বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

কোনো ম্যাচে ব্যাটিং ভালো হচ্ছে, কোনো ম্যাচে ভালো হচ্ছে বোলিং। কিন্তু এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফিল্ডিংটা ভালো হচ্ছে না কোনো ম্যাচেই। বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকে এই পর্যন্ত ৬ ম্যাচে মোট ১২টি ক্যাচ মিস করেছেন মেহেদি-লিটনরা।

শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ, এই দুই ম্যাচেই জেতার খুব কাছে গিয়ে শুধু ফিল্ডিং–ব্যর্থতার কারণে হাতছাড়া হয়েছে। বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ের এই দৈন্য দশা কয়েক দিন ধরে নয়, প্রায় দুই বছর ধরে চলে আসছে। এই দুই বছরে অনেক ম্যাচ জেতার দ্বারপ্রান্তে এসে হেরে গেছে বাংলাদেশ, ফিল্ডিংয়ের কিছু ভুলের কারণেই। গতকাল ইউটিউবের এক লাইভে এসে এগুলো নিয়ে কথা বলেন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

তামিমের কাছে ক্যাচ মিস যদিও খেলারই অংশ; তাই বলে এভাবে নিয়মিত ক্যাচ মিস করে দল ম্যাচ হেরে যাচ্ছে, এই সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে দলের হারে ক্যাচ মিসের প্রভাব মেনে নিলেন তামিম, ‘ক্যাচ মিস খেলার অংশ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এর জন্য যদি আমরা নিয়মিত ম্যাচ হারা শুরু করি, তাহলে সেটা ঠিক না। গত দুই বছরে ফিল্ডিংয়ের জন্য আমরা সব সংস্করণ মিলিয়ে অনেক ম্যাচ হেরেছি। আমরা ফিল্ডিংয়ে অনেক ভালো একটা দল হতে পারি, সে যোগ্যতা আমাদের আছে। কিন্তু এখন আমরা পারছি না, ফলে ম্যাচ হারছি।’

তবে দলের অনুশীলনে কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করেন তামিম, ‘অনুশীলনে কিন্তু সবাই অনেক পরিশ্রম করে। ফিল্ডিং, ক্যাচিং—সবকিছু নিয়েই কাজ করা হয়। কিন্তু ম্যাচে কোনো কারণে সেটা কাজে আসছে না। ম্যাচে দলের সেরা ফিল্ডাররা যদি ক্যাচ মিস করে, তাহলে তো কিছু বলার থাকে না।’

default-image

তামিম মনে করেন, সবাই মিলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব, ‘ব্যাপারটাকে ব্যাটসম্যানদের অফ ফর্মের মতো দেখতে হবে। আমাদের সবাই মিলে বসে আলোচনা করে খুঁজে বের করতে হবে যে আমাদের কোথায় ভুল হচ্ছে। তাহলে আমরা অবশ্যই অনেক ভালো একটা ফিল্ডিং করা দল হতে পারব।’

একই প্রসঙ্গে মাশরাফিকে প্রশ্ন করা হলে শুরুতেই তিনি দলের ফিল্ডিং কোচের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘দেখুন, ২০১৯ বিশ্বকাপে আমি ভালো পারফর্ম করতে পারিনি। ফলে, আমাকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আমি বিষয়টাকে খুব পেশাদারির সঙ্গেই নিয়েছি। নিজেকে প্রমাণ না করতে পারলে আপনাকে সরিয়ে দেওয়া হবে, এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুই বছর ধরে ফিল্ডিং এমন হওয়া সত্ত্বেও ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক দলের সঙ্গে আছে এবং এর প্রমাণ আমরা আজকেও পেয়েছি।’

একপর্যায়ে তামিম মাশরাফির কাছে ফিল্ডিংয়ে উন্নতি করার টোটকা জানতে চাইলে চমক–জাগানিয়া উত্তর দেন ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল পেসার, ‘দেখ, আমাদের সবাইকে আরেকটু সাহসী হতে হবে। ফিল্ডিংটা হচ্ছে অনেক সাহসী একটা ব্যাপার। আর সত্যি বলতে, আমার কাছে মনে হয় বর্তমান প্রেক্ষাপটে, যেকোনো টুর্নামেন্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব খেলোয়াড়ের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা উচিত। আমি এটা আমার সময়ে করতে পারিনি, তাই হয়তো বলা ঠিক না। কিন্তু বিসিবি থেকে কঠোর নিয়ম করা উচিত এ বিষয়ে। কারণ, যে চাপগুলো আসে, এগুলো সম্পূর্ণভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আসে। আজকাল খুব বাজেভাবে ক্রিকেটারদের আক্রমণ করা হয়। যদি ক্রিকেটাররা সেটা সহ্য করতে পারত, তখন ভিন্ন হিসাব হতো। কিন্তু এখন তো ক্রিকেটাররা এগুলো নিতে পারছে না। ফলে, এটা করা উচিত।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন