default-image
ঘরোয়া ক্রিকেটে ফর্ম দেখিয়ে লাভ নেই, ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে কোন খেলোয়াড় কী সামর্থ্য রাখে, সেটা বিবেচনা করেই গড়া হতে পারে বিশ্বকাপ দল। এমনটাই আভাস দিলেন মাশরাফি!


ফিনিশার! এই একটা শব্দের হাহাকার বাংলাদেশের ক্রিকেটে। শেষের ওভারগুলোতে ঝড় তোলা, কিংবা হিসেব কষে ম্যাচ শেষ করে দিয়ে আসা—এই শূন্যতা যেন কিছুতেই পূরণ হচ্ছে না। লোয়ার-মিডল অর্ডারের একজন আস্থাবান ব্যাটসম্যানের এই একটাই সংকট আপাতত মাশরাফি বিন মুর্তজার কাছে বড়। দলে কার ফর্ম নেই, বিদেশের মাটিতে কে কেমন করছে...এসব খুব একটা আমলে নিতে চাইলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক।

আজ মিরপুরে মাশরাফি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমার কাছে অনেক দিন থেকে একটা ব্যাপার মনে হয় যে আমাদের ফিনিশিংয়ে একটু দুর্বলতা আছে। এর জন্য জুনিয়রদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। পুরো দলেরই একটি সমস্যার জায়গা আছে যে আমরা খেলাটা শেষ করতে পারছি না। গত দুই-তিন বছরে এমন অনেক ক্লোজ ম্যাচ আমরা হেরেছি। শুধু রান তাড়া করার সময় নয়, এমনকি প্রথমে ব্যাটিং করার সময়ও আমরা ভালো অবস্থানে থেকে ভালো স্কোর দাঁড় করাতে পারিনি। সুতরাং এই জায়গায় আমাদের একটি সমস্যা আছে।’

২০১৯ বিশ্বকাপে এই একটা সমস্যাই বড় পার্থক্য যে গড়ে দিতে পারে, হুঁশিয়ারির সুরে সেটিও মনে করিয়ে দিচ্ছেন মাশরাফি, ‘বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে এই জায়গাটি (ফিনিশার) অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এমন কিছু ম্যাচ আসবেই। আর শুরুতে ৯টা ম্যাচ আছে, কিছু ম্যাচ আসবে যেগুলো এমন ক্লোজ হবে। দলে একজন ফিনিশার থাকা না-থাকা দলের জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। এটি নিয়ে আমরা অবশ্যই উদ্বিগ্ন। আমার বিশ্বাস, যে ভুলগুলো করেছি সেগুলো হয়তোবা কমাতে পারব। আমি বলতে চাইছি না যে শতভাগ সফলতা পাব। কারণ এটি অনেক দিনের সমস্যা। এর সমাধানও সময়সাপেক্ষ। আশা করি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ঠিক হয়ে যাবে।’

বাংলাদেশ ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিচ্ছে আসলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলে। এই লিগ শেষ হতে না হতেই আয়ারল্যান্ড সিরিজের জন্য গোছাতে হবে ব্যাগ। মাশরাফি অবশ্য মনে করেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খুব বেশি হেরফের এনে দেবে না, ‘আসলে আমি ঢাকা লিগ নিয়ে তেমন একটা ভাবিত না। এখানে অনেকবার দেখেছি, যে মানুষ দিনের পর দিন ১০০ হাঁকায়, সেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গিয়ে রানের জন্য ধোঁকে। উইকেট বলেন, মানসিকতা বলেন; এগুলো তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কাছাকাছি না। আমার কাছে মনে হয় মানসিকতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মানসিকভাবে প্রস্তুত কি না, এটার সঙ্গে ওই খেলোয়াড় ম্যাচে নির্দিষ্টভাবে কী করছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে মনে হয় বিশ্বকাপ পুরোপুরি মানসিক খেলা। এই এক-দেড় মাসে আপনি এখানে ৫-৬ উইকেট পেয়েও ওখানে গিয়ে ধুঁকতে পারেন। তাই মানসিকভাবে কতটা তৈরি সেটা গুরুত্বপূর্ণ।’

এ কারণেই লিটনের ফর্মের চেয়ে তাঁর মানসিক প্রস্তুতিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক, ‘এখান থেকে রান করে গেলে বিশ্বকাপে সেই খেলোয়াড় ওই ফর্মটাই ধরে রাখবে, এটার সঙ্গে আমি একমত নই। একই সঙ্গে লিটন কী মানের খেলোয়াড়, সেটি হয়তো একটি-দুটি ম্যাচে সম্প্রতি দেখতে পেরেছি। এশিয়া কাপ ফাইনালের কথা আমি বলছি। আমার কাছে মনে হয়, ও প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করে দেয়, এমন একজন হয়ে উঠতে পারে। এই সম্ভাবনা তাঁর মধ্যে আছে। ব্যাটিং কোচও ওকে নিয়ে কাজ করছে। আসলে ধারাবাহিকতাটা গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি, ও যদি নিজের স্বাভাবিক ক্রিকেটটা খেলে, সেটি আমাদের দলের জন্য অনেক বড় সুবিধার হবে।’

তাহলে তো বিশ্বকাপের স্কোয়াডে খুব বেশি পরিবর্তন আসছে না। দলটা তো একই থাকছে, গত কিছুদিন ধরে যারা একাদশে বা স্কোয়াডে ছিল? মাশরাফি এ ব্যাপারে একটু নৈর্ব্যক্তিক থাকতে চাইলেও আসল কথাটাই বলে দিলেন, ‘আমি দল নির্বাচনের দায়িত্বে নেই। কিন্তু যে ১৫ জনই আসুক না কেন, তারা পারফর্ম করে আসছে কি না, সেটি বিষয় নয়। আমাদের মূল ফোকাস থাকবে আয়ারল্যান্ড সিরিজ এবং বিশ্বকাপে আমরা দল হিসেবে কেমন করছি সেটা। সুতরাং দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করাটাই শেষ নয়; আমি আগের-পরের কথা টেনে এনে বলছি, এখানে অনেক উইকেট পেয়েও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমরা স্ট্রাগল করেছি, আমার মতো সিনিয়র ক্রিকেটার বা অন্য যারা আছে, তারাও করেছে। আবার এখানে খারাপ করেও দেখা গেছে ওখানে গিয়ে আমরা ভালো করেছি। আকাশ আর পাতাল ব্যবধান দুটি জায়গার মধ্যে। এই কারণে বলছি, মানসিক দিক থেকে তৈরি থাকার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। হয়তো দেখা গেল, এখানে কেউ লিগ খেলছে ঠিকই, তবে সে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ে কাজ করছে যেটি বিশ্বকাপে প্রয়োজন হতে পারে। এটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মানসিকভাবে প্রস্তুত মানে আপনিও প্রস্তুত।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন