খেলা চলছিল শেষ কয়েক ওভারের। শ্রীলঙ্কার হার তখন ছিল সময়ের ব্যাপার। টেলিভিশন ক্যামেরা বারবার খুঁজে নিচ্ছিল ড্রেসিংরুমে বসে থাকা কুমার সাঙ্গাকারার বিষণ্ন মুখ। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপের শুরুতেই নিউজিল্যান্ডের সামনে এমন উড়ে যেতে হবে, কে ভেবেছিল!
সময়ের ব্যবধানে মেলবোর্নের অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচের চেয়ে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা আগে শুরু হয় নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ। এক অর্থে ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে হওয়া কালকের এই ম্যাচটাই তাই এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ। তা ম্যাচটা এক দিক দিয়ে সাঙ্গাকারার জন্য স্মৃতির মণিকোঠায় বাঁধিয়ে রাখার মতোই। রিকি পন্টিংকে ছাপিয়ে এই ম্যাচেই যে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়ে গেলেন! সাঙ্গাকারার সামনে আছেন এখন শুধুই শচীন টেন্ডুলকার।
কিন্তু সেটা ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান করাদের তালিকায়। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তাঁর চেয়ে অনেক অ-নে-ক এগিয়ে থাকলেন নিউজিল্যান্ডের কোরি অ্যান্ডারসন আর ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। গাপটিল-ম্যাককালামের ১১১ রানের ওপেনিং জুটিই অনেকখানি এগিয়ে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে। তার ওপর ম্যাককালাম আর অ্যান্ডারসনের দুই ঝোড়ো ফিফটি! তাতেই গত দুবারের রানার্সআপ শ্রীলঙ্কার ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায় কিউইরা। ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৩১ করে ৯৮ রানের জয়।
নিউজিল্যান্ড ইনিংসের প্রথম ১০ ওভারে যে ৭৭ রান এল তাতে বড় ভূমিকা ম্যাককালামের ৩৫ বলে ফিফটির। শেষ ১০ ওভারে আসে ১০২, যাতে বড় অবদান অ্যান্ডারসনের (৪৬ বলে ৭৫)। ফিফটি ৩৬ বলে। কুলাসেকারার বলে কাভারে লাকমলের ক্যাচ হয়েছেন ইনিংসের শেষ বলে, তার আগে অ্যান্ডারসন ষষ্ঠ উইকেটে ৭৩ রানের জুটি গড়েছেন লুক রনকির (২৯*) সঙ্গে।
স্বাগতিক দল, সঙ্গে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স মিলিয়ে ম্যাচের আগে এগিয়ে ছিল নিউজিল্যান্ড। তবে ২ টেস্ট ও ৭ ওয়ানডের সিরিজের জন্য প্রায় দুই মাস ধরে নিউজিল্যান্ডে থাকার অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপটাকে কিছুটা হলেও সহজ করে দেওয়ার কথা শ্রীলঙ্কার জন্য। কিন্তু প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স সে কথা বলল না। হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চার-চারটি ক্যাচ ফেলা একটা কারণ। অথবা পাঁচ মাস পর খেলায় ফিরে নতুন বল হাতে লাসিথ মালিঙ্গার জ্বলে উঠতে না-পারা। সেপ্টেম্বরে অ্যাঙ্কেলে অস্ত্রোপচারের পর কালই প্রথম খেললেন মালিঙ্গা।
আর ব্যাট হাতে তো ম্যাককালাম-অ্যান্ডারসনদের যোগ্য জবাব দিতে পারেননি কেউই। একমাত্র ফিফটি ওপেনার লাহিরু থিরুমান্নের (৬৫)। মাহেলা জয়াবর্ধনে ফিরে গেলেন শূন্যতে। সাঙ্গাকারার পন্টিংকে পেরোনো ইনিংসটাও থেমে গেছে ৩৯-এ। দলের ১২৯ রানে বোল্টের বলে এলবিডব্লু হয়ে সাঙ্গাকারার বিদায়। এরপর ৩৪ রানের পঞ্চম উইকেট জুটিতে করুনারত্নে-ম্যাথুসের সামান্য লড়াই থেমে যাওয়ার মধ্য দিয়ে যেন থেমে গেল শ্রীলঙ্কার ইনিংসটাই! শেষ ৬ উইকেট পড়েছে মাত্র ৫১ রানে।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন