বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মোস্তাফিজের এই রূপ দেখা গিয়েছিল তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুতেও। তাঁর বোলিং–জাদুতেই তখন ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকাকে সিরিজ হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এখন যেমন অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের মুখে মোস্তাফিজকে নিয়ে বিস্ময়, তখন ভারতীয় ক্রিকেটাররাও বলেছিলেন একই রকম কথা।

স্লোয়ার বল আজকাল সব পেসারই করেন। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের মনে মোস্তাফিজের মতো আতঙ্ক ছড়াতে পেরেছেন কজন! স্লোয়ার বল থেকে এত বেশি বাঁক কোনো পেসারকেই পেতে দেখা যায় না। বাংলাদেশ দলের এক ক্রিকেটার সেদিন বলছিলেন, ‘মাঝেমধ্যে ফাইন লেগ থেকেও বলের ঘূর্ণির শব্দ শোনা যায়।’

default-image

কিন্তু কাঁধ ও কবজির অবিশ্বাস্য মোচড়ে মোস্তাফিজের যে বল ব্যাটসম্যানদের ধাঁধায় ফেলে দেয়, তাতে কাঁধে চোট হওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। ২০১৬ সালে সে রকম এক চোটই মোস্তাফিজের স্বপ্নযাত্রার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৬ সালে কাঁধের চোটের জন্য শল্যবিদের ছুরির নিচে যেতে হয় তাঁকে। এরপর অনেক দিনই মোস্তাফিজের সেই বোলিং ছিল অনুপস্থিত। এবারের অস্ট্রেলিয়া সিরিজেই আবার তাঁকে এতটা ভয়ংকর রূপে দেখা যাচ্ছে।

তবে হাত থেকে ওই রকম ডেলিভারি বেশি না বের হলেও মাঝের চার বছরে একেবারে খারাপ বোলিংও করেননি। ২০১৮ সালের এশিয়া কাপ, ২০১৯ বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চেও মোস্তাফিজ ছিলেন দুর্দান্ত। তবু ২০১৫-১৬–এর মোস্তাফিজকে যেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না কিছুতেই। এমনও ধারণা করা হয়েছিল, অস্ত্রোপচারের পর মোস্তাফিজ তাঁর বোলিংয়ের বিশেষত্ব হারিয়ে ফেলেছেন। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে মোস্তাফিজ যেন সে হারানো ধারাই ফিরে পেলেন বোলিংয়ে।

কন্ডিশন হয়তো তাঁকে সাহায্য করেছে, তবে এমন কন্ডিশন তো এর আগেও পেয়েছেন মোস্তাফিজ। আসলে নিজের দক্ষতার সঙ্গে এবার অভিজ্ঞতাটাও ঠিকঠাক কাজে লাগাচ্ছেন বলেই এই সাফল্য। মিরপুরের কন্ডিশনের দাবি স্লোয়ার বল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আজ শেষ হতে যাওয়া পাঁচ ম্যাচ টি–টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে তাই চার ওভারের ২৪ বলের ২৪টি বলই স্লোয়ার করেছেন মোস্তাফিজ। একজন পেসারের জন্য এটা অবিশ্বাস্যই। অথচ মোস্তাফিজের অস্ত্রাগারে ইনসুইং বলও ছিল। কিন্তু সেই অস্ত্র এই সিরিজের একবারের জন্যও ব্যবহার করতে দেখা যায়নি তাঁকে।

গত মে মাসে হয়ে যাওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোস্তাফিজের দলের কোচ ছিলেন সরওয়ার ইমরান। এই মোস্তাফিজকে তিনি তখন কাছ থেকেই দেখেছেন, ‘প্রিমিয়ার লিগে যখন দরকার হয়েছে, তখনই আমরা ওর ইনসুইংটা ব্যবহার করেছি। সে এই বল করতে পারে। কিন্তু এখন অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দরকার হচ্ছে না। ওর স্লোয়ার বলই তো ওরা খেলতে পারছে না। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা তাঁকে মারারই চেষ্টা করছে না।’ বিকেএসপির ক্রিকেট পরামর্শক নাজমুল আবেদীনও এই সিরিজে পরিণত এক মোস্তাফিজকেই দেখতে পাচ্ছেন, ‘আগে সে অনেক ধরনের বলই করার চেষ্টা করত। কিন্তু এখন ও জানে কখন, কোথায় কোন বলটা করতে হবে। মোস্তাফিজকে দেখে মনে হচ্ছে, সে রান না দেওয়াটাও খুব উপভোগ করছে। আর রান থামিয়ে রাখলে উইকেট আসবেই।’

মোস্তাফিজের বোলিং প্রতিভা প্রকৃতিপ্রদত্ত। কিন্তু এর ব্যবহারটা বোধ হয় অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি করতে পারছেন তিনি। স্থগিত হয়ে যাওয়া আইপিএল থেকে ফেরার পর প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেছিলেন, ‘এটা আসে অভিজ্ঞতা থেকে। যত খেলবেন, ততই আপনার মাথা খুলবে।’

কথাটা অস্ট্রেলিয়া সিরিজেই সত্যি করে দেখালেন মোস্তাফিজ।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন