বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

‘(ক্যারিয়ারের) প্রথম ইনিংসে ডাক পাওয়ার পর আপনার ভাবনায় এটা আসবেই যে, “আমিও কি টেস্ট অভিষেকে দুই ইনিংসেই ডাক পাওয়া একজন হতে যাচ্ছি, এরপর আর সুযোগ পাব তো?”’—আমাজন প্রাইমের তথ্যচিত্র ‘দ্য টেস্ট’-এ সে সময়ের স্মৃতিচারণা লাবুশেনের।

দুই ইনিংসেই ডাক পাননি লাবুশেনে, দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সে টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩ রান করেছিলেন। আবুধাবিতে পরের টেস্টের দুই ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে এল ২৫ ও ৪৩ রান।

চোখ ফিরিয়ে তিন বছর পর বর্তমানে আসুন, ২৭ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দল ভাবা যায় না! উদ্বোধনী দুই ব্যাটসম্যানের পর তিনে লাবুশেন নামবেন, অস্ট্রেলিয়ানদের বড় নির্ভরতা সেটি।

একটু অদ্ভুতুড়ে চরিত্রের কারণে তাঁকে ভুলে থাকাও সম্ভব নয়। এই তো, চলমান অ্যাডিলেড টেস্টেই বেন স্টোকসের একটা বাউন্সারে দারুণভাবে ‘ডাক’ (মাথা নিচু করে এড়িয়ে যাওয়া) করার পর নিজেই নিজেকে বাহবা দিচ্ছিলেন, ‘ওয়েল প্লেইড, ম্যান’ বলে! স্টাম্পে থাকা মাইক্রোফোনের কারণে সেটি শোনাও গেছে টিভিতে। তাঁর আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ দেবে তাঁর কথা বলার ধরনও। মাঝেমধ্যে নিজেকে নিয়ে ভাববাচ্যেই কথা বলেন লাবুশেন!

আত্মবিশ্বাস থাকবে নাই–বা কেন! অ্যাডিলেডে আজ শতকের পথেই টেস্ট ক্যারিয়ারে দুই হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়ে গেছেন লাবুশেন। ২ হাজারের ঘর পেরোতে লাবুশেনের ৩৪ ইনিংসের চেয়ে কম টেস্ট ইতিহাসে লেগেছে শুধু চার ব্যাটসম্যানের, এর মধ্যে শুধু অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি মাইক হাসিই এ শতকে তা করেছেন। সময়ের সেরাদের সারিতে লাবুশেনের নাম আসাই স্বাভাবিক। প্রশংসাও আসছে চারদিক থেকে।

ফক্স ক্রিকেটে টেস্টের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আজ অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন বলছিলেন, লাবুশেন নিজেকে ব্যাটিং ক্রমের ‘তিনের জন্য নিখুঁত ব্যাটসম্যানে’ পরিণত করেছেন। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান মার্ক ওয়াহর চোখে, ‘ওর দৃশ্যমান কোনো খামতি নেই!’

অথচ প্রথম দুই টেস্টে তাঁর ব্যাটিংয়ে খামতির কারণেই স্মিথ-ওয়ার্নাররা নিষেধাজ্ঞা কাটানোর সময়েও ২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজেদের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম তিন টেস্টে নেওয়া হয়নি লাবুশেনকে। সিডনিতে চতুর্থ টেস্টে সুযোগ পেয়ে দাঁতে দাঁত চাপা ৩৮ রানের ইনিংসে কিছুটা টেস্ট ব্যাটিংয়ের সামর্থ্য দেখিয়েছিলেন বটে। এর কয়েক সপ্তাহ পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুযোগ পেয়ে প্রথমে করলেন ৮১, কিন্তু পরের দুই ইনিংসে এল ৬ আর ৪!

টেস্টে টিকে থাকতে ব্যাটিংয়ের কৌশল নিয়ে যে কাজ করতে হবে, তা বুঝতে পেরেই গ্ল্যামারগন কাউন্টিতে চুক্তি করেন লাবুশেন। সেখানে সুইং সামলানোর বিদ্যা ঝলসে নেওয়া গেল। ২০১৯ অ্যাশেজের অস্ট্রেলিয়া দলে সুযোগ পেলেন। কিন্তু সবকিছুর পরও আরেকবার ফাঁকতালে দলে ঢোকা।

default-image

লর্ডসে জফরা আর্চারের বাউন্সে স্মিথ মাথায় আঘাত (কনকাশন) পেয়ে মাঠ ছাড়লেন। টেস্টের প্রথম কনকাশন বদলি হয়ে মাঠে নামা লাবুশেনের, অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে তৃতীয় দফা সুযোগ পাওয়া! কনকাশন বদলির নিয়মটা তত দিনে আইসিসি প্রতিষ্ঠিত করে না ফেললে সে সুযোগও পাওয়া হতো না লাবুশেনের। তাহলে অস্ট্রেলিয়ারও একটা রত্ন পাওয়া হতো না।

বদলি নেমে সেদিন আর্চারের বল তাঁরও মাথায় লেগেছিল। কিন্তু সেটি সামলে নিয়েই দারুণ দৃঢ়তায় অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন। ২০১৯ সালের ১৪ আগস্ট সেই সুযোগের পর এমনই খেলতে লাগলেন লাবুশেন যে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। টেস্টে তাঁর ছয় শতকের ছয়টিই এসেছে এরপর, ১১ অর্ধশতকের ১০টিও। অবশ্য ঝলসে ওঠা বলতে টেস্টের প্রথম ইনিংসেই যা করার করেছেন লাবুশেন।

২০১৯ সালের আগস্টের পর প্রথম ইনিংসে ব্যাট করেছেন, এমন ১৪ ইনিংসে তাঁর শতক ৬টি, অর্ধশতক ৫টি, গড় ১০২! এ সময়ে তাঁর ইনিংসগুলো দেখুন—৭৪, ৬৭, ৪৮, ১৮৫, ১৬২, ১৪৩, ৬৩, ২১৫, ৪৭, ৪৮, ৯১, ১০৮, ৭৪ ও ১০৩!

আর একই সময়ে দ্বিতীয় ইনিংসে? ১২ ইনিংসে শতক নেই, অর্ধশতক ৫টি, গড় ৩৮.৫৪! তবে তাতে কী, প্রথম ইনিংসেই দলের ব্যাটিংয়ের সুর বেঁধে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন লাবুশেন। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে স্মিথ-ওয়ার্নাররা ফেরার পরও।

লাবুশেনের শতকের পাশাপাশি ওয়ার্নার (৯৫) ও স্মিথের (৯৩) নড়বড়ে নব্বই আর উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির ফিফটির (৫১) সৌজন্যে ৯ উইকেটে ৪৭৩ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। জবাব দিতে নেমে ইংল্যান্ড শুরুতেই পড়েছে বিপদে। এই প্রতিবেদন লেখার সময়ে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হাসিব হামিস ও ররি বার্নসকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের রান ২ উইকেটে ১৭।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন