ওয়ানডেতে দলের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান রস টেলরকে (বাঁয়ে) তৃতীয় ওয়ানডেতে পাচ্ছেন টম ল্যাথাম।
ওয়ানডেতে দলের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান রস টেলরকে (বাঁয়ে) তৃতীয় ওয়ানডেতে পাচ্ছেন টম ল্যাথাম। ফাইল ছবি

চোটের কারণে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম দুটি ওয়ানডেতে ছিলেন না রস টেলর। বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে লড়াইয়ে সবচেয়ে সফল এ ব্যাটসম্যান ফিরছেন তৃতীয় ওয়ানডেতে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে কাল ভোরে ওয়েলিংটনে ২৩৩তম ওয়ানডে খেলতে নামবেন ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক। উইল ইয়াংয়ের জায়গায় খেলবেন টেলর।

২৩২ ওয়ানডেতে ৮৫৭৪ রান টেলরের। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫৯.০০ গড়ে ১০০৩ রান নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই অধিনায়কের। বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে লড়াইয়ে ৭০০ রানও নেই অন্য কোনো ব্যাটসম্যানের।

নিজের সবচেয়ে প্রিয় সংস্করণে ফিরছেন টেলর। তবে আজ ওয়ানডে নিয়ে নয়, সাবেক কিউই অধিনায়ক বেশি কথা বললেন টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়া নিয়েই। টানা দুটি টি-টোয়েন্টি সিরিজের নিউজিল্যান্ড দল থেকে বাদ পড়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে টেলরের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠে গেছে। ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টেলর থাকছেন না, ধরেই নিয়েছেন অনেকেই।

বিজ্ঞাপন
default-image

প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন সংস্করণেই শতাধিক ম্যাচ খেলা টেলর আজ নেট অনুশীলন শেষে জানালেন, টি-টোয়েন্টিতে ফেরার আশা তিনি ছাড়েননি। গত নভেম্বরে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলা টেলর পাখির চোখ করে রেখেছেন বিশ্বকাপকেই, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার আশা আমার এখনো আছে। যদিও পথটা এখনো অনেক দূরের। আর নির্বাচকেরা চেয়েছেন এই ছেলেগুলোকে একটু সুযোগ দিতে, আমি এতে দোষের কিছু দেখি না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথ চলা শুরু করতে এই সংস্করণের খেলার চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে।’

পরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা হবে ভারতে। টেলরকে আশা জোগাচ্ছে এই তথ্য, ‘বিশ্বকাপটা যেখানে হবে, সেই উপমহাদেশে এই দলের অনেকেই কখনো খেলেনি। নিউজিল্যান্ডের চেয়ে কন্ডিশনটা সেখানে পুরো অন্য রকম, এখানে তো বল ঘোরে না। অল্প রানে দুই কিংবা তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর এখানে ও দেশের বাইরে ব্যাটিং করতে নামার মধ্যে অনেক পার্থক্য। এই ছেলেরা অবশ্য দেশের বাইরে খেলার অনেক সুযোগ পাবে, তবে চোট কিংবা ফর্ম বলেও তো কিছু আছে।’

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধারাভাষ্য দেওয়ার নিমন্ত্রণ পাওয়া টেলর গত নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাত্র ৪টি বল খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। টেলর জানালেন, খুব বিস্মিত হয়েছিলেন তিনি, ‘খুব খুব অবাক হয়েছিলাম। (টি-টোয়েন্টির) বর্ষসেরা হলাম, এরপর বল খেলতে পারলাম মাত্র ৪টি। তবে তাঁদের সিদ্ধান্তকে তো সম্মান জানাতেই হবে।’ ওই সিরিজের দুই ম্যাচে পাঁচে ব্যাটিং করেছেন টেলর।

বয়স হয়ে গেছে ৩৭। এ কারণেই কি নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি দলে উপেক্ষিত হচ্ছেন টেলর? ১০২টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলা ব্যাটসম্যান অবশ্য বয়সকে কোনো কারণ মনে করেন না, ‘বয়স শুধুই একটা সংখ্যা। আমার মনে হয়, দরকার পড়লে যেকোনো কাজই আমি করতে সক্ষম। সামনে অনেক ক্রিকেট আছে। আমার মনে হয় না সবাই সব ম্যাচ খেলবে। আমি কিন্তু আশপাশেই থাকব।’

default-image

টি-টোয়েন্টি ফিরতে কি আগামীকাল বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে কোনো পরিবর্তন আনবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সরাসরিই না বলেছেন টেলর, ‘একদমই নয়।

ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে আমার প্রমাণের কিছু নেই। আমি মনে করি, ওয়ানডে সংস্করণে ভালো করেছি এবং সেটি ধারাবাহিকভাবেই। আমি টি-টোয়েন্টি পারি কি না, সেটি দেখানোর সুযোগ এটি নয়। পরিস্থিতি বুঝেই আমি ব্যাট করি। সেটি টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি—যা–ই হোক না কেন।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সর্বশেষ সাত ইনিংসে টেলরের গড় ৯১.২৫। বেসিন রিজার্ভে টেস্টে তো বাংলাদেশের বিপক্ষে টেলরের গড় ১০০। প্রিয় মাঠে আগামীকাল কী করবেন টেলর?

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন