২৬ বলে ১৩৬ রানের ইনিংসে সেই ‘হারানো ফর্ম’ ফিরে পেয়েছেন লিটন। তাঁর শতক আর মুশফিকের দারুণ অর্ধশতকে ম্যাচটা বাংলাদেশ হেসেখেলেই ৮৮ রানে জিতেছে। এরপর ম্যাচ শেষে লিটনের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল তাঁর ফর্ম ফিরে পাওয়া প্রসঙ্গেই। ম্যাচসেরার পুরস্কার নিতে যাওয়া লিটন মনে করিয়ে দিয়েছেন, ফর্ম কিন্তু হারাননি, বরং সংস্করণ বদলটা সামলে নিতেই পুরোনো ফর্ম ফিরে পেয়েছেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে ব্যস্ততা বিশ্বের সব দলকেই ২০২১ সালে ওয়ানডে থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল। বাংলাদেশ ১২টি ম্যাচ খেললেও সর্বশেষটি ছিল সেই জুলাইয়ে। সেই সিরিজেই একটি শতক ছিল লিটনের। অর্থাৎ ওয়ানডেতে মাত্র ৩ ম্যাচ বিরতি দিয়েই শতক পেয়েছেন লিটন। আর তাতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত (৪৯ ইনিংসে) পাঁচটি শতক হয়ে গেল তাঁর।
কিন্তু দর্শকের স্মৃতিতে তো গত ম্যাচের দ্রুত আউট হয়ে ফেরাটাই বেশি তাজা। উঁকি দেয় সদ্য শেষ হওয়া বিপিএলের ইনিংসগুলোও। এর আগেই টেস্টে যে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ টেস্টে ১টি শতক ও ২টি অর্ধশতক করেছেন লিটন, সেটা তাই আড়ালেই চলে গেছে।
আজ ম্যাচ শেষে তাই ফর্ম হারানো বা ফর্ম ফিরে পাওয়ার প্রসঙ্গে লিটন মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘অনেক দিন পর ওয়ানডে খেলছি। তবে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কিছুই বদলাইনি।’ মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে আফগানিস্তানকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেওয়া ২০২ রানের তৃতীয় উইকেট জুটির সময় কী ভাবছিলেন, সেটাও জানালেন লিটন, ‘মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে ব্যাটিং করা সব সময় উপভোগ করি। ওনার সঙ্গে আমার আরও বেশ কিছু জুটি আছে। পরিকল্পনা ছিল অন্তত ৩০-৩৫ ওভার খেলা। এই মানসিকতা নিয়েই এগিয়েছি।’
সিরিজ জয়ের তৃপ্তি নিয়ে মাইক্রোফোনের সামনে এসে বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবালও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন লিটন ও মুশফিকের জুটিকে, ‘লিটন ও মুশফিক যে জুটি গড়েছে, সেটা অসাধারণ ছিল।’
তবে শেষ পর্যন্ত তামিমের কিছুটা অতৃপ্তি ব্যাটিং নিয়েই! আরও নির্দিষ্ট করে বললে ব্যাটিংয়ের শেষটা নিয়ে। ৪৭তম ওভারে পরপর দুই বলে লিটন ও মুশফিক ফিরে যাওয়ায় শেষ চার ওভারে মাত্র ২২ রান তুলতে পেরেছে বাংলাদেশ, যেখানে এর আগের তিন ওভারে এসেছে ৩৮ রান! তামিমের তাই আক্ষেপ, ‘ব্যাটিংয়ে হয়তো শেষটা ভালোভাবে করতে পারিনি, তবে বোলাররা সেটা পুষিয়ে দিয়েছে।’